Homeপূর্ব বর্ধমানবর্ধমানবর্ধমানের বিখ্যাত সীতাভোগ-মিহিদানার দোকানে খাদ্য দপ্তরের অভিযান, উদ্ধার মেয়াদোত্তীর্ণ পনির; নমুনা গেল ল্যাবে

বর্ধমানের বিখ্যাত সীতাভোগ-মিহিদানার দোকানে খাদ্য দপ্তরের অভিযান, উদ্ধার মেয়াদোত্তীর্ণ পনির; নমুনা গেল ল্যাবে

নিউজ ডেস্ক; বর্ধমান বললেই বাঙালির রসনাতৃপ্তির তালিকায় সবার আগে যে দু’টি নাম উঠে আসে, সেগুলি হল সীতাভোগ এবং মিহিদানা। এই
resizeplus_Screenshot 2026-09-02 182833_edited

নিউজ ডেস্ক; বর্ধমান বললেই বাঙালির রসনাতৃপ্তির তালিকায় সবার আগে যে দু’টি নাম উঠে আসে, সেগুলি হল সীতাভোগ এবং মিহিদানা। এই দুই মিষ্টির জন্য শহরের একাধিক পুরনো ও নামী দোকানের খ্যাতি রয়েছে বহুদিনের। সেই বর্ধমানেই এ বার মিষ্টির দোকানে খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠল। বুধবার শহরের পুরসভার সামনের একটি প্রসিদ্ধ মিষ্টির দোকানে হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ পনির দেখতে পান খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকেরা। শুধু ওই দোকানই নয়, পরে বিবি ঘোষ রোডের আরও একটি নামী মিষ্টির দোকানেও অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেও উদ্ধার হয়েছে মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া পনির। পাশাপাশি মিষ্টিতে ব্যবহৃত রং, মশলা, ঘি-সহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

জানা গিয়েছে, বুধবার বর্ধমান পুরসভার সামনে অবস্থিত সীতাভোগ-মিহিদানার জন্য পরিচিত একটি মিষ্টির দোকান থেকেই অভিযান শুরু করে খাদ্য দপ্তর। অভিযানে খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান পুরসভার কর্মী-আধিকারিকেরা। নিরাপত্তার জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল বর্ধমান থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও। দোকানের রান্নাঘর, খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণের জায়গা এবং বিক্রির জন্য রাখা বিভিন্ন পণ্যের মান খতিয়ে দেখেন আধিকারিকেরা।

অভিযানের সময় দোকানে রাখা পনির দেখে কার্যত চমকে ওঠেন খাদ্য দপ্তরের কর্মীরা। অভিযোগ, সেখানে এমন পনির পাওয়া যায় যার মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত এই ধরনের দুগ্ধজাত সামগ্রী কত দিন ধরে দোকানে রাখা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মেয়াদোত্তীর্ণ পনির কী ভাবে খাদ্য প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হচ্ছিল বা বিক্রির জন্য মজুত ছিল, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

এর পর খাদ্য দপ্তরের দল চলে যায় বিবি ঘোষ রোডের আরও একটি নামী মিষ্টির দোকানে। সেখানেও বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর গুণমান পরীক্ষা করা হয়। মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত রং, মশলা, ঘি এবং তৈরি মিষ্টির নমুনা সংগ্রহ করেন আধিকারিকেরা। পাশাপাশি ওই দোকান থেকেও বেশ কিছু পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ পনির উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। খাবার তৈরির ক্ষেত্রে পনিরের মতো দ্রুত নষ্ট হতে পারে এমন উপকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই ধরনের সামগ্রী কতটা নিরাপদ অবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযানের সময় একটি দোকান থেকে ঘির নমুনাও সংগ্রহ করা হয়। ওই নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগারে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ঘির গুণমান নিয়ে কোনও ধরনের গরমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে খাদ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শুধু ঘি নয়, অন্যান্য সংগ্রহ করা নমুনার পরীক্ষার ফলও প্রশাসনের নজরে থাকবে।

খাদ্য দপ্তরের এই অভিযানকে ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বর্ধমান শহরের মিষ্টি ব্যবসায়ী মহলে। কারণ, শহরের একাধিক মিষ্টির দোকান শুধু স্থানীয় মানুষের কাছে নয়, জেলার বাইরের ক্রেতাদের কাছেও জনপ্রিয়। বিশেষ করে সীতাভোগ ও মিহিদানার টানে বহু মানুষ বর্ধমানে আসেন। ফলে নামী দোকানগুলিতে ব্যবহৃত উপকরণের মান নিয়ে কোনও অভিযোগ উঠলে তার প্রভাব ব্যবসার পাশাপাশি শহরের সামগ্রিক ভাবমূর্তিতেও পড়তে পারে।

তবে খাদ্য দপ্তরের বক্তব্যের মূল বিষয় হল, কোনও দোকানের নাম বা খ্যাতি নয়, খাদ্যসামগ্রীর নিরাপত্তাই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত প্রতিটি উপকরণ নির্দিষ্ট মান বজায় রেখে সংরক্ষণ এবং ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিই দেখা হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ বা সন্দেহজনক খাদ্যসামগ্রী ব্যবহার করা হলে তা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই নিয়মিত নজরদারি চালানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেই মনে করছেন প্রশাসনের কর্তারা।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ‘খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহ’। এই কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন শহর ও এলাকার নামী-দামী রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান, খাবারের প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য খাদ্য ব্যবসায়ীদের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। খাদ্য দপ্তরের কর্মীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে খাবারের গুণমান, খাদ্যসামগ্রীর মেয়াদ, সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং রান্নাঘরের পরিবেশ খতিয়ে দেখছেন। কোথাও ভেজাল বা মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে সতর্ক করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই মঙ্গলবার বর্ধমানের শক্তিগড়ে অভিযান চালানো হয়েছিল। ল্যাংচা তৈরির জন্য বিখ্যাত শক্তিগড়ের একাধিক দোকানে গিয়ে খাদ্যসামগ্রীর মান পরীক্ষা করেন আধিকারিকেরা। তার পরের দিন বুধবার বর্ধমান শহরের নামী মিষ্টির দোকানগুলিতে অভিযান চালানোয় নজরদারির পরিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তা সপ্তাহ চলাকালীন আগামী দিনেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় এমন অভিযান চলতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। বিশেষ করে যেসব দোকানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ খাবার ও মিষ্টি তৈরি হয়, সেখানে কাঁচামালের গুণমান, মেয়াদ এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থার উপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

বর্ধমানের মতো মিষ্টির জন্য পরিচিত শহরে এই ধরনের অভিযান তাই শুধু কোনও একটি দোকানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হাজার হাজার ক্রেতার আস্থা এবং খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্ন। সীতাভোগ-মিহিদানার মতো ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির শহরে ক্রেতারা যাতে নিশ্চিন্তে খাবার কিনতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনের এই নজরদারি বলে মনে করা হচ্ছে।

এখন নজর পরীক্ষাগারের রিপোর্টের দিকে। সংগ্রহ করা ঘি, মিষ্টির রং, মশলা এবং অন্যান্য খাদ্যসামগ্রীর নমুনায় কী ফল আসে, তার উপরই পরবর্তী পদক্ষেপ অনেকটাই নির্ভর করবে। কোনও নমুনায় নির্ধারিত মানের বাইরে গরমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ফলে খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহের অভিযানে বর্ধমানের এই মিষ্টির দোকানগুলির পরবর্তী পরিস্থিতির দিকেই নজর থাকবে ক্রেতা থেকে ব্যবসায়ী—সবার।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved