Homeজেলাবন্দে ভারত থেকে উদ্ধার ৪২ কেজির বেশি গাঁজা, তদন্তে আরপিএফ-জিআরপি

বন্দে ভারত থেকে উদ্ধার ৪২ কেজির বেশি গাঁজা, তদন্তে আরপিএফ-জিআরপি

resizeplus_eisamay_2026-09-24_tx2v6mhp_Vande-Bharat

নিউজ ডেস্ক: বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের কামরা পরিষ্কার করতে গিয়ে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ গাঁজা। পুরী-হাওড়া বন্দে ভারত এক্সপ্রেস থেকে চারটি পরিত্যক্ত ব্যাগের মধ্যে মিলল ৪২ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা। বৃহস্পতিবার সকালে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছনোর পর ট্রেনটিকে সাঁতরাগাছি ওয়াশিং লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই সাফাইকর্মীদের নজরে আসে সন্দেহজনক চারটি ব্যাগ। এরপর খবর দেওয়া হয় শালিমার জিআরপিকে।

সাফাইকর্মীদের কাছ থেকে খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন তদন্তকারী আধিকারিকরা। চারটি ব্যাগ খুলতেই বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের ওজন প্রায় ৪২ কেজি ৭০০ গ্রাম। পরে আইন মেনে ওই গাঁজা বাজেয়াপ্ত করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী উদ্ধার হওয়া সামগ্রী বর্তমানে কোর্টের মালখানায় রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এত বিপুল পরিমাণ গাঁজা কীভাবে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে এল? কারা এই মাদক নিয়ে ট্রেনে উঠেছিল? কোথা থেকেই বা এই মাদক আনা হয়েছিল? আর শেষ পর্যন্ত কেন চারটি ব্যাগ ট্রেনের ভিতরেই ফেলে রেখে যাওয়া হল? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত শুরু করেছে আরপিএফ এবং জিআরপি।

প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, যাত্রাপথে কোনও এক সময় মাদকভর্তি ব্যাগগুলি ট্রেনে তোলা হয়েছিল। কিন্তু কে বা কারা সেগুলি নিয়ে এসেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ব্যাগগুলির মালিকানা সম্পর্কেও এখনও কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ট্রেনের যাত্রীদের গতিবিধি, যাত্রাপথের বিভিন্ন স্টেশনে ওঠানামা এবং সংশ্লিষ্ট রুটের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে।

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, উদ্ধার হওয়া মাদক কোনও বড় পাচারচক্রের অংশ কি না। বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মতো দূরপাল্লার ট্রেনকে ব্যবহার করে মাদক পাচারের চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এখানে আরপিএফ ও জিআরপির ভূমিকা নিয়েও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, মাদক সংক্রান্ত অভিযানে আরপিএফ তল্লাশি, বাজেয়াপ্ত এবং গ্রেফতারের মতো পদক্ষেপ করতে পারে। তবে NDPS আইনে মামলা নথিভুক্ত ও তদন্ত করার ক্ষমতা জিআরপি বা অন্যান্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত তদন্তকারী সংস্থার হাতে থাকে। আরপিএফের হাতে ধৃত ব্যক্তি বা উদ্ধার হওয়া মাদক পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য জিআরপি বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রেলপথে মাদক পাচার ঠেকাতে ইতিমধ্যেই সিসিটিভি নজরদারি, ব্যাগেজ স্ক্যানার, বিশেষ অভিযান এবং প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ ব্যবহার করা হয় বলে রেল মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫—এই তিন বছরে আরপিএফ মোট ৪,৩২৮টি NDPS-সংক্রান্ত ঘটনা শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থার হাতে তুলে দিয়েছে।

পুরী-হাওড়া বন্দে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য—এই মাদকের উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা। ট্রেনের কোন অংশে ব্যাগগুলি রাখা হয়েছিল, যাত্রাপথে কারা সেই কামরায় ছিলেন এবং কোথা থেকে মাদকটি ট্রেনে উঠেছিল—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved