Last updated: September 25th, 2026 at 01:26 pm

নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজো যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে বাঙালির অন্যতম প্রিয় খাবার নিয়ে উৎকণ্ঠা। পুজোর মরসুমে ওপার বাংলা থেকে ‘উপহার’ হিসেবে পদ্মার ইলিশ আসার যে অপেক্ষা থাকে, এ বছর সেই অপেক্ষার অবসান এখনও হয়নি। বরং বাংলাদেশ সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে পদ্মার ইলিশ ভারতে আসা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতে ইলিশ রফতানির অনুমতি দেয়নি বাংলাদেশ সরকার। ফলে পুজোর আগে কলকাতার বাজারে পদ্মার রুপোলি শস্য আদৌ পৌঁছবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে বাংলাদেশের ইলিশ-বাণিজ্য সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে। বাংলাদেশের মৎস্য দফতর ভারত-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে ইলিশ আমদানির জন্য দেওয়া ১০৩টি ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা NOC বাতিল করেছে। গত কয়েক মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ থেকে ৫৮০ টন ইলিশ গিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই আমদানির বড় অংশই ছিল গুজরাট থেকে।
অর্থাৎ এতদিন যে চিত্রে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ ভারতে আসত, এ বছর সেখানে দেখা গিয়েছে একেবারে উল্টো ছবি। ভারতের গুজরাট থেকে ইলিশ বাংলাদেশে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় মৎস্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ রফতানি হয়েছে। আরও ১৫০-২০০ টন যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও তখন জানানো হয়েছিল।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই কলকাতার মাছ ব্যবসায়ীদের নজর ছিল বাংলাদেশের দিকে। প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে সীমিত পরিমাণে পদ্মার ইলিশ ভারতে পাঠানোর অনুমতি দেয় ঢাকা। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ১২০০ টন ইলিশ ভারতে রফতানির অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু অনুমতির সময়সীমা কম থাকায় শেষ পর্যন্ত তার সামান্য অংশই ভারতে পৌঁছেছিল।
২০২৪ সালে অনুমোদিত পরিমাণ ছিল প্রায় ২৪২০ টন। ২০২৩ সালে আরও বেশি পরিমাণ ইলিশ রফতানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনুমোদিত পরিমাণ আর বাস্তবে ভারতে পৌঁছনো মাছের পরিমাণের মধ্যে প্রতি বছরই বড় পার্থক্য দেখা গিয়েছে। ফলে এ বছরও অনুমতি এলেও সময়ের মধ্যে কতটা ইলিশ পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছবে, তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগেই উদ্বেগ ছিল।
এ বছর সেপ্টেম্বরের শুরুতেই বাংলাদেশের ১৮টি সংস্থা ভারতে ইলিশ রফতানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল। ভারতীয় মাছ আমদানিকারকরাও বাংলাদেশের কাছে পুজোর আগে ইলিশ পাঠানোর আবেদন জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রক বিষয়টি নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রকের মতামত চেয়েছিল। কিন্তু এখনও সেই প্রক্রিয়া থেকে ভারতে ইলিশ পাঠানোর চূড়ান্ত অনুমতি মেলেনি।
এদিকে বাংলাদেশের বাজারেও ইলিশের জোগান নিয়ে চাপ রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেশটির ইলিশ উৎপাদন কমে যাওয়ার কথা উঠে এসেছে। ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো এবং রফতানির মধ্যে ভারসাম্য রাখা সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে দুর্গাপুজোর আগে ভারতে ইলিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে ব্যবসায়ী মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে এ বছর বাঙালির পাতে কোনও ইলিশই থাকবে না। পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব নদী ও সমুদ্র থেকে ধরা ইলিশ বাজারে থাকবে। পাশাপাশি দেশের অন্য প্রান্তের ইলিশও পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের স্বাদ ও গুণমানের জন্য যে আলাদা চাহিদা তৈরি হয়, সেই নির্দিষ্ট মাছের জোগান নিয়েই এবারের অনিশ্চয়তা।
সব মিলিয়ে পুজোর বাজারে পদ্মার ইলিশ নিয়ে এখন অপেক্ষা বাংলাদেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের। অনুমতি মিললে দ্রুত সীমান্ত পেরিয়ে মাছ আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে। আর অনুমতি না এলে এ বছর পুজোর বাজারে পদ্মার ইলিশের দেখা মেলা কঠিন হতে পারে। ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিস্থিতি অবশ্য অনিশ্চিতই রয়েছে—তাই ‘পদ্মার ইলিশ আসছেই না’ বলার মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments