Homeদক্ষিণ দিনাজপুরহিলিপাঁচ দিন বন্ধের পর শনিবার খুলছে হিলি স্থলবন্দর, প্রশাসনিক বৈঠকে মিলল বাণিজ্য শুরুর আশ্বাস

পাঁচ দিন বন্ধের পর শনিবার খুলছে হিলি স্থলবন্দর, প্রশাসনিক বৈঠকে মিলল বাণিজ্য শুরুর আশ্বাস

নিউজ ডেস্ক; টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর ফের স্বাভাবিক হওয়ার পথে হিলি স্থলবন্দরের আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের
resizeplus_Screenshot 2026-09-04 130435_edited

নিউজ ডেস্ক; টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর ফের স্বাভাবিক হওয়ার পথে হিলি স্থলবন্দরের আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পরই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনিক ভবনে হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন জেলাশাসক বালা সুব্রহ্মণ্যম টি। বৈঠকে ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলি শোনার পাশাপাশি দ্রুত বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু করার বিষয়ে আলোচনা হয়। সব কিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার জন্মাষ্টমীর ছুটির পর শনিবার থেকেই হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি–রপ্তানি ফের শুরু হবে বলে প্রশাসন ও ব্যবসায়ী মহলের তরফে জানানো হয়েছে।

গত ৩০ অগস্ট থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্যবাহী লরির যাতায়াত এবং আমদানি–রপ্তানি কার্যত বন্ধ রয়েছে। স্লট বুকিং করে সীমান্তে যাওয়া লরিগুলিতে অতিরিক্ত পণ্য বা ওভারলোডিং নিয়ে পুলিশের আপত্তির জেরেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। তাঁদের অভিযোগ, অন্য একাধিক স্থলবন্দরে স্লট বুকিং করা লরিতে নির্দিষ্ট সীমার অতিরিক্ত পণ্য পরিবহণের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু হিলিতে একই ধরনের পণ্য নিয়ে আসা লরিগুলিকে আটকে দেওয়া হচ্ছিল। ফলে পণ্য পরিবহণের খরচ বেড়ে যাচ্ছিল এবং ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছিল।

এই সমস্যার প্রতিবাদেই ব্যবসায়ীরা আমদানি–রপ্তানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের বক্তব্য, একদিকে সীমান্তে পণ্যবাহী গাড়ি আটকে থাকছে, অন্য দিকে পণ্য নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে না পারায় ব্যবসায়ীদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে পচনশীল পণ্য দীর্ঘ সময় লরিতে আটকে থাকলে তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে শুধু ব্যবসায়ীদের নয়, পরিবহণ সংস্থার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শ্রমিক এবং ছোট ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

বুধবার জেলা সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি জানতে পারেন। এরপরই হিলি দিয়ে আমদানি–রপ্তানি স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। সেই নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনিক ভবনে ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন জেলাশাসক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিকাশ মণ্ডল, সহ সভাপতি রাজেশ আগরওয়াল-সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যেরা।

বৈঠক শেষে হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিকাশ মণ্ডল জানান, জেলাশাসকের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলি গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য স্থলবন্দরে ব্যবসায়ীরা যে সুযোগ-সুবিধা পান, হিলিতেও যেন একই ধরনের ব্যবস্থা চালু করা হয়, সেই দাবিও জানানো হয়েছে।

বিকাশ মণ্ডলের কথায়, স্লট বুকিং করে যাওয়া লরিতে ওভারলোডিং পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত মেটানো প্রয়োজন। কারণ হিলি স্থলবন্দরের সঙ্গে বহু ব্যবসায়ী, পরিবহণকর্মী এবং সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে। বাণিজ্য বন্ধ থাকলে তার প্রভাব সরাসরি পড়ে স্থানীয় অর্থনীতিতে। বৈঠকের পর তিনি আশা প্রকাশ করেন, শনিবার থেকে ফের পণ্য পরিবহণ শুরু করা সম্ভব হবে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, পাঁচ দিন আমদানি–রপ্তানি বন্ধ থাকায় সরকারের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। যদিও এই ক্ষতির হিসাব সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবে দীর্ঘ সময় বাণিজ্য বন্ধ থাকায় রাজস্ব আদায়, পরিবহণ এবং সীমান্তকেন্দ্রিক ব্যবসায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে হিলি পার্কিং এলাকা থেকে শুরু করে সংলগ্ন রাস্তায় প্রায় ৩০০টি পণ্যবাহী লরি আটকে রয়েছে বলে ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবি। ওই লরিগুলির অনেকগুলিতে পণ্য বোঝাই রয়েছে। দীর্ঘ সময় গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে খাদ্যসামগ্রী বা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এমন পণ্য থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ফলে দ্রুত বাণিজ্য চালু না হলে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবহণ ব্যবস্থাতেও বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

বালুরঘাটের বিধায়ক বিদ্যুৎকুমার রায় জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তাঁর আশা, দ্রুতই সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় স্বাভাবিক হয়ে যাবে। প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ী সংগঠনের আলোচনার মাধ্যমে জটিলতা মিটবে বলেও তিনি আশাবাদী।

জেলাশাসক বালা সুব্রহ্মণ্যম টি বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে তাঁদের সমস্যাগুলি গুরুত্ব সহকারে শোনা হয়েছে। দ্রুত সমস্যা মেটানোর বিষয়ে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। তাঁর বক্তব্য, সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে, যাতে হিলি স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করা যায়।

তবে শনিবার থেকে আমদানি–রপ্তানি শুরু হলেও ওভারলোডিং সংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান কী ভাবে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু সাময়িক ভাবে বাণিজ্য চালু করলেই হবে না, অন্যান্য স্থলবন্দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হিলিতেও নিয়ম ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে একই সমস্যা ফের দেখা দিতে পারে।

হিলি স্থলবন্দর উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্র। এই বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বহু ব্যবসায়ী, লরি মালিক, চালক, খালাসি, শ্রমিক এবং স্থানীয় পরিষেবা প্রদানকারী। তাই দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে তার প্রভাব সীমান্ত এলাকার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের উপর পড়ে। প্রশাসনের বৈঠকের পর আপাতত বাণিজ্য শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হলেও, ব্যবসায়ীরা চাইছেন সমস্যার স্থায়ী ও স্বচ্ছ সমাধান। শনিবার বাস্তবে কতটা স্বাভাবিক ভাবে পণ্যবাহী লরি চলাচল শুরু হয়, এখন সেদিকেই নজর সকলের।

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved