Last updated: August 29th, 2026 at 11:10 am

নিউজ ডেস্ক: ইতিবাচক থেকে নেতিবাচক, নায়ক থেকে খলনায়ক— রূপোলি পর্দার উভয় জগতে যাঁর অভিনয় সমান সাবলীল ও অনবদ্য, তিনি টলিউডের অন্যতম শক্তিমান অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী (Ritwick Chakraborty)। পর্দায় যাঁর জীবন্ত অভিনয় দেখে কখনও সাধারণ দর্শকের চোখে জল এসেছে, আবার কখনও পরমুহূর্তেই তীব্র রাগে-বিরক্তিতে জ্বলে উঠেছেন প্রেক্ষাগৃহের মানুষ। খুব শীঘ্রই বড় পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের (Srijit Mukherji) বহু প্রতীক্ষিত নতুন সিনেমা ‘উইঙ্কেল টুইঙ্কেল’। বিশিষ্ট নাট্যকার ও রাজনীতিবিদ ব্রাত্য বসুর কালজয়ী নাটক অবলম্বনে তৈরি এই চলচ্চিত্রে ‘সব্যসাচী’ নামক এক অত্যন্ত জটিল ও রাজনৈতিক চরিত্রে অভিনয় করছেন ঋত্বিক। ছবি মুক্তির প্রাক্কালে অভিনয়, চরিত্র নির্বাচন, ব্যক্তিগত ইমেজ এবং টলিউডের বর্তমান রাজনীতি নিয়ে নিজের মনখোলা মতামত ব্যক্ত করলেন এই অভিজ্ঞ অভিনেতা।
যেকোনো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সিনেমা বা নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয়ের ক্ষেত্রে চিত্রনাট্যের কোন বিষয়টি তাঁকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে? এই প্রশ্নের উত্তরে ঋত্বিক জানান, কেবল রাজনীতি কেন্দ্রিক বিষয় বলেই তিনি কোনো ছবিতে হাত দেন না। অভিনেতার মতে, “কোনো চরিত্রের যদি একটা রাজনৈতিক মতামত থাকে, তাহলে অভিনয় জগতে তা একটা বাড়তি মাত্রা যোগ করে। এতে অভিনয়ের ক্যানভাস বা সুযোগ অনেকখানি বেড়ে যায়। তবে ছবিতে রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে বলেই যে আমি আলাদা করে আকৃষ্ট হব, বিষয়টা তেমন নয়। সামগ্রিকভাবে যদি চিত্রনাট্য এবং চরিত্র আমার মন ছুঁয়ে যায়, তবেই আমি কাজ করতে রাজি হই।”
পর্দায় একের পর এক ভিন্ন রাজনৈতিক বা নেতিবাচক ভাবধারার চরিত্রে অভিনয় করলে দর্শকদের মনে অভিনেতার নিজস্ব ভাবমূর্তি নিয়ে কোনো ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হতে পারে কি? এই বিষয়ে বেশ স্পষ্ট ও সোজা সাপ্টা বার্তা দিয়েছেন ঋত্বিক চক্রবর্তী। তাঁর সাফ কথা, “আমার আসল কাজ হলো একটা চরিত্রকে পর্দায় শতভাগ বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা। আমি পর্দায় যে চরিত্রে অভিনয় করছি, ব্যক্তিগত জীবনে তো আর আমি সেই মানুষটা হয়ে যাচ্ছি না! যেমন সৃজিতের ঠিক আগের সিনেমাটিতে আমি একজন অত্যন্ত গোঁড়া হিন্দুত্ববাদী মানুষের ভূমিকায় ছিলাম, আবার এই নতুন ছবিতে ঠিক তার সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী রাজনৈতিক মতাদর্শের একটা মানুষের চরিত্রে অভিনয় করছি। পর্দায় সব সময় আমার চরিত্র কথা বলে, আমি নিজে নই। তাই কেউ যদি আমার অভিনয় দেখে আমার ব্যক্তিগত জীবন বা রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে কোনো বিচার বা ধারণা তৈরি করেন, তবে সেটা সম্পূর্ণভাবে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বা দেখার ভুল সমস্যা।”
‘উইঙ্কেল টুইঙ্কেল’ সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে সবথেকে চ্যালেঞ্জিং দিক কোনটি ছিল, তা নিয়েও মুখ খুলেছেন অভিনেতা। ঋত্বিক স্মৃতিচারণ করে বলেন, যখন তরুণ বয়সে তিনি এই বিখ্যাত নাটকটি মঞ্চস্থ হতে দেখেছিলেন, তখনই চিত্রনাট্যটি তাঁকে গভীরভাবে আলোড়িত করেছিল। এত বছর পর সেই ঐতিহাসিক গল্প যখন সেলুলয়েডের ফ্রেমে রূপোলি পর্দায় আসছে, তা নিঃসন্দেহে এক বিরাট প্রাপ্তি। তবে চরিত্রটির মনস্তত্ত্ব ফুটিয়ে তোলা অত্যন্ত কঠিন ছিল। সিনেমাটিতে এমন এক মানুষের গল্প বলা হয়েছে, যে দীর্ঘ ২৬ বছর পর কোমা বা গভীর ঘুম থেকে জেগে উঠেছে। ঘুম ভাঙার পর সে দেখে তার চেনা চারপাশের সমাজ, চেনা রাজনীতি এবং মানুষজন সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। বাস্তব জীবনে এই ধরনের অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা যেহেতু কারও চেনা নয়, তাই ২৬ বছর পর ঘুম থেকে উঠে সেই ব্যক্তিটি ঠিক কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে বা কী আচরণ করতে পারে— পুরো সিনেমা জুড়ে সেটাই খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন তিনি।
পাশাপাশি টলিউডে রাজনীতির প্রভাব ও নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন অভিনেতা। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন ও টলিউড ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান হাওয়া প্রসঙ্গে ঋত্বিক মন্তব্য করেন, টলিউড বিনোদন জগতে সরাসরি যে ধরনের রাজনীতির প্রভাব আগে দেখা যেত, বর্তমানে তার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে এবং সেই প্রকাশ আর সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। তাঁর কথায়, সরকার বা ইন্ডাস্ট্রির সকলেই আপাতত রাজনীতিমুক্ত টলিউডের পথেই হাঁটতে চাইছেন। কিছু ভালো পরিবর্তন ইতিমধ্যে এসেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কিছু পরিবর্তন হবে বলেই তিনি আশাবাদী। তবে ভবিষ্যৎ জীবনে কখনও অফার এলে সক্রিয় রাজনীতির আঙিনায় পা রাখবেন কি না— এই প্রশ্নে বিন্দুমাত্র দ্বিধা না রেখে পর্দার ‘সব্যসাচী’ এক শব্দে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “নাহ্, কক্ষনো না।”
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments