
নিউজ ডেস্ক; নিজের লোকসভা কেন্দ্র কৃষ্ণনগরে কর্মসূচিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়ার পর এ বার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। অভিযোগ, নদিয়ার তেহট্টে দলীয় কর্মসূচি শেষে বেরোনোর সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়েছিল। ঘটনাটি গত ১৬ সেপ্টেম্বরের। এই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটি উল্লেখ করে দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়। তবে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি। নিয়মিত তালিকা মেনেই মামলাটি শুনবে আদালত।
সোমবার মামলাটি উল্লেখ করার সময় মহুয়ার আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, নিজের লোকসভা এলাকায় যাওয়ার সময় সাংসদের নিরাপত্তার জন্য আগেই আদালতের নির্দেশ ছিল। সেই নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তেহট্টের ঘটনায় তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ এবং ডিম ছোড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
তবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জরুরি ভিত্তিতে মামলাটি শুনতে রাজি হননি। আদালতের তরফে জানানো হয়, এই বিষয়ে আগেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন করে মামলাটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে শুনানির প্রয়োজন নেই বলে আদালত জানায়।
ঘটনার সূত্রপাত ১৬ সেপ্টেম্বর। ওই দিন নদিয়ার তেহট্টের হাউলিয়া পার্ক মোড় এলাকায় তৃণমূলের একটি কর্মিসভায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন মহুয়া। স্থানীয় পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সভায় যাওয়ার সময় এবং পরে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে কালো পতাকা ছিল এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। দলীয় কর্মসূচি শেষ করে মহুয়া যখন গাড়িতে উঠছিলেন, সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর মহুয়া নিজেই সামাজিক মাধ্যমে ওই সময়কার পরিস্থিতির ভিডিয়ো প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, পুলিশের উপস্থিতিতেই তাঁর দিকে ডিম ছোড়া হয়েছে। পরে এই ঘটনা নিয়ে তেহট্ট থানাতেও অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আগের একটি আদালতের নির্দেশও। সেপ্টেম্বরের গোড়ায় কলকাতা হাই কোর্ট কৃষ্ণনগরের সাংসদকে তাঁর লোকসভা এলাকায় যাওয়ার সময় নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। প্রকাশিত আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক মাসের জন্য তাঁর নির্বাচনী এলাকায় সফরের সময়ে দু’জন পুলিশকর্মী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
মহুয়ার আইনজীবীর বক্তব্য, সেই নির্দেশের পরেও তেহট্টে এমন ঘটনা ঘটেছে। ফলে আদালতের নির্দেশ যথাযথ ভাবে কার্যকর হয়েছিল কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন সাংসদের পক্ষ। এই প্রেক্ষিতেই সোমবার মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
অন্য দিকে, পুলিশের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন বিষয়। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অতুল ভি-র বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশ অনুসারে সাংসদকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য পুলিশ প্রস্তুত ছিল। তাঁর দাবি, মহুয়া মৈত্র ই-মেলের মাধ্যমে ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর নিজের সংসদীয় এলাকায় থাকার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোন দিন, কোন সময়ে এবং ঠিক কোথায় তিনি থাকবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পুলিশকে দেওয়া হয়নি।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশ মেনে এক জন অফিসার-সহ দু’জন পুলিশকর্মীকে তাঁর সঙ্গে নিরাপত্তার জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তেহট্টে যে কর্মী বৈঠক হবে, সেই বিষয়ে পুলিশকে আগে থেকে জানানো হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে। পরে ওই বৈঠকের খবর পুলিশ জানতে পারে। সেই কর্মসূচির বাইরে কিছু মানুষ স্লোগান দেন এবং মহুয়াকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তৈরি হয়েছে। মহুয়ার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে বিক্ষোভকারীদের পরিচয় এবং পুলিশের ভূমিকা। অন্য দিকে, বিজেপির তরফে বিক্ষোভে দলের কর্মী-সমর্থকদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ফলে ডিম ছোড়ার ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, তা নিয়েও এখনও রাজনৈতিক চাপানউতোর রয়েছে।
এখন নজর হাই কোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকে। সোমবার আদালত জরুরি শুনানির আবেদন গ্রহণ না করলেও মামলাটি তালিকা অনুযায়ী শুনবে। ফলে পরবর্তী শুনানিতে তেহট্টের ঘটনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পুলিশের ভূমিকা এবং আগের আদালতের নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়েছিল—এই বিষয়গুলি সামনে আসতে পারে।
এদিকে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নিজের লোকসভা এলাকায় কর্মসূচিতে নিরাপত্তার প্রশ্নে এই ঘটনা নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে তেহট্টের ঘটনায় ঠিক কারা ডিম ছুড়েছিল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments