Last updated: October 2nd, 2026 at 03:53 pm

নিউজ ডেস্ক: শারদীয় উৎসবের সময়ে বাংলার ঘরে ঘরে যখন অসুরদলনীর আরাধনা চলছে, তখন জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় নিজেদের মহিষাসুরের বংশধর বলে পরিচয় দেওয়া অসুর সম্প্রদায়ের বহু পরিবার এখনও দিন কাটাচ্ছেন চরম দারিদ্র্যের মধ্যে। ভারত-ভুটান সীমান্তবর্তী কেরন চা বাগান এলাকায় তাঁদের অনেকেরই আশ্রয় বলতে জরাজীর্ণ মাটির ঘর। সরকারি আবাসন-সহ একাধিক পরিষেবা থেকে তাঁরা বঞ্চিত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কেরন চা বাগানে চা-শ্রমিকের কাজ করেই সংসার চলে অসুর সম্প্রদায়ের বহু পরিবারের। তাঁদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড রয়েছে। কিন্তু সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা এখনও মেলেনি বলে অভিযোগ। তাঁদের দাবি, ভোটের আগে পাকা বাড়ির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি।
কারিলাইনের বাসিন্দা মাকু অসুরের বাড়ির ছবি যেন সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। একটি মাত্র মাটির ঘর। মাথার উপরে ফুটো টিনের ছাউনি। বর্ষায় সেই ছাদ দিয়ে জল ঢুকে পড়ে ঘরের ভিতরে। জল আটকাতে প্লাস্টিক দিয়ে কোনও রকমে ছাউনি দেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। সেই এক ঘরেই রান্না, পরিবারের সদস্যদের বসবাস এবং গবাদিপশু রাখার ব্যবস্থা। পাকা শৌচালয়ও নেই।
মাকুর কথায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘরেই কোনও রকমে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। তাঁর দাবি, নিরাপদে থাকার জন্য একটি পাকা বাড়ির প্রয়োজন। ভোটের আগে সরকারি আবাসন পাওয়ার আশ্বাস মিললেও এখনও সেই বাড়ি পাননি বলে অভিযোগ তাঁর।
কেরন চা বাগানের আরও কয়েকটি পরিবারেও একই ছবি। কোনও রকমে দরমার বেড়া দিয়ে তৈরি করা ঘরগুলির অবস্থা বর্ষায় আরও খারাপ হয়ে যায়। বৃষ্টির জলে মাটি আলগা হয়ে কোথাও কোথাও দেওয়াল হেলে পড়েছে। যে কোনও মুহূর্তে ঘর ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
মাছুয়া অসুরের পরিবারও এমনই একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করে। তাঁর অভিযোগ, বৃষ্টি হলে ঘরের ভিতরে জল ঢুকে যায়। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বাড়ির আশায় থাকলেও এখনও তা মেলেনি। এলাকার এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের কাছ থেকে ‘সরকার বদলে যাওয়ায়’ এখন বাড়ি পাওয়ার সুযোগ নেই—এমন কথা শুনেছেন বলেও দাবি করেছেন মাছুয়া।
অন্যদিকে, এই পরিস্থিতির জন্য তৃণমূল আমলের সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে বাম শিবির। সিপিএম নেতা জয়ন্ত মজুমদারের দাবি, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা এবং ‘হাউস ফর অল’ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তাঁরা আগেও তুলেছেন এবং এ নিয়ে আন্দোলনও করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছনোই মূল উদ্দেশ্য। অথচ অসুর সম্প্রদায়ের পরিবারগুলি সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ।
যদিও রাজনৈতিক অভিযোগের সত্যতা এবং আবাসন প্রকল্পে কারা কেন সুবিধা পাননি, তা প্রশাসনিক নথি যাচাই না করে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে পুজোর আবহে কেরন চা বাগানের এই ছবিতে ফের সামনে এসেছে প্রান্তিক মানুষের বাসস্থান ও সরকারি পরিষেবা পাওয়ার প্রশ্ন। উৎসবের আলো থেকে দূরে, পাকা ছাদের অপেক্ষাতেই দিন কাটছে অসুর পরিবারের বহু মানুষের।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments