
নিউজ ডেস্ক: জনগণনার কাজ করতে গিয়ে ফের সাপের কামড়ের ঘটনা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষার কাজ করার সময় বিষধর কালাচ সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেন এক আইসিডিএস কর্মী। আক্রান্ত কর্মীর নাম নার্গিস পারভিন। বর্তমানে তিনি জিরানগাছা গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে তাঁকে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে জনগণনার কাজে যুক্ত কর্মীদের মধ্যে। কারণ, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জনগণনার কাজ করতে গিয়ে সাপের কামড়ের ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে ক্যানিং এবং সাগর এলাকাতেও একই ধরনের ঘটনা সামনে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কর্মীদের একাংশ।
ঘটনাটি ঘটেছে ভাঙড়-২ ব্লকের ভগবানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আবুয়া এলাকায়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নার্গিস পারভিন পেশায় আইসিডিএস কর্মী। জনগণনার কাজে তাঁকে আবুয়া গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে সমীক্ষা করতে হচ্ছিল। সেই কাজ করতে গিয়েই বিপত্তি।
জানা গিয়েছে, একটি বাড়িতে সমীক্ষার কাজ শেষ করে বেরিয়ে আসার সময় আচমকাই তাঁর ডান পায়ের গোড়ালিতে কিছু একটা কামড় দেয়। মুহূর্তের মধ্যে তিনি বুঝতে পারেননি সেটি সাপের কামড় কি না। ফলে প্রথমে বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি নার্গিস। বরং কাজ থামাননি তিনি। ওই ঘটনার পর আরও দু’টি বাড়িতে গিয়ে জনগণনার কাজ করেন।
কিন্তু এরপরই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পর নার্গিসের শরীরে অস্বস্তি দেখা দেয়। শরীর ঝিমঝিম করতে থাকে। ধীরে ধীরে দুর্বল ও অবসন্ন হয়ে পড়েন তিনি। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসতেই তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
জিরানগাছা গ্রামীণ হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি পরীক্ষা করেন। সর্পদংশনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, বিষধর কালাচ সাপের কামড়েই এই অসুস্থতা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। এরপর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা হয়।
ভাঙড়-২ ব্লকের স্বাস্থ্য আধিকারিক শঙ্খশুভ্র ঘাটি জানিয়েছেন, আক্রান্ত কর্মী বর্তমানে ভাল রয়েছেন। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রেও তাঁর শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনার পর শুধু নার্গিসের পরিবার নয়, জনগণনার কাজে যুক্ত অন্য কর্মীদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় বর্ষার সময়ে সাপের উপদ্রব নতুন কিছু নয়। জল-কাদা, ঝোপঝাড়, ঘাসজমি এবং কাঁচা রাস্তা পেরিয়ে বহু কর্মীকেই বাড়ি বাড়ি যেতে হচ্ছে। ফলে প্রতিদিনই নানা ধরনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে তাঁদের।
সমস্যা আরও বাড়ছে কাজের সময় নিয়েও। দিনের অন্যান্য দায়িত্ব সামলে অনেক কর্মীকে বিকেল কিংবা সন্ধ্যার দিকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের বহু জায়গায় সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলো থাকে না। কোথাও আবার বাড়িতে পৌঁছনোর রাস্তা কাঁচা, কোথাও রাস্তার দু’ধারে ঘন ঘাস কিংবা ঝোপঝাড়। ফলে অন্ধকারে চলাফেরার সময় সাপের মতো সরীসৃপের উপস্থিতি টের পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ভাঙড়ের এই ঘটনার আগে সাগরেও জনগণনার কাজে গিয়ে সাপের কামড়ে এক কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছিল। ক্যানিং এলাকাতেও একই ধরনের ঘটনায় কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। ফলে পরপর এমন ঘটনা সামনে আসায় জনগণনার কাজে যুক্ত কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রত্যন্ত এলাকায় কাজ করার সময় তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে বর্ষার সময়ে জলমগ্ন এলাকা, ধানজমি, ঝোপঝাড় কিংবা অন্ধকার রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে দুর্গম এলাকায় কর্মীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করার দাবিও উঠছে।
এদিকে ভাঙড়ের আবুয়া গ্রামের ঘটনাটি ফের মনে করিয়ে দিল, মাঠপর্যায়ে জনগণনার কাজ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। একটি বাড়ির সমীক্ষা শেষ করে বেরিয়ে আসার সময় সাপের কামড় খেয়েও প্রথমে কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন নার্গিস। পরে শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়ায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। আপাতত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি।
জনগণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাজে নিযুক্ত কর্মীদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের। বিশেষত দক্ষিণ ২৪ পরগনার গ্রামীণ এলাকাগুলিতে সাপের উপদ্রব এবং বর্ষার প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষার কাজ চলায় কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি, ভাঙড়ের ঘটনাটি তা আরও একবার সামনে এনে দিল।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments