
নিউজ ডেস্ক:বঙ্গোপসাগরের গভীরে জ্বালানি অনুসন্ধানে বড় সাফল্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ONGC-র। ওড়িশার উপকূল থেকে প্রায় ৪৩ কিলোমিটার দূরে মহানদী অফশোর বেসিনের গভীর সমুদ্রে একটি অনুসন্ধানমূলক কূপে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর এই আবিষ্কার হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এই কূপটির নাম MN-DW18-1-H-D। ONGC-র ‘সমুদ্র মন্থন’ গভীর সমুদ্র অনুসন্ধান কর্মসূচির অধীনে মহানদী বেসিনে এটিই প্রথম কূপ। কূপটি প্রায় ১,৬২৩ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছিল। প্রায় ১,৪৪১ থেকে ১,৪৫২ মিটার গভীরতার স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, গ্যাস পাওয়ার পর কূপটিতে টানা কয়েক দিন গ্যাসের প্রবাহ এবং স্থিতিশীল রিজার্ভার প্রেসার লক্ষ্য করা হয়েছে। ONGC জানিয়েছে, প্রাথমিক পরীক্ষায় প্রবাহ ও চাপের ফলাফল উৎসাহব্যঞ্জক। তবে এখনও গ্যাসের মোট মজুত কত, কতটা উত্তোলন করা সম্ভব এবং বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন লাভজনক হবে কি না—সেসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
অর্থাৎ, আপাতত এটিকে বড় অনুসন্ধানমূলক সাফল্য বলা গেলেও ‘বিরাট বাণিজ্যিক গ্যাসের খনি’ হিসেবে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করার পর্যায়ে এখনও পৌঁছয়নি ONGC। আরও পরীক্ষা, মূল্যায়ন এবং অ্যাপ্রেইজালের পরই জানা যাবে এই আবিষ্কারের প্রকৃত পরিমাণ ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব।
মহানদী বেসিনে এর আগেও ONGC-র অনুসন্ধানে ‘উৎকল’ ও ‘কোনার্ক’ নামে গ্যাস আবিষ্কারের কথা সামনে এসেছিল। নতুন আবিষ্কারটি সেই অঞ্চলে আরও অনুসন্ধানের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। কাছাকাছি এলাকায় একাধিক আবিষ্কারকে একই পরিকাঠামোর মাধ্যমে উন্নয়ন করা গেলে ভবিষ্যতে প্রকল্পের খরচ ও সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকেও এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ। দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার একটি অংশ বর্তমানে আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। ফলে দেশের মাটির কাছাকাছি সমুদ্রাঞ্চল থেকে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে তা সহায়ক হতে পারে।
তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে আবিষ্কৃত গ্যাসের পরিমাণ, উত্তোলনের প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা, উৎপাদন খরচ এবং বাজারে গ্যাস সরবরাহের পরিকাঠামোর উপর।
‘সমুদ্র মন্থন’ কর্মসূচির লক্ষ্যই হল ভারতের গভীর ও অতি-গভীর সমুদ্রাঞ্চলে তেল ও গ্যাসের অনুসন্ধান বাড়ানো। মহানদী বেসিনের এই সাফল্য সেই বৃহত্তর অনুসন্ধান কর্মসূচিতে নতুন গতি আনতে পারে।
এখন নজর পরবর্তী পরীক্ষার দিকে। আবিষ্কৃত গ্যাসের প্রকৃত মজুত কত? বাণিজ্যিক উৎপাদন সম্ভব হবে কি? আর হলে কবে থেকে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিলবে পরবর্তী মূল্যায়নের পরেই।
ওড়িশার উপকূলের কাছে গভীর সমুদ্রে এই গ্যাস আবিষ্কার তাই আপাতত ভারতের অফশোর জ্বালানি অনুসন্ধানে একটি উল্লেখযোগ্য নতুন অধ্যায়—তবে এর পূর্ণ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা জানতে আরও তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments