Homeজেলা৬৪ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা সরঞ্জাম নিখোঁজ, FIR-এর নির্দেশ স্বাস্থ্য দফতরের

৬৪ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা সরঞ্জাম নিখোঁজ, FIR-এর নির্দেশ স্বাস্থ্য দফতরের

resizeplus_Untitled Design (55)

নিউজ ডেস্ক :করোনা পর্বে গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে সরকারি অর্থে কেনা হয়েছিল একাধিক চিকিৎসা ও টেলি-মেডিসিন সরঞ্জাম। কিন্তু কয়েক বছর পর সেই সরঞ্জামের বেশ কিছু যন্ত্রাংশের হদিশ মিলছে না। রাজ্যের ১২ জেলার মোট ৬৪টি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা সামনে আসার পর এবার কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিল স্বাস্থ্য দফতর।

স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়ের করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, কোথায় কীভাবে সরঞ্জাম নিখোঁজ হল, কার দায়িত্বে ছিল এবং সংরক্ষণে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না—তা খতিয়ে দেখে দায় নির্ধারণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

জানা গিয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের স্বাস্থ্য অনুদানের আওতায় গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি পাঠানো হয়েছিল। টেলি-মেডিসিন পরিষেবার পরিকাঠামো তৈরিও ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

স্বাস্থ্য দফতরের সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ৬৪টি প্রতিষ্ঠানে ওই সরঞ্জামের কিছু অংশ বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে না। তালিকায় রয়েছে ৫০টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ১৩টি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। অর্থাৎ, বিষয়টি কোনও একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; একাধিক জেলার সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এই তালিকায় রয়েছে।

এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে হাওড়া জেলায়। সেখানে মোট ২৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরঞ্জাম বা যন্ত্রাংশ নিখোঁজ হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। এর মধ্যে ১৮টি সাঁকরাইল এবং সাতটি শ্যামপুর-২ এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্র বলে জানা গিয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতরের বক্তব্য অনুযায়ী, সরঞ্জামগুলি যখন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছিল, তখন নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীর কাছে সেগুলি হস্তান্তর করা হয়েছিল। ফলে সেগুলি নিরাপদে সংরক্ষণ এবং যথাযথ ব্যবহারের দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপর ছিল।

এখন প্রশ্ন উঠছে, এতদিন পর কেন একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরঞ্জামের যন্ত্রাংশ পাওয়া যাচ্ছে না? কোথাও ব্যাটারি, কোথাও ওয়্যার বক্স, আবার কোথাও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশের হদিশ নেই বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে কয়েকটি জায়গায় টেলি-মেডিসিন পরিষেবা চালু করতেও সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, কোনও সরঞ্জাম চুরি, হারিয়ে যাওয়া বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্থানীয় থানায় অভিযোগ করার কথা। কিন্তু বহু ক্ষেত্রে সেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ। এবার সেই কারণেই জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনকে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুধু এফআইআর নয়, সরঞ্জাম সংরক্ষণে গাফিলতি বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মী বা আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। নিয়ম মেনে এবং দায় নির্দিষ্ট হওয়ার পর নিখোঁজ সরঞ্জামের মূল্য বেতন বা পারিশ্রমিক থেকে আদায়ের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে বলে স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে জানানো হয়েছে।

তবে এই মুহূর্তে সরঞ্জাম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে দুর্নীতি বা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। এফআইআর ও পরবর্তী তদন্তের মাধ্যমেই জানা যাবে সরঞ্জামগুলি কীভাবে নিখোঁজ হল এবং এর পিছনে কারও অপরাধমূলক ভূমিকা ছিল কি না।

করোনা-পরবর্তী সময়ে সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বিপুল অর্থ বিনিয়োগের উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের কাছে উন্নত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। সেই পরিকাঠামোর জন্য কেনা সরঞ্জামের অংশবিশেষ যদি দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকে, তাহলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন স্বাস্থ্য প্রশাসনের সামনে বড় প্রশ্ন।

এফআইআর-এর পর তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং নিখোঁজ সরঞ্জামের হদিশ আদৌ মেলে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved