Homeজেলাইচ্ছেমতো পেনকিলার-অ্যান্টিবায়োটিক নয়, কিডনি নিয়ে সতর্ক করল কেন্দ্র

ইচ্ছেমতো পেনকিলার-অ্যান্টিবায়োটিক নয়, কিডনি নিয়ে সতর্ক করল কেন্দ্র

resizeplus_eisamay_2026-09-22_37onz2rh_New-Project-2026-09-22T171120.884

নিউজ ডেস্ক; সামান্য জ্বর, সর্দি-কাশি কিংবা শরীরে ব্যথা হলেই অনেকের অভ্যাস নিজের মতো করে ওষুধ খেয়ে নেওয়া। কারও পরামর্শ ছাড়াই কখনও পেনকিলার, কখনও অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়ার প্রবণতা নিয়েই এ বার সতর্ক করল কেন্দ্র। অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় ভাবে এই ধরনের ওষুধ খেলে কিডনির গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খাওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।

সোমবার ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (DCGI) রাজীব সিং রঘুবংশীর সই করা নির্দেশিকায় বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে বিশেষ করে পেনকিলার এবং অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। বার বার জ্বর হওয়া, দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা থাকা কিংবা কোনও উপসর্গ সহজে না কমলে নিজের মতো করে ওষুধ কিনে খাওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসকদের একাংশের মতে, সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণের ক্ষেত্রেও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা যথেষ্ট উদ্বেগের। সর্দি-কাশি বা জ্বর হলেই অনেকে মনে করেন অ্যান্টিবায়োটিক খেলেই দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবেন। একই ভাবে মাথাব্যথা, কোমর বা শরীরের অন্য কোনও অংশে ব্যথা হলেই নিয়ম না মেনে পেনকিলার খাওয়ার প্রবণতাও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ওষুধের দোকান থেকে এই ধরনের ওষুধ কিনে নেওয়া হয়।

কেন্দ্রের নির্দেশিকায় এই অভ্যাস নিয়েই মূলত সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে বা বার বার কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে জানানো হয়েছে।

কিডনির অসুখে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও রোগীর আগে থেকেই কিডনির সমস্যা থাকলে ওষুধ দেওয়ার আগে চিকিৎসককে সেই বিষয়টি জানানো প্রয়োজন। রোগীর কিডনির অবস্থা সম্পর্কে তথ্য জানা থাকলে চিকিৎসক সেই অনুযায়ী ওষুধ নির্বাচন এবং তার মাত্রা নির্ধারণ করতে পারবেন।

চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও নির্দেশিকায় বেশ কিছু বিষয় বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজন না থাকলে পেনকিলার বা অ্যান্টিবায়োটিক না দেওয়ার পরামর্শ রয়েছে। কোনও রোগীকে এই ধরনের ওষুধ দেওয়ার প্রয়োজন হলে তাঁর বয়স, শারীরিক অবস্থা, অন্যান্য রোগ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়গুলি বিবেচনা করতে হবে।

বিশেষ করে যাঁদের কিডনির সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন মাত্রার ওষুধ ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যতটা সম্ভব কম সময়ের জন্য ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দিন বা বেশি মাত্রায় ওষুধ ব্যবহার যাতে না হয়, সে দিকেও নজর রাখতে হবে।

শুধু রোগী এবং চিকিৎসকই নন, ওষুধ বিক্রেতাদের জন্যও সতর্কবার্তা রয়েছে। ওষুধের দোকানের কেমিস্টদের ক্রেতাদের জানাতে বলা হয়েছে যে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পেনকিলার বা অ্যান্টিবায়োটিকের মতো ওষুধ কেনা ও ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ক্রেতাদের সচেতন করার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি দেশের সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচার চালাতে বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ওষুধের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাই এর অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

চিকিৎসকদের একাংশ কেন্দ্রের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। হায়দরাবাদের অ্যাপোলো হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট সুধীর কুমারের বক্তব্য, অ্যান্টিবায়োটিক এবং পেনকিলারের অপব্যবহার বন্ধ করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত ব্যবহারে অ্যালার্জির মতো সমস্যা হওয়ার পাশাপাশি কিডনি ও লিভারের উপরও ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি আগে থেকে কিডনি বা লিভারের কোনও অসুখ না থাকলেও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কা থাকতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও ওষুধের প্রয়োজন আছে কি না, থাকলে কতটা মাত্রায় এবং কত দিন খেতে হবে—এই সিদ্ধান্ত রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নেওয়া উচিত। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে নিজের মতো করে শুরু করা বা মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়ার মতো অভ্যাসও চিকিৎসকদের কাছে উদ্বেগের বিষয়।

কেন্দ্রের সাম্প্রতিক নির্দেশিকার ফলে তাই সাধারণ মানুষের কাছে বার্তাটি স্পষ্ট—সামান্য অসুস্থতা হলেই নিজের মতো করে ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বার বার জ্বর, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা অন্য কোনও উপসর্গ থাকলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ পথ। বিশেষ করে যাঁদের কিডনি বা অন্য কোনও দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ওষুধ খাওয়ার আগে সেই তথ্য চিকিৎসককে জানানো জরুরি।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved