Homeখেলাআট বছর পর বারাসতে কলকাতা ডার্বি, মাঠে ঢোকার আগে মানতেই হবে পুলিশের ১২ নির্দেশ

আট বছর পর বারাসতে কলকাতা ডার্বি, মাঠে ঢোকার আগে মানতেই হবে পুলিশের ১২ নির্দেশ

নিউজ ডেস্ক; আট বছর পর বারাসতের মাটিতে ফিরছে কলকাতা ডার্বি। তাও আবার ফ্লাডলাইটের আলোয় মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী—মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল।
Screenshot 2026-09-07 154849_edited

নিউজ ডেস্ক; আট বছর পর বারাসতের মাটিতে ফিরছে কলকাতা ডার্বি। তাও আবার ফ্লাডলাইটের আলোয় মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী—মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। কলকাতা লিগের ম্যাচ হলেও উত্তেজনার পারদ ইতিমধ্যেই চড়েছে। সাম্প্রতিক ডুরান্ড কাপ ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে ৪-১ গোলে হারের পর এই ম্যাচকে বদলার লড়াই হিসেবে দেখছেন মোহনবাগান সমর্থকদের একাংশ। অন্য দিকে, টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার পর তা দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় বিপুল দর্শকসমাগমের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে পুলিশের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে ম্যাচ শেষ করা। দর্শকদের নিরাপত্তা এবং স্টেডিয়ামের ভিতরে-বাইরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে বারাসত পুলিশ জেলা। প্রায় ১১০০ পুলিশকর্মী মোতায়েনের পাশাপাশি থাকছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। টিকিট যাচাই, ব্যাগ তল্লাশি এবং কিউআর কোড স্ক্যানের পরেই দর্শকদের স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।

বারাসত পুলিশ জেলার তরফে সমর্থকদের জন্য ১২টি করণীয় এবং ১২টি বর্জনীয় বিষয় জানানো হয়েছে। ম্যাচ দেখতে যাওয়ার আগে সেই নির্দেশগুলি জেনে নেওয়া জরুরি।

সমর্থকদের কী কী করতে হবে?

১. বৈধ টিকিট ও পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় বৈধ ম্যাচের টিকিট বা পাস দেখাতে হবে। প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্রও সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক।

২. হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে পৌঁছতে হবে ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে ভিড়ের মধ্যে পৌঁছলে সমস্যা হতে পারে। তাই তাড়াহুড়ো এড়াতে আগেভাগেই স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

৩. নির্দিষ্ট গেট ব্যবহার করতে হবে শুধুমাত্র পুলিশের নির্ধারিত প্রবেশপথ বা গেট দিয়েই স্টেডিয়ামে ঢুকতে হবে। অন্য কোনও পথ দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করা যাবে না।

৪. নিরাপত্তাকর্মীদের সহযোগিতা করতে হবে তল্লাশি, টিকিট পরীক্ষা এবং কিউআর কোড স্ক্যানের সময় কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে।

৫. নির্ধারিত আসন বা ব্লকে থাকতে হবে যে টিকিট বা পাস যে ব্লকের জন্য বরাদ্দ, দর্শকদের সেই নির্দিষ্ট জায়গাতেই বসতে হবে। অন্য ব্লকে যাওয়ার চেষ্টা করা যাবে না।

৬. স্টেডিয়ামের নিয়ম মেনে চলতে হবে ম্যাচ চলাকালীন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে কোনও ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে না।

৭. ভিড়ের মধ্যে সুশৃঙ্খল ভাবে চলাচল করতে হবে প্রবেশ ও বেরোনোর সময় ধাক্কাধাক্কি না করে সারিবদ্ধ ভাবে চলতে হবে। অপ্রয়োজনীয় জমায়েত এড়াতে হবে।

৮. স্টেডিয়াম পরিষ্কার রাখতে হবে আবর্জনা নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। গ্যালারি বা স্টেডিয়াম চত্বরে কোনও ধরনের নোংরা করা চলবে না।

৯. সন্দেহজনক কিছু দেখলে জানাতে হবে সন্দেহজনক ব্যক্তি, ব্যাগ, বস্তু বা কোনও অস্বাভাবিক কার্যকলাপ চোখে পড়লে দ্রুত নিরাপত্তাকর্মীদের জানাতে হবে।

১০. নির্ধারিত রুট অনুসরণ করতে হবে প্রবেশ, বেরোনো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে চলাচলের জন্য যে রুট নির্ধারণ করা হয়েছে, তা মেনে চলতে হবে।

১১. শিশু ও প্রবীণদের সাহায্য করতে হবে শিশু, প্রবীণ এবং বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে এমন দর্শকদের প্রয়োজনে সাহায্য করতে হবে।

১২. জরুরি পরিস্থিতিতে শান্ত থাকতে হবে কোনও আপৎকালীন পরিস্থিতি তৈরি হলে আতঙ্কিত না হয়ে পুলিশের নির্দেশ মেনে চলতে হবে। গুজবে কান দেওয়া যাবে না।

সমর্থকদের কী কী করা যাবে না?

পুলিশের নির্দেশ অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ভিতরে জলের বোতল বা অন্য কোনও তরল পদার্থ নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। ছাতা, হেলমেট, ব্যাগ এবং নিষিদ্ধ সামগ্রীও সঙ্গে রাখা যাবে না। স্টেডিয়ামের ভিতরে পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

ছুরি, কাঁচি, ধারালো বস্তু, অস্ত্র, আতশবাজি, বাজি-পটকা, দাহ্য পদার্থ কিংবা বিপজ্জনক কোনও সামগ্রী নিয়ে ঢোকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই ভাবে উসকানিমূলক বা আপত্তিকর ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, পতাকা কিংবা অন্য কোনও সামগ্রীও আনা যাবে না।

খেলার মাঠ, সংরক্ষিত এলাকা বা নিষিদ্ধ জোনে দর্শকদের প্রবেশ করা চলবে না। ব্যারিকেড, রেলিং কিংবা বেড়া টপকানো বা ক্ষতিগ্রস্ত করাও নিষিদ্ধ। মাঠে কিংবা অন্য দর্শকদের দিকে বোতল, পাথর বা কোনও বস্তু ছোড়া যাবে না।

অশালীন ভাষা, উসকানিমূলক আচরণ, মারামারি, হিংসা বা বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। প্রবেশপথ, বেরোনোর রাস্তা, সাধারণ চলাচলের পথ কিংবা জরুরি রুট অবরুদ্ধ করা যাবে না। স্টেডিয়ামের সম্পত্তি নষ্ট করা বা চত্বর নোংরা করলেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

পুলিশের আবেদন, ফুটবলপ্রেমীরা যেন প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবেগ মাঠের গ্যালারিতেই সীমাবদ্ধ রাখেন। দলীয় সমর্থন ও স্লোগান থাকুক, কিন্তু তা যেন কোনও ভাবেই হিংসা বা বিশৃঙ্খলার রূপ না নেয়। নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কলকাতা ডার্বি উপভোগ করাই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

No Comments

তাজা খবর

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved