Last updated: October 6th, 2026 at 01:52 pm

নিউজ ডেস্ক: হরিশ্চন্দ্রপুর, মালদা স্কুল শুরুর আগেই ক্লাসরুমে নাবালিকা ছাত্রীর সঙ্গে এক শিক্ষকের উপস্থিতি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে। অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দারা স্কুলের একটি ঘরে ওই শিক্ষক ও নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। এরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। শিক্ষককে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং শিক্ষক ও ছাত্রীকে উদ্ধার করে।
সোমবার সকালে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত একটি স্কুলে ঘটনাটি ঘটে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে। ওই ছাত্রীর বয়স ১৫ বছর বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বয়স প্রায় ৪৫ বছর। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই স্কুলে ক্লাস শুরু হওয়ার অনেক আগে ওই শিক্ষক এবং ছাত্রীকে আসতে দেখা যাচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি।
অভিযোগ, সোমবারও দু’জনকে স্কুলে ঢুকতে দেখে স্থানীয় কয়েক জন নজর রাখতে শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর তাঁরা স্কুলের একটি ক্লাসরুমে ঢুকে দু’জনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে অভিযোগ। এরপরেই উত্তেজিত জনতা ওই শিক্ষককে ঘিরে ফেলেন। তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে ছাত্রীটিকেও ক্লাসরুমে আটকে রেখে বাইরে বিক্ষোভ দেখানো হয় বলে জানা গিয়েছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে শিক্ষক ও ছাত্রীকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে। নাবালিকাকে পরে তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগের পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্যও সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, ওই ছাত্রীকে কম্পিউটার শেখানোর জন্য স্কুলে ডেকেছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে অন্য কোনও উদ্দেশ্যে দেখা করতে যাননি বলেই দাবি করেছেন শিক্ষক। ফলে ঠিক কী কারণে স্কুল শুরুর আগেই দু’জন সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তা নিয়ে তদন্তে একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে।
ঘটনার পর স্কুল চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। নাবালিকা ছাত্রীর সঙ্গে একজন শিক্ষকের এ ধরনের পরিস্থিতিতে থাকার অভিযোগ সামনে আসায় অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। স্কুলে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নজরদারি রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। নাবালিকার স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। তবে স্কুলের মতো নিরাপদ পরিসরে নাবালিকা পড়ুয়ার সঙ্গে শিক্ষকের উপস্থিতি ঘিরে ওঠা অভিযোগ ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments