Last updated: October 6th, 2026 at 01:53 pm

নিউজ ডেস্ক : কলকাতা পুজোর মরসুম পেরিয়ে উৎসবের আবহে এবার শহরে নিষিদ্ধ বাজির প্রবেশ রুখতে আরও সক্রিয় কলকাতা পুলিশ। পরিবেশবান্ধব বাজি ছাড়া বেআইনি বা নিষিদ্ধ শব্দবাজি যাতে কোনও ভাবেই কলকাতায় ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে লালবাজার। শহরের প্রবেশপথগুলিতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সন্দেহজনক গাড়ি ও পণ্যবাহী যানবাহনের উপরও নজর রাখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
কলকাতায় প্রতি বছরই উৎসবের সময়ে বাজি বিক্রি ও ব্যবহারকে ঘিরে প্রশাসনের তরফে একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়। বিশেষ করে অতিরিক্ত শব্দ এবং বায়ুদূষণ তৈরি করে এমন বাজির বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট। সেই নির্দেশিকা যাতে কোনও ভাবেই লঙ্ঘিত না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এবার আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে পুলিশ।
লালবাজার সূত্রে খবর, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। কলকাতায় ঢোকার সময় পণ্যবাহী গাড়ি, ছোট ট্রাক এবং অন্যান্য সন্দেহজনক যানবাহন প্রয়োজনে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হতে পারে। বিশেষ করে বাজি পরিবহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি এবং অনুমোদন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের নজরে রয়েছে শহরের বিভিন্ন বাজার ও গুদাম এলাকাও। কোথাও বিপুল পরিমাণ বাজি মজুত করা হচ্ছে কি না, নিষিদ্ধ বাজি গোপনে বিক্রি হচ্ছে কি না—সেই বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় থানাগুলিকেও নিজেদের এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
শুধু শহরের ভিতরেই নয়, কলকাতার সঙ্গে সংযোগকারী বিভিন্ন সড়কপথেও নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ, বাইরে থেকে বেআইনি ভাবে বাজি এনে শহরের বিভিন্ন এলাকায় তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা পুলিশের। সেই কারণেই শহরে ঢোকার আগে থেকেই সন্দেহজনক চালান শনাক্ত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি বা মজুতের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বাজির শব্দ ও ধোঁয়ার কারণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের সমস্যা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও থাকে। তাই উৎসবের আনন্দে যাতে নিরাপত্তা ও পরিবেশের বিষয়টি উপেক্ষিত না হয়, সে বিষয়ে নাগরিকদেরও সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের তরফে সাধারণ মানুষকে সন্দেহজনক ভাবে বাজি বিক্রি বা মজুতের ঘটনা নজরে এলে স্থানীয় থানায় খবর দেওয়ার আবেদন করা হতে পারে। প্রশাসনের লক্ষ্য, উৎসবের সময়ে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি শহরের পরিবেশ ও জননিরাপত্তাও সুরক্ষিত রাখা।
সব মিলিয়ে উৎসবের আগে থেকেই নিষিদ্ধ বাজির বিরুদ্ধে কড়া নজরদারির পথে হাঁটছে লালবাজার। শহরে বেআইনি বাজির প্রবেশ ঠেকাতে আগামী দিনগুলিতে তল্লাশি ও নজরদারি আরও বাড়তে পারে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments