Homeঝাড়গ্রামঘাগরা,নিরাপত্তায় গাফিলতিতেই প্রাণ গেল পর্যটকের? মৃত্যুর পরে ঘাগরায় একাধিক পদক্ষেপ, উঠছে প্রশ্ন

নিরাপত্তায় গাফিলতিতেই প্রাণ গেল পর্যটকের? মৃত্যুর পরে ঘাগরায় একাধিক পদক্ষেপ, উঠছে প্রশ্ন

eisamay_2026-10-05_ye78wra4_Jhargram-News

নিউজ ডেস্ক: পর্যটকের মৃত্যুর পরেই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। ঝাড়গ্রামের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ঘাগরা জলপ্রপাত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনার পর এলাকায় একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই ব্যবস্থা আগে নেওয়া হলে দুর্ঘটনা এড়ানো যেত কি না, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের একাংশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ঘাগরা জলপ্রপাত এলাকায় বেড়াতে এসে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন এক পর্যটক। জলপ্রপাত সংলগ্ন এলাকায় জলের স্রোত ও পাথুরে অংশের বিপদ সম্পর্কে পর্যটকদের সতর্ক করার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত ওই পর্যটকের মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনার পরেই ঘাগরা পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। বিপজ্জনক এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো, পর্যটকদের গতিবিধির উপর নজর রাখা এবং জলাধারের কাছে যাতে কেউ ঝুঁকি নিয়ে না যান, সে বিষয়ে সতর্ক করার মতো একাধিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।

পর্যটকদের একাংশের অভিযোগ, ঘাগরায় প্রতিবছর বহু মানুষ বেড়াতে এলেও বিপজ্জনক জায়গাগুলিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী বা সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। কোথাও কোথাও জলের গভীরতা বা স্রোতের তীব্রতা সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশিকা থাকা প্রয়োজন বলেও দাবি তাঁদের। বিশেষ করে বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে জলস্তর বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

ঘাগরা জলপ্রপাতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকেরা আসেন। জলপ্রপাতের নীচের জলাশয় এবং আশপাশের পাথুরে এলাকায় অনেকেই ছবি তোলা বা জলে নামার চেষ্টা করেন। সামান্য অসতর্কতাতেই সেখানে বিপদ ঘটতে পারে। তাই পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি দীর্ঘদিনের।

পর্যটকের মৃত্যুর পর প্রশাসনের তরফে যে পদক্ষেপগুলি নেওয়া হচ্ছে, সেগুলি কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার। শুধু দুর্ঘটনার পরে ব্যবস্থা নয়, পর্যটন মরশুম শুরুর আগেই বিপজ্জনক এলাকা চিহ্নিত করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে মত স্থানীয়দের একাংশের।

অন্যদিকে, পর্যটকদেরও প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জলের স্রোত বেশি থাকা অবস্থায় জলপ্রপাত বা নদীর কাছাকাছি না যাওয়া এবং নিষিদ্ধ বা বিপজ্জনক এলাকায় প্রবেশ না করার বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।

এক পর্যটকের মৃত্যুর পরে ঘাগরায় একাধিক পদক্ষেপ শুরু হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আগে থেকেই নজর দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে প্রশাসনের পরিকল্পনা কী, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটনপ্রেমীদের।

No Comments

আরও পড়ুন