Last updated: October 6th, 2026 at 02:00 pm

নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম মেদিনীপুর হাসপাতালে দুই নাবালিকার সন্তান প্রসবের ঘটনা সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসল পুলিশ। পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় দুই নাবালিকার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার ধৃত দু’জনকে মেদিনীপুর সিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পিংলার তিলেশ্বরী এবং কুলতাপাড়া এলাকার দুই নাবালিকা সন্তান প্রসবের জন্য ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন তাঁদের বয়স সংক্রান্ত তথ্য সামনে আসে। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং প্রাথমিক তথ্য যাচাইয়ের পর দুই নাবালিকার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে এবং তার পর সন্তান প্রসবের মতো ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিয়ে। প্রশাসনের নজরদারি সত্ত্বেও কী ভাবে ওই দুই নাবালিকার বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁদের বয়স সম্পর্কে পরিবারের সদস্যরা বা সংশ্লিষ্টরা অবগত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজ্যজুড়ে বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকার সন্তান প্রসব রুখতে সাম্প্রতিক সময়ে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। হাসপাতালগুলিকেও বলা হয়েছে, প্রসবের জন্য ভর্তি হওয়া মহিলার বয়স নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করতে। কোনও প্রসূতির বয়স ১৮ বছরের কম বলে জানা গেলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পুলিশকে জানানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পিংলার ঘটনাতেও হাসপাতালের তরফে তথ্য জানানোর পরেই পুলিশের পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।
এর আগে রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও একই ধরনের ঘটনায় নাবালিকা স্ত্রীর স্বামীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের খবর সামনে এসেছে। কলকাতাতেও নাবালিকা সন্তান প্রসবের ঘটনা হাসপাতালের মাধ্যমে পুলিশের নজরে আসার পর স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
বাল্যবিবাহের ফলে কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। অল্প বয়সে গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে মা ও সদ্যোজাত—দু’জনেরই নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সামাজিক ও আর্থিক সমস্যার মুখেও পড়তে হয় অনেক কিশোরীকে।
পিংলার ঘটনায় এখন পুলিশের তদন্তে উঠে আসতে পারে নাবালিকাদের বিয়ের সময় তাঁদের বয়স কত ছিল, বিয়েতে কারা জড়িত ছিলেন এবং কী ভাবে সেই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবারের অন্য সদস্য বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তদন্তের পর তা স্পষ্ট হবে।
এই ঘটনার পর পিংলা-সহ পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন এলাকায় নাবালিকার বিয়ে রুখতে নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি উঠেছে। প্রশাসনের নজরে এখন শুধু বিয়ের আগের ঘটনা নয়, হাসপাতালগুলিতে নাবালিকা প্রসবের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments