Homeঅন্যান্যরাজারহাটে ‘অ্যাকোয়ারিয়াম গলফ ভিলা’ বেআইনি ঘোষণা! চার সপ্তাহের মধ্যে গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

রাজারহাটে ‘অ্যাকোয়ারিয়াম গলফ ভিলা’ বেআইনি ঘোষণা! চার সপ্তাহের মধ্যে গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

নিউজ ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাটের বহুল আলোচিত ‘অ্যাকোয়া গলফ ভিলা’ আবাসন প্রকল্পকে সম্পূর্ণ বেআইনি চিহ্নিত করে গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ
kolkata high court

নিউজ ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাটের বহুল আলোচিত ‘অ্যাকোয়া গলফ ভিলা’ আবাসন প্রকল্পকে সম্পূর্ণ বেআইনি চিহ্নিত করে গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের একক বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই অবৈধ বহুতল ও ভিলা নির্মাণ ভেঙে ফেলার সমস্ত বন্দোবস্ত করতে হবে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদকে। কোনো অনুমোদিত নকশা ছাড়াই দিনের পর দিন এমন মেগা প্রকল্প গড়ে ওঠায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আদালত।

Table of Contents

    আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত অবসরপ্রাপ্ত জাহাজের ক্যাপ্টেন অ্যাশলে ব্রায়ান হায়ামসের এক আইনি আবেদনকে কেন্দ্র করে। ২০১৪ সালে তিনি ওই আবাসন প্রকল্পে ১.৫ কোটি টাকা মূল্যের একটি ভিলা বুক করেছিলেন এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডেভেলপার সংস্থাকে প্রায় ৭৮ লক্ষ টাকা মিটিয়েও দেন। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে ভিলা হস্তান্তর করার কথা থাকলেও ডেভেলপার তা করতে ব্যর্থ হয়। দীর্ঘদিন ঘুর ঘুর করার পর প্রকল্পটির বৈধতা নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় তথ্য জানার অধিকার (RTI) আইনে দরখাস্ত করেন ওই অবসরপ্রাপ্ত জওয়ান।

    তথ্য জানার অধিকার আইনের জবাবে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে, তাতে দেখা যায় চাঁদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত, রাজারহাট পঞ্চায়েত সমিতি কিংবা উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ— কারও কাছ থেকেই উক্ত আবাসন তৈরির কোনো নকশা বা অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এমনকি পশ্চিমবঙ্গ রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটি (RERA)-তেও কোনো নথিভুক্তকরণ ছিল না এই প্রকল্পের। পরবর্তীতে রাজারহাটের বিডিও (BDO)-র গঠন করা বিশেষ তদন্তকারী দলের রিপোর্টেও একই দুর্নীতির চিত্র ফুটে ওঠে।

    হাইকোর্টে মামলা চলাকালীন চাঁদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আদালতে হলফনামা দিয়ে স্পষ্ট জানান, ‘অ্যাকোয়া গলফ ভিলা’ নির্মাণের জন্য পঞ্চায়েতের তরফে কোনো অনুমোদন ইস্যু করা হয়নি। সমস্ত নথিপত্র ও প্রশাসনিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ বেআইনি নির্মাণ বন্ধে জেলা পরিষদকে চার সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেন। একই সঙ্গে আইন ভেঙে সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা প্রতারণার বিরুদ্ধে এমন কড়া পদক্ষেপ বার্তা দেবে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।

    No Comments

    তাজা খবর

    আরও পড়ুন