Homeঅন্যান্যভ্রমণপাহাড়ের বদলে সমুদ্রের টান, পুজোয় দিঘা-মন্দারমণিতে বাড়ছে আগাম বুকিং

পাহাড়ের বদলে সমুদ্রের টান, পুজোয় দিঘা-মন্দারমণিতে বাড়ছে আগাম বুকিং

নিউজ ডেস্ক; ঢাকের বাদ্যি, শিউলির গন্ধ আর আকাশে পুজোর মেঘ—বাঙালির কাছে শরতের এই আবহ মানেই উৎসবের অপেক্ষা। আর পুজো এলেই বেড়ানোর পরিকল্পনাও শুরু হয়ে যায়। কেউ পাহাড়ে হারিয়ে যেতে চান,
resizeplus_eisamay_2026-03-19_22wxjrp7_Digha-Sea-Beach

নিউজ ডেস্ক; ঢাকের বাদ্যি, শিউলির গন্ধ আর আকাশে পুজোর মেঘ—বাঙালির কাছে শরতের এই আবহ মানেই উৎসবের অপেক্ষা। আর পুজো এলেই বেড়ানোর পরিকল্পনাও শুরু হয়ে যায়। কেউ পাহাড়ে হারিয়ে যেতে চান, কেউ আবার সমুদ্রের ধারে কয়েকটা দিন কাটিয়ে নিতে চান। তবে এ বার পুজোর ছুটিতে বাঙালির বেড়ানোর পছন্দে কিছুটা বদল দেখা যাচ্ছে। পাহাড়ের তুলনায় সমুদ্রের দিকেই ঝুঁকছেন অনেক পর্যটক। আর সেই প্রবণতার প্রভাব পড়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা ও মন্দারমণির পর্যটন ব্যবসায়।

পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের দাবি, পুজোর ছুটিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই দিঘা ও মন্দারমণির একাধিক হোটেলে আগাম বুকিং শুরু হয়ে গিয়েছে। কোথাও আবার বেশির ভাগ ঘরই আগাম বুক হয়ে যাওয়ার খবর মিলছে। ফলে দুর্গাপুজোর সময় সৈকত শহরগুলিতে পর্যটকের চাপ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা।

কাশ্মীর, রাজস্থান, জলদাপাড়া কিংবা পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি বাঙালির পছন্দের তালিকায় বরাবরই রয়েছে দিঘা ও পুরী। তবে এ বার পাহাড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থেকে কিছু পর্যটক সরে এসে সমুদ্রের দিকে ঝুঁকছেন বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পর পাহাড়মুখী পর্যটকদের একাংশ তাঁদের ভ্রমণ পরিকল্পনা বদলেছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, কয়েক বছর আগেও দুর্গাপুজোর মূল দিনগুলিতে দিঘায় খুব বেশি ভিড় দেখা যেত না। সাধারণত দশমীর পর থেকেই পর্যটকের সংখ্যা বাড়ত। কিন্তু এ বার পরিস্থিতি আলাদা। পুজোর আগেই হোটেলগুলিতে বুকিংয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। সেই প্রবণতা বজায় থাকলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই দিঘার অধিকাংশ হোটেলের ঘর পূর্ণ হয়ে যেতে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

দিঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, পুজোর ছুটিকে কেন্দ্র করে হোটেলগুলিতে আগাম বুকিংয়ের চাহিদা ভালো। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দিঘায় কয়েকটি বড় বাজেটের দুর্গাপুজোও হয়। ফলে বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের পুজোর আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা নেই। অঞ্জলি দেওয়া থেকে শুরু করে পুজোর খাবার—পর্যটকদের জন্য নানা আয়োজন থাকে সৈকত এলাকার বিভিন্ন হোটেল ও পর্যটনকেন্দ্রে।

ওল্ড দিঘার এক হোটেল ব্যবসায়ী সহস্রাংশু মাইতির দাবি, নেপালের বিপর্যয়ের পর পাহাড়ে যাওয়ার ব্যাপারে কিছু পর্যটকের মধ্যে অনীহা তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব দিঘা ও তাজপুরের মতো সমুদ্রকেন্দ্রিক পর্যটনস্থলগুলির বুকিংয়ে পড়েছে বলেই মনে করছেন তিনি।

শুধু দিঘা নয়, মন্দারমণিতেও পুজোর বুকিং নিয়ে আশাবাদী হোটেল ব্যবসায়ীরা। মন্দারমণি হোটেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মির মমরেজ আলি জানিয়েছেন, পুজোর ছুটির জন্য আগাম বুকিং ইতিমধ্যেই ভালো হচ্ছে।

মন্দারমণির এক হোটেল ব্যবসায়ী দেবদুলাল দাস মহাপাত্রও জানিয়েছেন, তাঁর হোটেলে এ বার আগাম বুকিংয়ের প্রবণতা যথেষ্ট ভালো। পর্যটকদের পরিষেবা আরও উন্নত করতে হোটেল কর্মীদের প্রশিক্ষণের উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

ইতিমধ্যে দিঘায় হোটেলকর্মীদের নিয়ে হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ শিবির হয়েছে। রাজ্য শ্রম কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হোটেল কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটকদের পরিষেবার মান উন্নত হলে সৈকতকেন্দ্রিক পর্যটনের ক্ষেত্রেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশা।

সব মিলিয়ে এ বার দুর্গাপুজোর ছুটিতে দিঘা-মন্দারমণির সৈকতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঢাকের আওয়াজ আর কাশফুলের মরশুমে অনেকেই হয়তো পাহাড়ের বদলে বেছে নেবেন সমুদ্রের নোনা হাওয়া। পুজোর আনন্দ, সৈকতের ঢেউ আর কয়েক দিনের ছুটি—এই তিনের মেলবন্ধনেই এ বার বাঙালির পুজোর ভ্রমণ জমে উঠবে কি না, তার উত্তর মিলবে উৎসবের দিনগুলিতেই।

No Comments