Homeকলকাতা২৮৭ কোটির ফান্ডিংয়ে বিফ বিতর্ক? কলকাতার রেস্তোরাঁ কাণ্ডে ইনফ্লুয়েন্সারদের মুখোশ ফাঁস!

২৮৭ কোটির ফান্ডিংয়ে বিফ বিতর্ক? কলকাতার রেস্তোরাঁ কাণ্ডে ইনফ্লুয়েন্সারদের মুখোশ ফাঁস!

resizeplus_287 koti yt

নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রায় ২৮৭ কোটি টাকার খরচের হিসাব প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ভূমিকা। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া দলের ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে মোট ₹286.99 কোটি খরচ করেছে বিজেপি। এর মধ্যে ₹217.16 কোটি সাধারণ প্রচারে এবং ₹69.83 কোটি প্রার্থী ও প্রার্থী-সংক্রান্ত খাতে ব্যয় হয়েছে।

এই হিসাবেই একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরের জন্য অর্থ খরচের তথ্য সামনে এসেছে। তাঁদের মধ্যে অভিনেতা ও ইউটিউবার সায়ক চক্রবর্তীকে দু’টি ভিডিও তৈরির জন্য ₹2.5 লক্ষ দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। নির্বাচনকালীন ডিজিটাল প্রচারে এই ধরনের অর্থপ্রদানের তথ্য সামনে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর মধ্যেই ফের সামনে এসেছে পার্ক স্ট্রিটের Olypub-কে ঘিরে জানুয়ারির বিতর্ক। ওই সময়ে সায়ক চক্রবর্তী একটি অভিযোগ তুলে রেস্তরাঁয় গরুর মাংস পরিবেশনের দাবি করেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর নাম বিজেপির নির্বাচনী খরচের নথিতে উঠে আসায় দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তবে এই যোগসূত্রকে এখনও প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখানো যাচ্ছে না। সায়ক চক্রবর্তী নিজেই এমন কোনও পরিকল্পিত সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিজেপির কাছ থেকে পাওয়া ₹2.5 লক্ষ ছিল নির্বাচনী প্রচারের জন্য তৈরি করা দু’টি ভিডিওর পারিশ্রমিক এবং ওই অর্থ মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে দেওয়া হয়েছিল—অর্থাৎ Olypub-এর জানুয়ারির ঘটনার পরে।

অন্যদিকে, Olypub-এর ম্যানেজারের বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার দিন বিষয়টি অস্বাভাবিকভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল এবং পরে রাজনৈতিক কর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হন। তবে এই বক্তব্যও সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে; কোনও আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ₹286.99 কোটি কোনও ‘বিফ বিতর্ক’ তৈরির জন্য আলাদা করে বরাদ্দ করা অর্থ নয়। এটি ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির মোট রিপোর্ট করা ব্যয়। সেই বৃহৎ নির্বাচনী ব্যয়ের নথির মধ্যেই ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা ও অন্যান্য প্রচার-সংক্রান্ত খরচের তথ্য রয়েছে।

ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনী প্রচারে ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্যবহার এবং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর কোনও বিতর্কের মধ্যে বাস্তবে কতটা সম্পর্ক ছিল। প্রকাশিত নথি অর্থপ্রদানের তথ্য সামনে আনলেও, সেখান থেকে কোনও নির্দিষ্ট বিতর্ক পরিকল্পিত ভাবে তৈরি করা হয়েছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে নেই।

রাজনৈতিক প্রচারে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব যত বাড়ছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে অর্থের উৎস, বিজ্ঞাপন ও কনটেন্টের স্বচ্ছতা। Olypub-কাণ্ড এবং নির্বাচনী খরচের নথিকে ঘিরে নতুন করে যে প্রশ্নগুলি উঠেছে, তার উত্তর মিলবে আরও তথ্য বা তদন্তে।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved