Homeজেলাকোন ফাঁকে ঢুকল দুই বন্ধু? সীমান্ত সুরক্ষার ত্রুটি খুঁজছে বিএসএফ-পুলিশ

কোন ফাঁকে ঢুকল দুই বন্ধু? সীমান্ত সুরক্ষার ত্রুটি খুঁজছে বিএসএফ-পুলিশ

eisamay_2026-06-13_kqahhoxo_Tripura-Bangladesh-border (1)

নিউজ ডেস্ক: সীমান্ত পেরিয়ে দুই বাংলাদেশি যুবক কী ভাবে ভারতের ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ল? কোথায় ছিল নিরাপত্তার ফাঁক? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই রাতের অন্ধকারে দুই ধৃতকে নিয়ে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছল পুলিশ ও বিএসএফ। ঘটনাস্থলে দাঁড় করিয়ে তাঁদের দিয়ে পুরো ঘটনার পুনর্নির্মাণ করানো হল। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট ব্লকের চকভাতশালা সীমান্তে এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে। জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার ধামুরহাট এলাকার বাসিন্দা দুই বন্ধু কোনও বৈধ নথি ছাড়াই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছিল। তাঁদের মধ্যে একজন নাবালক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত প্রাপ্তবয়স্ক যুবক দাবি করেছে, তার বন্ধুর ইচ্ছে ছিল ভারত দেখার। সেই কারণেই পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই তাকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত পার করে এ দেশে ঢোকে সে।

ভারতে ঢোকার পর দু’জন কিছু সময় স্থানীয় একটি জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে ছিল বলে জানা গিয়েছে। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে পড়লে তারা পালানোর চেষ্টা করে। যদিও শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের তৎপরতায় দু’জনকেই আটক করা হয়। পরে পুলিশ তাঁদের হেফাজতে নেয় এবং তপন থানার রামপুর এলাকার একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়।

এরপরই তদন্তে নতুন মোড় আসে। শুধু অনুপ্রবেশের মামলা করে আদালতে পাঠানোর পরিবর্তে পুলিশ জানতে চায়, ঠিক কোন পথ ব্যবহার করে দুই যুবক সীমান্ত পেরিয়েছিল। সেই কারণেই বিএসএফের আধিকারিক ও জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে রাতে তাঁদের চকভাতশালা সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ধৃতদের দেখানো পথ ধরে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, আত্রেয়ী নদীর ধার ঘেঁষে একটি অংশ দিয়ে তাঁরা ভারতে প্রবেশ করেছিল বলে দাবি করেছে। নদী থেকে হাতিশুঁড়া এলাকার একটি পুকুর পর্যন্ত প্রায় ১৫০ মিটার অংশে কাঁটাতারের বেড়া নেই। ওই এলাকায় বিএসএফের নজরদারি থাকলেও কী ভাবে সেই নজর এড়িয়ে দুই যুবক ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ল, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম বিষয়।

ঘটনাকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছে ধৃত প্রাপ্তবয়স্ক যুবকের একটি দাবি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ছ’মাস আগেও একই পথ দিয়ে সে ভারতে এসেছিল বলে জেরায় জানিয়েছে। সে সময় চকভাতশালা এলাকার এক বাসিন্দার বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার কথাও দাবি করেছে সে। যদিও পুলিশ এখনও ওই ব্যক্তির অস্তিত্ব বা ওই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে ধৃত যুবক তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেলার এক পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য, ধৃতরা যে দাবি করছে, তা সত্যি কি না যাচাইয়ের পাশাপাশি সীমান্তে কোথাও নিরাপত্তার ফাঁক রয়েছে কি না, সেটিও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে কাঁটাতারহীন অংশ এবং নজরদারির ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য, যেসব এলাকায় জমিজট বা অন্য কারণে কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব হয়নি, সেই উন্মুক্ত অংশগুলিতে নজরদারি আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে। দুই যুবকের ভারতে প্রবেশের প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধুই ঘোরাঘুরি ছিল, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে—তা নিয়েও তদন্ত চলছে। এখন পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিএসএফের নিরাপত্তা পর্যালোচনাতেই স্পষ্ট হবে, কোন ফাঁক গলে সীমান্ত পেরিয়েছিল দুই বন্ধু।

No Comments