Last updated: October 3rd, 2026 at 12:40 pm

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: হাসপাতালে ভর্তি রোগীর চিকিৎসায় অনেক সময় রক্তের প্রয়োজন হয় জরুরি ভিত্তিতে। কিন্তু প্রয়োজনের মুহূর্তে নির্দিষ্ট গ্রুপের রক্তের জোগান নিয়ে তৈরি হয় সমস্যা। কখনও রোগীর পরিজনদের ছুটতে হয় এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে, কখনও আবার পরিচিতদের কাছে রক্তদাতার খোঁজ করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে রোগীর পরিবার এবং স্বেচ্ছা রক্তদাতা সংগঠনগুলির মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করে রক্তের জোগান সহজ করার উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বেচ্ছা রক্তদানের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলির বক্তব্য, শুধুমাত্র রক্তের প্রয়োজন দেখা দেওয়ার পর দাতা খোঁজার পরিবর্তে সারা বছর ধরে একটি সক্রিয় ডোনার নেটওয়ার্ক তৈরি করা প্রয়োজন। রক্তের গ্রুপ, দাতার অবস্থান এবং রক্তদানের উপযুক্ত সময়ের তথ্য সংগঠিতভাবে থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ করা সম্ভব। পশ্চিমবঙ্গে স্বেচ্ছা রক্তদানের আন্দোলন দীর্ঘদিনের। Association of Voluntary Blood Donors West Bengal-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে আউটডোর শিবিরের মাধ্যমে সংগৃহীত রক্তের ৯৯.৫ শতাংশই স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের কাছ থেকে আসে।
নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হতে পারে রোগীর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছা রক্তদাতা সংগঠনের দ্রুত যোগাযোগ তৈরি করা। কোনও রোগীর নির্দিষ্ট রক্তের প্রয়োজন হলে পরিবারকে হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করার পাশাপাশি সংগঠনের মাধ্যমে উপযুক্ত স্বেচ্ছা দাতার সন্ধান দেওয়া যেতে পারে। এতে আত্মীয়স্বজনের উপর চাপ কমার পাশাপাশি জরুরি সময়ে রক্ত সংগ্রহের প্রক্রিয়াও দ্রুত হতে পারে।
তবে এই ব্যবস্থায় হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্বেচ্ছা দাতা পাওয়া গেলেও রক্ত সংগ্রহ, পরীক্ষা এবং রোগীকে রক্ত দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া অনুমোদিত ব্লাড সেন্টারের মাধ্যমেই হওয়া প্রয়োজন। রক্তদাতার স্বাস্থ্যগত যোগ্যতা এবং রক্তের নিরাপত্তা পরীক্ষা করাও অত্যন্ত জরুরি। রক্তদানের আগে দাতার স্বাস্থ্য ও পূর্ববর্তী রক্তদানের ইতিহাস যাচাইয়ের উপর বিশেষজ্ঞরাও জোর দেন।
রক্তের চাহিদা মেটাতে প্রযুক্তিকেও কাজে লাগানো হচ্ছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছা রক্তদাতা সংগঠন ইতিমধ্যেই ফোন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে দাতা ও রোগীর পরিবারের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করছে। কলকাতাভিত্তিক Project Life Force-ও স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের সঙ্গে রক্তের প্রয়োজন থাকা রোগীদের সংযোগ ঘটানোর পাশাপাশি নিয়মিত রক্তদান শিবির আয়োজনের কথা জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তের জোগানকে শুধু ‘জরুরি প্রয়োজন’-এর বিষয় হিসেবে না দেখে নিয়মিত স্বেচ্ছা রক্তদানের সংস্কৃতি গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ। সেই সঙ্গে রোগীর পরিবার, হাসপাতাল এবং স্বেচ্ছা রক্তদাতা সংগঠনের মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হলে সংকটের সময়ে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে।
ফলে রক্তের ঘাটতি মেটাতে নতুন কোনও একক ব্যবস্থার পরিবর্তে স্বেচ্ছা রক্তদান, সংগঠিত ডোনার ডেটাবেস, হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্ক এবং রোগীর পরিবারের মধ্যে সমন্বয়কেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই—জরুরি মুহূর্তে রক্তের জন্য যেন কোনও পরিবারকে অসহায় হয়ে ঘুরতে না হয়।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments