নিউজ ডেস্ক: সরকারি দফতরে দালালদের দৌরাত্ম্য রুখতে এবার কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। সাধারণ মানুষকে জমি সংক্রান্ত কাজের জন্য আর যাতে দফতরে দফতরে অযথা হয়রান হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের ভূমি ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা। নদিয়া জেলা প্রশাসনিক ভবনে ভূমি দফতরের কাজের গতি ও স্বচ্ছতা পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক বিশেষ প্রশাসনিক বৈঠক ও সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভূমি দফতরে কোনোভাবেই দালালচক্র বা মধ্যস্বত্বভোগীদের বরদাস্ত করা হবে না।
এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকে মন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জেলার বিধায়কগণ, এডিএম (এলআর), বিএলআর এবং এসডি এলএলআর-সহ দপ্তরের পদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। বৈঠকে মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দেন, জমি মিউটেশন, চরিত্র বদল বা ধর্মান্তরণ (কনভার্শন), বর্গাদার ও পাট্টা সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যা এবং রিফিউজি পুনর্বাসনের রেকর্ড সংশোধনের মতো কাজগুলি অত্যন্ত দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে নিষ্পত্তি করতে হবে। সাধারণ মানুষ যেন অকারণে হয়রানির শিকার না হন এবং তাঁদের যাতে বারবার সরকারি অফিসে চক্কর কাটতে না হয়, তার স্থায়ী সমাধান করাই সরকারের বর্তমান অগ্রাধিকার। একইসঙ্গে রাজ্যের শিল্পায়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের স্বার্থে পর্যাপ্ত ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’ তৈরির কাজও যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এগোচ্ছে, সে কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো নিয়ে বলতে গিয়ে মন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্তে বিএসএফ-এর (BSF) কাঁটাতারের বেড়া বা ফেন্সিং দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই ৯২ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি যে সামান্য অংশের জমির প্রকৃত মালিকদের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি, সেখানে আইনি পথে নির্দিষ্ট ছয় মাসের নোটিশ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এই আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়া মাত্রই কাঁটাতারের কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। পাশাপাশি, কৃষ্ণনগর–নবদ্বীপ ঘাট রেললাইন সম্প্রসারণ-সহ বেশ কিছু রেল প্রকল্পে যে জমিজট তৈরি হয়েছে, তা আর ঝুলিয়ে না রেখে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
তবে এদিনের বৈঠকে মন্ত্রী সবচেয়ে বেশি সরব হয়েছেন দপ্তরের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতি ও দালালরাজের বিরুদ্ধে। জমি হাতাতে দালালচক্রের কারসাজি এবং অতীতে তৈরি হওয়া একাধিক ভুয়ো রেকর্ডের বিষয়ে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন। মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, “সরকারি দফতরে কোনোভাবেই দালালচক্রের স্থান থাকবে না।” অতীতে কীভাবে এই ভুয়ো রেকর্ডগুলি তৈরি হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং প্রমাণিত হলে অবিলম্বে সেই সমস্ত বেআইনি রেকর্ড বাতিল করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে তিনি আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে সতর্ক করে দেন, যদি কোনো আধিকারিক বা কর্মীর বিরুদ্ধে দালালদের মদত দেওয়ার বা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে, তবে কাউকে রেয়াত করা হবে না, কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার। দপ্তরের সমস্ত আধিকারিককে অত্যন্ত সততা, স্বচ্ছতা ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments