Homeজেলারাতের অন্ধকারে বনশূকরের তাণ্ডব! বিঘার পর বিঘা ফসল নষ্ট আড়ংঘাটায়, মাথায় হাত কৃষকদের

রাতের অন্ধকারে বনশূকরের তাণ্ডব! বিঘার পর বিঘা ফসল নষ্ট আড়ংঘাটায়, মাথায় হাত কৃষকদের

arangghata

নিউজ ডেস্ক: হাড়ভাঙা পরিশ্রম আর অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ফলানো সোনার ফসল একরাতেই শেষ! রাতের অন্ধকারে দল বেঁধে নেমে আসছে বুনো শূকরের পাল, আর চোখের পলকে তছনছ করে দিচ্ছে বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি। নদিয়া জেলার আড়ংঘাটা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতে গত বেশ কিছুদিন ধরে বনশূকরের এই লাগাতার তাণ্ডবে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। সকালে মাঠে গিয়ে ফসলের চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতি ও ছিন্নভিন্ন অবস্থা দেখে রীতিমতো মাথায় হাত পড়েছে অন্নদাতাদের। একদিকে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে একরাতের মধ্যে ফসলের এমন করুণ পরিণতি— সব মিলিয়ে চরম আর্থিক দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে আড়ংঘাটার চাষিদের।

স্থানীয় কৃষক ও গ্রামবাসীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই আড়ংঘাটা এলাকার বিভিন্ন মাঠে গভীর রাতে হানা দিচ্ছে একদল বুনো শূকর। জঙ্গল বা ঝোপঝাড়ের আড়াল থেকে রাতের অন্ধকারে বেরিয়ে এসে তারা সরাসরি ঢুকে পড়ছে চাষের জমিতে। ধান থেকে শুরু করে মাঠের পর মাঠ সদ্য ফলানো আনাজপাতির ওপর ব্যাপক তাণ্ডব চালাচ্ছে এই বনশূকরের দল। ফসল খেয়ে নষ্ট করার পাশাপাশি দাপাদাপি করে বিঘার পর বিঘা জমির ফসল কার্যত মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছে তারা।

ভোরবেলা সূর্য ওঠার পর কৃষকরা যখন নিজেদের জমিতে কাজে যাচ্ছেন, তখন চোখের সামনে ফসলের এই ধ্বংসলীলা দেখে তাঁদের চোখে জল। যে ধানের শীষ বা আনাজ বিক্রি করে সারা বছরের সংসার চলার কথা, তা এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। কৃষকদের আক্ষেপ, অনেক আশা নিয়ে মহাজনের কাছ থেকে ঋণ করে বা ধারদেনা করে তাঁরা এই ফসল ফলিয়েছিলেন। কিন্তু শূকরের পালের এই লাগাতার হানায় তাঁদের সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বনশূকরের হাত থেকে ফসল বাঁচাতে অনেকে রাত জেগে পাহারা দেওয়ার চেষ্টাও করছেন, কিন্তু হিংস্র বন্যপ্রাণীর সামনে দাঁড়িয়ে খালি হাতে ফসল বাঁচানো আক্ষরিক অর্থেই প্রাণঘাতী এবং অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে চরম অসহায়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন আড়ংঘাটার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারগুলি। তাঁদের এখন একটাই স্পষ্ট দাবি— বন দফতর এবং স্থানীয় প্রশাসন যেন দ্রুত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে। অবিলম্বে এই বুনো শূকরের উপদ্রব থেকে কৃষকদের এবং তাঁদের বহুমূল্য ফসলকে রক্ষা করার জন্য বনকর্মীদের টহলদারি বাড়ানো এবং উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। একইসঙ্গে, যে সমস্ত কৃষকের বিঘার পর বিঘা ফসল নষ্ট হয়ে গিয়ে আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে গিয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে সরকারি ক্ষতিপূরণ বা আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থা করা হোক, এমনটাই দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে বৃহত্তর ক্ষতির মুখে পড়তে হবে গোটা এলাকার কৃষি অর্থনীতিকে।

No Comments

আরও পড়ুন

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved