Homeদেশমোদীর সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব থাকলেও…’, ইউক্রেন যুদ্ধে নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে কী বললেন পুতিন?

মোদীর সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব থাকলেও…’, ইউক্রেন যুদ্ধে নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে কী বললেন পুতিন?

WhatsApp Image 2026-10-02 at 15.50.53

নিউজ ডেস্ক: ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলেও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রশ্নে নয়াদিল্লি যে মস্কোর পক্ষে সরাসরি অবস্থান নেয়নি, তা ফের উল্লেখ করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৃহস্পতিবার মস্কোয় ভালদাই ডিসকাশন ক্লাবের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। পুতিনের দাবি, দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও মোদী বার বার ইউক্রেন সংঘাতের অবসানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।

পুতিন বলেন, মোদী এমন এক রাষ্ট্রনেতা, যাঁর সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো এবং ব্যক্তিগত স্তরেও তাঁদের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। কিন্তু সেই সম্পর্কের বাইরে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত ইউক্রেনের সংঘাত বন্ধ করার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধের অবসানের জন্য মোদীর নিজস্ব কিছু চিন্তাভাবনা রয়েছে এবং সেগুলিকে তিনি ‘ভালো ধারণা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

রুশ প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানের কথাও। পুতিনের ভাষ্য, ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারত একটি নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখলেও যুদ্ধের অবসানে তাদের আগ্রহ রয়েছে। পারস্পরিক ভাবে গ্রহণযোগ্য কোনও সমাধান খুঁজে বের করার বিষয়ে মোদীর আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

পুতিন আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ উপায়ে যত দ্রুত সম্ভব সংঘাতের অবসান ঘটানোর বিষয়ে মোদীর আগ্রহ এবং তাঁর দেওয়া বিভিন্ন ভাবনার জন্য রাশিয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ভারতের এই অবস্থান অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ৩১ অগস্ট কিরঘিজ়স্তানের বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মোদী। সেই বৈঠকে মোদী জানিয়েছিলেন, সংঘাতের সমাধানের পথ হল আলোচনা ও কূটনীতি এবং ভারত শান্তির সমস্ত প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে।

পরে সেপ্টেম্বরে ভারতে BRICS সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছিলেন পুতিন। সেই সময়ও দুই নেতার বৈঠকে ইউক্রেন-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দুই নেতা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং সংঘাত নিরসনে আলোচনা ও কূটনীতির গুরুত্বের কথা উঠে আসে।

২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারত মস্কোর সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতির পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে নয়াদিল্লি। রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি নিয়েও পশ্চিমী দেশগুলির সঙ্গে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ভারত অবশ্য নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের যুক্তিতে ওই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছে।

ফলে পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নয়াদিল্লির পৃথক কূটনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও মোদী সংঘাতের অবসানের বিষয়টি নিয়মিত তাঁর সামনে তুলে ধরেছেন।

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved