Homeদেশসমুদ্রে নামার সময়ে বুঝতেই পারেনি…’, মহারাষ্ট্রে কী ভাবে মৃত্যু হলো আট পড়ুয়ার?

সমুদ্রে নামার সময়ে বুঝতেই পারেনি…’, মহারাষ্ট্রে কী ভাবে মৃত্যু হলো আট পড়ুয়ার?

eisamay_2026-10-02_ibztamrn_New-Project-2026-10-02T101408.718

নিউজ ডেস্ক: পিকনিকের আনন্দ মুহূর্তেই বদলে গেল ভয়াবহ শোকে। সমুদ্রের জলের গভীরতা এবং স্রোতের তীব্রতা বুঝতে না পেরে মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার দিব্যাগড় সমুদ্রসৈকতে তলিয়ে গেলেন আট পড়ুয়া। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনায় মৃত আট জনের প্রত্যেকের বয়স ১৬ বছর। তাঁরা পুনের আলন্দির একটি বেসরকারি কোচিং প্রতিষ্ঠান ‘উইনার্স অ্যাকাডেমি’র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া ছিলেন।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মোট ৪৮ জনের একটি দল পিকনিকে গিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ২৫ জন ছাত্র, ১৭ জন ছাত্রী এবং ছ’জন শিক্ষক। পুনে থেকে বাসে করে দলটি দিব্যাগড়ে পৌঁছয়। সমুদ্রসৈকতে যাওয়ার পর কয়েক জন পড়ুয়া জলে নামেন। সেই সময়ই বিপত্তি ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, জলের গভীরতা এবং সমুদ্রের স্রোতের সঠিক আন্দাজ করতে পারেননি পড়ুয়ারা। ফলে স্রোতের টানে তাঁরা অপেক্ষাকৃত গভীর জলের দিকে চলে যান এবং আট জন তলিয়ে যান। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ বলে পুলিশ জানিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা এবং ওয়াটার স্পোর্টস কর্মীরা খবর পেয়েই উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁদের সঙ্গে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীরাও উদ্ধারকাজে যোগ দেন। বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় আট পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দেহগুলি বোর্লি পঞ্চায়তনের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় ময়নাতদন্তের জন্য।

ঘটনার পরেই সামনে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। স্থানীয় সূত্রের দাবি, যে অংশে পড়ুয়ারা জলে নেমেছিলেন, সেটি বর্ষার পরে অপেক্ষাকৃত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। সমুদ্রের জল ঠেকাতে তৈরি কাঠামোয় ঢেউয়ের ধাক্কা এবং জল সরে যাওয়ার ফলে বালির মধ্যে গর্ত তৈরি হয়েছিল বলে স্থানীয়দের বক্তব্য। পড়ুয়ারা যখন জলে নামেন, তখন ভাটার সময় ছিল। ওই গর্ত এবং স্রোতের কারণে তাঁদের আচমকা গভীর জলের দিকে টেনে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয় সূত্রে প্রাথমিক অনুমান। তবে এই বিষয়টি তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে।

মৃত আট পড়ুয়ার পরিচয়ও প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁরা হলেন তন্ময় দত্তাত্রেয় ভাহিলে, সুমিত ভারত আহিরে, প্রণব রামদাস বনসোড়ে, কৈবল্য সতীশ ওয়াসকর, রাজবীর যুবরাজ ভাহিলে, যশ কিরণ ওয়ানখেড়ে, সোহম তুকারাম ভান্ডবলকর এবং কৌস্তুভ সন্দীপ দৌন্ড।

এ দিকে দুর্ঘটনার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরফে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, বিপজ্জনক সমুদ্র এলাকায় ছাত্রছাত্রীদের নামার বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে নজরে রাখা প্রয়োজন ছিল। তবে পুরো বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে আপাতত দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পড়ুয়াদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যও নেওয়া হবে।

শুক্রবার সকালে মৃত পড়ুয়াদের দেহ আলন্দিতে পৌঁছয়। একসঙ্গে আট কিশোরের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। তাঁদের অনেকেই একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছিলেন—উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখার বয়সেই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় থেমে গেল তাঁদের জীবন

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved