Homeঝাড়গ্রামবালিভাষাপুজোর মুখে কাজ হারালেন ৮০ টোলকর্মী, পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা

পুজোর মুখে কাজ হারালেন ৮০ টোলকর্মী, পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা

eisamay_2026-10-02_xdtuw35q_balkibhasa

নিউজ ডেস্ক: দুয়ারে পুজো। জমে উঠেছে বাজারও। উৎসবের মরসুমে যখন ব্যস্ততা তুঙ্গে, ঠিক তখনই কাজ হারানোর অভিযোগ উঠল ঝাড়গ্রামের বালিভাষা টোল প্লাজার ৮০ জন কর্মীর। পুনর্বহালের দাবিতে বৃহস্পতিবার খড়্গপুর-চিচিড়া ৪৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ওই টোল প্লাজার সামনে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। পরে পুলিশের তরফে ঠিকাদার সংস্থার সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষোভ প্রত্যাহার করেন কর্মীরা।

২০২০ সালের জুলাই মাসে বালিভাষা টোল প্লাজা চালু হওয়ার সময় থেকেই ঠিকাদার সংস্থার অধীনে কাজ করছিলেন এই ৮০ জন। স্টাফ ইনচার্জ, ট্র্যাফিক মার্শাল, টোল কালেক্টর, লেন অ্যাসিস্ট্যান্ট, ইলেকট্রিশিয়ান, সুইপার, পিওন-সহ বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন তাঁরা। কর্মীদের দাবি, টোল প্লাজার কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার সংস্থা গত কয়েক বছরে প্রায় সাত বার পরিবর্তন হলেও তাঁদের কর্মসংস্থানে কোনও প্রভাব পড়েনি। পুরোনো কর্মীরাই নতুন সংস্থার অধীনেও কাজ চালিয়ে গিয়েছেন।

কর্মীদের ইউনিয়নের সভাপতি শান্তনু মাহাতোর অভিযোগ, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পুরোনো ঠিকাদার সংস্থার মেয়াদ শেষ হয়। ১ অক্টোবর নতুন একটি সংস্থা টোল প্লাজার দায়িত্ব নেয়। কিন্তু পুরোনো কর্মীদের কোনওরকম নোটিস বা আগাম খবর না দিয়েই কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, পুরোনো কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নতুন করে লোক নিয়োগ করা হচ্ছে। পুজোর মুখে আচমকা কর্মসংস্থান হারিয়ে সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা।

জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এনএইচআইটি নামে একটি সংস্থা টোলটির সামগ্রিক দায়িত্ব নেয়। টোল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন সময়ে ঠিকাদার সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ঠিকাদার পরিবর্তনের পরই পুরোনো কর্মীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

যদিও কর্মীদের নিয়োগ বা বরখাস্তের ক্ষেত্রে তাঁদের কোনও ভূমিকা নেই বলে জানিয়েছেন এনএইচআইটির প্রজেক্ট হেড মিন্টু নন্দী। তাঁর বক্তব্য, টোল পরিচালনার দায়িত্ব ঠিকাদার সংস্থাকে দেওয়া হয় এবং তারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী নিয়োগ করে। কর্মীদের নিয়োগ বা বরখাস্তের বিষয়ে এনএইচআইটির সরাসরি কোনও ভূমিকা নেই।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক যোগের অভিযোগও সামনে এসেছে। বিক্ষোভকারী কর্মীদের একাংশের দাবি, তাঁরা তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঠিকাদার সংস্থা পরিবর্তনের পর বিজেপি-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অস্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ দিন আদিবাসী কুড়মি সমাজের ব্যানার ও পতাকা নিয়ে টোল প্লাজার সামনে বিক্ষোভ করেন কর্মীরা। তবে সংগঠনের ঝাড়গ্রাম জেলা সভাপতি তরুণ মাহাতো সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেন, ওই কর্মসূচির সঙ্গে সংগঠনের কোনও সম্পর্ক নেই। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও টোল কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, বিক্ষোভকারী কর্মীদের দাবি, আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা মূলখুঁটি অজিতপ্রসাদ মাহাতোর সঙ্গে যোগাযোগ করেই তাঁরা সংগঠনের পতাকা ও ফেস্টুন ব্যবহার করেছেন। অজিতপ্রসাদ তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন বলে দাবি কর্মীদের। আপাতত পুলিশের আলোচনার আশ্বাসে বিক্ষোভ উঠলেও, ৮০ জন কর্মীর পুনর্বহাল নিয়ে জটিলতা এখনও কাটেনি।

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved