Homeজেলামোবাইল ছেড়ে মাঠে ফিরুক খুদেরা, পড়ুয়াদের নিয়ে ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন স্কুলের

মোবাইল ছেড়ে মাঠে ফিরুক খুদেরা, পড়ুয়াদের নিয়ে ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন স্কুলের

নিউজ ডেস্ক; মাঠ ফাঁকা পড়ে থাকছে, অথচ ছোটদের হাতে ক্রমেই জায়গা করে নিচ্ছে মোবাইল ফোন। এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের ফের খেলাধুলোর জগতে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নিল পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরের বাড়কমল
resizeplus_eisamay_2026-09-17_x77owuov_Medinipur-News

নিউজ ডেস্ক; মাঠ ফাঁকা পড়ে থাকছে, অথচ ছোটদের হাতে ক্রমেই জায়গা করে নিচ্ছে মোবাইল ফোন। এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের ফের খেলাধুলোর জগতে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নিল পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরের বাড়কমল প্রাথমিক বিদ্যালয়। পড়ুয়াদের নিয়ে আয়োজন করা হল আন্তঃস্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতার। বুধবার বাড়কমল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বসে সেই ফুটবল ম্যাচের আসর।

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর থেকেই এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিকে নিয়ে এই আন্তঃস্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন শুরু হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের নিয়মিত খেলাধুলোর সঙ্গে যুক্ত করা এবং মোবাইলনির্ভরতা থেকে তাদের দূরে রাখা। এ বারও সবং পশ্চিম চক্রের একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

আয়োজক বাড়কমল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় মাঠে নামে দণ্ডরা-২ প্রাথমিক স্কুল, সিংপুর প্রাথমিক স্কুল, দেউলি নীলকণ্ঠ প্রাথমিক স্কুল, নীলাতালদা প্রাথমিক স্কুল, কলসবাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়চারা পূর্বপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং খলাগেড়্যা প্রাথমিক বিদ্যালয়। খুদে ফুটবলারদের নিয়ে দিনভর চলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

ফাইনালে মুখোমুখি হয় বাড়কমল প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বড়চারা পূর্বপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। টানটান লড়াইয়ের শেষে ২-১ গোলে আয়োজক স্কুলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বড়চারা পূর্বপাড়া। বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন মৃণাল কান্তি মুর্মু। রানার্স দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন সঞ্জয় দত্ত।

শুধু ট্রফি দিয়েই শেষ হয়নি পুরস্কার বিতরণী। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক পড়ুয়া এবং স্কুলকে মেডেল ও শংসাপত্র দেওয়া হয়। প্রতিটি ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পাশাপাশি ‘ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট’ এবং সেরা গোলরক্ষকের জন্যও ছিল বিশেষ পুরস্কার। সেমিফাইনালে পরাজিত দুই দলকেও পুরস্কৃত করা হয়।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্রীকান্ত ভুঁইয়া জানান, সকলের সহযোগিতাতেই এই আয়োজন সম্ভব হয়েছে। তাঁর কথায়, লক্ষ্য হল প্রতিটি পড়ুয়াকে মাঠমুখী করা। খেলাধুলোর মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও পড়ুয়াদের মাঠে ফেরানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য, এক সময় যে মাঠে খুদেদের ছুটে বেড়ানোর কথা, অনেক জায়গাতেই সেই মাঠ এখন ফাঁকা। ছোট বয়স থেকেই মোবাইলের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হওয়ায় নিয়মিত খেলাধুলোর অভ্যাস কমছে। সেই প্রবণতা বদলাতেই এই ধরনের প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ।

খেলার পাশাপাশি মেয়েদের জন্যও রাখা হয়েছিল বিশেষ আয়োজন। ফাইনালের আগে প্রীতিলতা ও নিবেদিতা নামে দুই দলের মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খুদে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন অভিভাবকরাও। ফলে শুধু প্রতিযোগিতা নয়, স্কুলের এই উদ্যোগে তৈরি হয় খেলাধুলাকে ঘিরে এক উৎসবের পরিবেশ।

আয়োজকদের আশা, এই ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত হলে পড়ুয়াদের মধ্যে মাঠে খেলার আগ্রহ বাড়বে। মোবাইলের পর্দার বদলে মাঠের সবুজ ঘাসেই যেন ছোটদের সময় কাটে—এই লক্ষ্যেই ফুটবলকে হাতিয়ার করে এগোতে চাইছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

No Comments