Last updated: September 17th, 2026 at 01:21 pm

নিউজ ডেস্ক; দীর্ঘদিনের বিরতির পর ফের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে রাইটার্স বিল্ডিংকে ব্যবহার করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ঐতিহাসিক এই ভবনের একাধিক অংশে সংস্কার ও পরিকাঠামোগত কাজ চলছে। এর মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী-সহ ছয় মন্ত্রীর জন্য চেম্বার প্রস্তুত করার কাজ এগোচ্ছে বলে খবর। পূর্ত দফতরের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় সংস্কার, সাজসজ্জা এবং পরিকাঠামো তৈরির কাজ চলছে।
রাইটার্স বিল্ডিংকে ফের প্রশাসনিক কাজে ব্যবহার করার বিষয়টি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর নতুন করে সামনে আসে। মে মাসে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ভবনটির ১ এবং ২ নম্বর ব্লকের কিছু অংশ তাৎক্ষণিক ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা চলছে। দ্বিতীয় তলায় মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সাময়িক ভাবে করার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছিল। পাশাপাশি পুরনো প্রথম তলার চেম্বারগুলির সংস্কারের কাজ চলছিল।
প্রশাসনিক ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে ভবনের বিভিন্ন অংশে একাধিক কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। আলো, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, আসবাব, অফিসের পরিকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম বসানোর মতো কাজকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষেও রাইটার্স বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন অংশে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকাঠামোগত কাজের জন্য সরকারি টেন্ডার প্রকাশিত হয়েছে। মন্ত্রীদের চেম্বারে ৫৫ ইঞ্চির এলইডি টেলিভিশন সরবরাহ ও বসানোর জন্যও টেন্ডারের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
রাইটার্স বিল্ডিংয়ের প্রশাসনিক গুরুত্ব অবশ্য নতুন নয়। একসময় এই ভবন থেকেই পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হত। পরে রাজ্য সরকারের অধিকাংশ দফতর নবান্নে স্থানান্তরিত হওয়ার পর রাইটার্সের ব্যবহার অনেকটাই সীমিত হয়ে যায়। ভবনটির ঐতিহাসিক চরিত্র অক্ষুণ্ণ রেখে সংস্কার করার কাজও দীর্ঘদিন ধরে চলেছে।
২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, রাইটার্স বিল্ডিংয়ের পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য রাজ্য সরকার আগে ২০০ কোটি টাকা অনুমোদন করেছিল। তবে ভবনের সব অংশ একই সঙ্গে ব্যবহারের উপযোগী হয়ে ওঠেনি। তাই ধাপে ধাপে বিভিন্ন ব্লক ও তলা প্রশাসনিক কাজের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।
এখন মুখ্যমন্ত্রী-সহ ছয় মন্ত্রীর চেম্বার প্রস্তুতির কাজ সামনে আসায় রাইটার্স বিল্ডিংকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কোন ছয় মন্ত্রীর জন্য কোন চেম্বার নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং তাঁরা কবে থেকে সেখানে বসবেন, সেই বিষয়ে প্রকাশ্য সরকারি নথিতে বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে চূড়ান্ত বরাদ্দ ও সময়সূচি নিয়ে সরকারি নির্দেশের দিকেই নজর রয়েছে।
রাইটার্সে মন্ত্রীদের চেম্বার প্রস্তুত করার এই উদ্যোগের সঙ্গে ভবনের সামগ্রিক সংস্কার কাজেরও যোগ রয়েছে। পুরনো স্থাপত্যের সঙ্গে আধুনিক অফিস-পরিকাঠামোর সমন্বয় করাই এখানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঐতিহাসিক ভবন হওয়ায় সংস্কারের ক্ষেত্রে কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং ঐতিহ্য রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি রাইটার্স বিল্ডিংকে নতুন ভাবে সাজানোর ফলে সরকারি কর্মী, আধিকারিক এবং মন্ত্রীদের কাজের পরিবেশেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ভবনের কতটা অংশ নিয়মিত ভাবে ব্যবহার করা হবে এবং কোন কোন দফতর বা মন্ত্রীর দফতর সেখানে স্থানান্তরিত হবে, তা ধাপে ধাপে স্পষ্ট হবে।
এই মুহূর্তে পূর্ত দফতরের কাজের গতি এবং চেম্বার প্রস্তুতির অগ্রগতির দিকেই নজর প্রশাসনিক মহলের। ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ের একাংশ ফের সক্রিয় প্রশাসনিক কেন্দ্র হয়ে উঠতে চলেছে কি না, তা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী নির্দেশনার ভিত্তিতেই বিষয়টির পূর্ণ চিত্র পরিষ্কার হবে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments