Homeরাজ্যপিছিয়ে থাকা ব্লকে বিশেষ প্রশিক্ষণ, পঞ্চায়েত প্রধানদের ইস্তফা ও উপনির্বাচন নিয়ে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য

পিছিয়ে থাকা ব্লকে বিশেষ প্রশিক্ষণ, পঞ্চায়েত প্রধানদের ইস্তফা ও উপনির্বাচন নিয়ে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য

নিউজ ডেস্ক ; রাজ্যের বিভিন্ন ব্লকে উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়ানো এবং প্রশাসনিক স্তরে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পিছিয়ে থাকা ব্লকগুলির পরিস্থিতি পর্যালোচনা থেকে শুরু করে বিডিও-দের
resizeplus_WhatsApp Image 2026-09-16 at 2.08.20 AM

নিউজ ডেস্ক ; রাজ্যের বিভিন্ন ব্লকে উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়ানো এবং প্রশাসনিক স্তরে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পিছিয়ে থাকা ব্লকগুলির পরিস্থিতি পর্যালোচনা থেকে শুরু করে বিডিও-দের বিশেষ প্রশিক্ষণ—একাধিক বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বক্তব্য রাখলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।

দিলীপ ঘোষ জানান, রাজ্যের একাধিক জেলায় জেলাশাসক থেকে পঞ্চায়েত সচিব স্তর পর্যন্ত প্রশাসনিক কাজের পর্যালোচনা করা হয়েছে। কোন কোন ব্লকে উন্নয়নের কাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না, কোথায় প্রশাসনিক সমস্যা রয়েছে এবং কোন জায়গায় অতিরিক্ত নজর প্রয়োজন—তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভূমি দফতর থেকে দায়িত্ব নিয়ে আসা বেশ কিছু বিডিও পঞ্চায়েত স্তরের প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যার মুখে পড়ছেন। সেই পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিভিন্ন জেলা থেকে নির্বাচিত প্রায় ১০০ জন বিডিও-কে নিয়ে এক দিনের বিশেষ ওরিয়েন্টেশন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ওই প্রশিক্ষণে বিডিওদের সমস্যাগুলি শোনা হচ্ছে এবং কী ভাবে দ্রুত তার সমাধান করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রাথমিক পর্যায়ের এই প্রশিক্ষণের পর আরও একশোর বেশি বিডিও-কে একই ধরনের ওরিয়েন্টেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত শেষ করাই এর অন্যতম লক্ষ্য বলে দাবি করা হয়েছে।

অনিয়ম হলে দায় নেবে না সরকার

পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ এবং বকেয়া টাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, নিয়ম মেনে সম্পন্ন হওয়া কাজের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের প্রাপ্য অর্থ পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে কোনও প্রকল্পে অনিয়ম বা নিয়মবহির্ভূত কাজের অভিযোগ থাকলে তার দায় সরকার নেবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

কোথাও কোনও অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত এবং পর্যালোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি যে সব উন্নয়নমূলক কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলি শেষ করার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তাঁর দাবি। পুজোর পর বিভিন্ন এলাকায় কাজের গতি আরও বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।

পঞ্চায়েত প্রধানদের ইস্তফা নিয়েও মন্তব্য

রাজ্যের কয়েকটি পঞ্চায়েতে প্রধানদের পদত্যাগের প্রসঙ্গও উঠে আসে সাংবাদিকদের প্রশ্নে। এ বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, কোনও পঞ্চায়েত প্রধান পদত্যাগ করলেও উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ থাকবে না। সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি মেনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু রাখা হবে।

প্রয়োজনে পঞ্চায়েতে প্রশাসক নিয়োগ করে বিডিও-র তত্ত্বাবধানে কাজ চালিয়ে যাওয়া হতে পারে বলেও তিনি জানান। তাঁর বক্তব্য, স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে যাতে সাধারণ মানুষের পরিষেবা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্প ব্যাহত না হয়, সে দিকেই নজর দেওয়া প্রয়োজন।

উপনির্বাচন নিয়েও আক্রমণাত্মক দিলীপ

আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, বিরোধী শিবিরে এখনও জোট এবং প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের টানাপোড়েন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীরা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করলে নির্বাচনের সময়সীমাই এগিয়ে যাবে।

তবে দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। উপনির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন দলের প্রার্থী নির্বাচন, আসন সমঝোতা এবং প্রচার কৌশল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।

উপনির্বাচনে নিহত চিকিৎসকের মাকে প্রার্থী করা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ অতীতের নন্দীগ্রাম নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁর বক্তব্য, এর আগেও শহিদের পরিবারের সদস্যকে প্রার্থী করার নজির রয়েছে। তাঁর মতে, রাজনীতিতে যে কোনও ব্যক্তি প্রার্থী হতে পারেন এবং কোনও প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আবেগও রাজনৈতিক দলগুলি বিবেচনায় রাখে।

সব মিলিয়ে প্রশাসনিক স্তরে পিছিয়ে থাকা ব্লকগুলিতে বিশেষ নজর, বিডিওদের প্রশিক্ষণ, পঞ্চায়েতের কাজের পর্যালোচনা এবং আসন্ন উপনির্বাচন—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একইসঙ্গে উঠে এল দিলীপ ঘোষের সাংবাদিক বৈঠকে। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

No Comments