Homeহুগলিচুঁচুড়াপুজোর মুখে বেতন নেই মাসের পর মাস, হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভায় অস্থায়ী কর্মীদের বিক্ষোভ

পুজোর মুখে বেতন নেই মাসের পর মাস, হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভায় অস্থায়ী কর্মীদের বিক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক; পুজোর আর বেশি দেরি নেই। বাজারে শুরু হয়ে গিয়েছে উৎসবের প্রস্তুতি। কিন্তু হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের একাংশের ঘরে সেই উৎসবের আমেজ কার্যত উধাও। কারও বেতন বাকি দু’মাস, কারও
resizeplus_Screenshot 2026-09-15 123639_edited

নিউজ ডেস্ক; পুজোর আর বেশি দেরি নেই। বাজারে শুরু হয়ে গিয়েছে উৎসবের প্রস্তুতি। কিন্তু হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের একাংশের ঘরে সেই উৎসবের আমেজ কার্যত উধাও। কারও বেতন বাকি দু’মাস, কারও আবার তিন মাস। মাসের পর মাস বেতন না মেলায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। উৎসবের আগে বকেয়া বেতন মেটানোর দাবিতে মঙ্গলবার পুরসভার গেটে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেন বিভিন্ন বিভাগের অস্থায়ী কর্মীরা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুরসভার মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী এবং ফি কালেক্টরদের প্রায় তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। অন্য দিকে, পুরসভার দফতরে কর্মরত সাফাইকর্মী, নিরাপত্তারক্ষী, পিওন, অ্যাম্বুল্যান্স ও গাড়ির চালকদের মতো কর্মীদের প্রায় দু’মাস ধরে বেতন হয়নি। পুজোর আগে বেতন না পাওয়ায় তাঁদের অনেকেরই সংসারে টান পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামলানোই যেখানে কঠিন, সেখানে উৎসবের কেনাকাটা নিয়ে ভাবার সুযোগ নেই বলেই দাবি আন্দোলনকারীদের।

এই পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার একাধিক বিভাগের অস্থায়ী কর্মীরা একজোট হয়ে পুরসভার সামনে অবস্থান শুরু করেন। তাঁদের মূল দাবি, দ্রুত বকেয়া বেতন মেটাতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ করার পরেও নির্দিষ্ট সময়ে পারিশ্রমিক না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে কর্মীদের মধ্যে। তাঁদের বক্তব্য, পুরসভার দৈনন্দিন কাজকর্মের একটি বড় অংশই অস্থায়ী কর্মীদের উপর নির্ভরশীল। অথচ সেই কর্মীদেরই নিয়মিত বেতন দেওয়া হচ্ছে না।

বিক্ষোভ চলাকালীন চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগ আন্দোলনকারী কর্মীদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি জানান, আন্দোলনকারীদের প্রায় আড়াই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত এক মাসের বেতন দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

সুবীরের কথায়, হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভায় প্রায় আড়াই হাজার অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন। এক মাসের বেতন মেটাতেই প্রায় ছ’কোটি টাকা প্রয়োজন। সেই অর্থের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হবে বলেও জানান তিনি। পুজোর আগে যাতে আরও কিছুটা বকেয়া মেটানো সম্ভব হয়, সে বিষয়েও সরকারের কাছে অনুরোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন বিধায়ক।

তবে বেতন সমস্যার পাশাপাশি পুরসভায় অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সুবীর। তাঁর অভিযোগ, গত কয়েক বছরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সংখ্যক কর্মীকে পুরসভায় নিয়োগ করা হয়েছে। এমনকী সরকারি অনুমোদন ছাড়াই বহু মানুষকে নিয়োগ করা হয়েছে বলেও দাবি তাঁর। ফলে পুরসভার আর্থিক পরিস্থিতির উপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভায় বর্তমানে নির্বাচিত বোর্ড নেই। তার পরিবর্তে পুর প্রশাসকের মাধ্যমে পুরসভার কাজ চলছে। এই পরিস্থিতিতে পুরসভার আর্থিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও নানা সমস্যা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচিত বোর্ড হাতে না আসা পর্যন্ত তাঁরা সব বিষয়ে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।

এদিকে, অস্থায়ী কর্মীদের সংগঠনের তরফেও পুরসভার বেতন সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। অস্থায়ী কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষে রাধেশ্যাম শঙ্খবণিক বলেন, বেতন আদায়ের জন্য এর আগেও তাঁদের আন্দোলনের পথে যেতে হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও পুরসভার বেতন সংক্রান্ত সমস্যা এখনও একই রকম রয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।

রাধেশ্যামের বক্তব্য, বেতন না পাওয়ার কারণে বাধ্য হয়েই কর্মীদের আবার অবস্থানে বসতে হয়েছে। দীর্ঘদিন কাজ করার পরেও যদি মাসের বেতন সময়মতো না মেলে, তা হলে কর্মীরা কী ভাবে সংসার চালাবেন—সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। পুজোর মুখে দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে কর্মীদের আর্থিক দুরবস্থা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা আন্দোলনকারীদের।

অন্য দিকে, পুরসভায় কর্মী নিয়োগের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার কথাও জানিয়েছেন সুবীর। তাঁর দাবি, পুরসভায় এমন কর্মীও রয়েছেন যাঁদের বয়স ৬০ বছরের বেশি এবং অন্য জায়গা থেকে পেনশন পান। এ ছাড়া পুরসভার প্রয়োজন বা সরকারি অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা না করেই অতীতে অনেককে কাজে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এবার পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিধায়ক জানিয়েছেন, পরের দিন থেকেই কর্মীদের জন্য ফর্ম দেওয়া হবে। সেখানে প্রত্যেক কর্মীকে নিজের নাম, ঠিকানা, কোন পদে কাজ করছেন, কী ধরনের দায়িত্ব পালন করেন এবং কবে তাঁকে নিয়োগ করা হয়েছিল—এই সমস্ত তথ্য জানাতে হবে।

পুর প্রশাসন সেই তথ্য যাচাই করে দেখবে বলেও জানিয়েছেন বিধায়ক। নিয়োগের ক্ষেত্রে কোথাও অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং কোনও ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।

ফলে হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের সামনে এখন জোড়া অনিশ্চয়তা। এক দিকে, পুজোর আগে বকেয়া বেতন হাতে পাওয়ার অপেক্ষা; অন্য দিকে, পুরসভায় তাঁদের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে নতুন করে তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। আপাতত এক মাসের বেতন দ্রুত মেটানোর আশ্বাসই কর্মীদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। তবে বাকি বেতন কবে মিলবে এবং পুরসভার আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতা কবে কাটবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved