Homeউত্তর ২৪ পরগনামধ্যমগ্রামকল সেন্টারের আড়ালে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ, মধ্যমগ্রামে গ্রেফতার ২৫, উদ্ধার ১৯ মোবাইল ও শতাধিক সিম

কল সেন্টারের আড়ালে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ, মধ্যমগ্রামে গ্রেফতার ২৫, উদ্ধার ১৯ মোবাইল ও শতাধিক সিম

নিউজ ডেস্ক; কল সেন্টার চালানোর আড়ালে চলছিল কি আর্থিক প্রতারণার কারবার? এমনই অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে একটি সংস্থার অফিসে হানা দিয়ে ২৫
resizeplus_Screenshot 2026-09-15 123243_edited (1)

নিউজ ডেস্ক; কল সেন্টার চালানোর আড়ালে চলছিল কি আর্থিক প্রতারণার কারবার? এমনই অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে একটি সংস্থার অফিসে হানা দিয়ে ২৫ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে ১৮ জন মহিলা এবং ৭ জন পুরুষ। সোমবার মধ্যমগ্রামের দোলতলা এলাকার এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযানে বিপুল সংখ্যক মোবাইল ফোন, শতাধিক সিম কার্ড, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, কল সেন্টার পরিচালনার নাম করে ওই অফিস থেকে আর্থিক প্রতারণার কোনও চক্র চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে ঠিক কী ধরনের প্রতারণা করা হত, কারা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং কত দিন ধরে এই কাজ চলছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত কয়েক দিন ধরেই দোলতলা এলাকার একটি সংস্থার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণা সংক্রান্ত অভিযোগ সামনে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেন তদন্তকারীরা। এর মধ্যেই ওই সংস্থার কাজকর্ম সম্পর্কে গোপন সূত্রে পুলিশের কাছে বেশ কিছু তথ্য আসে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সোমবার মধ্যমগ্রাম থানা এবং সাইবার থানার একটি যৌথ দল ওই সংস্থার অফিসে অভিযান চালায়।

অভিযানের সময় অফিসে উপস্থিত কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন পুলিশ আধিকারিকরা। পাশাপাশি অফিসের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারীদের নজরে আসে একাধিক মোবাইল ফোন এবং বিপুল সংখ্যক সিম কার্ড। তল্লাশির সময় মোট ১৯টি মোবাইল ফোন এবং শতাধিক সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়।

এর পরেই ওই অফিস থেকে ২৫ জন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন মহিলা এবং ৭ জন পুরুষ রয়েছেন। এত জন কর্মীকে একসঙ্গে গ্রেফতার করার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, প্রত্যেকের ভূমিকা এক ছিল কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তদন্তের পরেই কে সরাসরি প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং কার কী ভূমিকা ছিল, তা পরিষ্কার হবে।

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে উদ্ধার হওয়া শতাধিক সিম কার্ড এবং ১৯টি মোবাইল ফোনকে ঘিরে। একটি কল সেন্টারে একাধিক মোবাইল এবং সিম ব্যবহার করার প্রয়োজন কেন হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হওয়া সিম কার্ডগুলি কোন কোন ব্যক্তির নামে নেওয়া হয়েছিল, সেগুলি থেকে কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হত এবং কী ধরনের ফোনকল করা হত—সমস্ত বিষয়ই তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

মোবাইল ফোনগুলিও ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হতে পারে বলে তদন্তকারী মহলের সূত্রে খবর। ফোনে থাকা কল রেকর্ড, যোগাযোগের তালিকা, মেসেজ এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য থেকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া নথিগুলিও পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। ওই নথির সঙ্গে কোনও আর্থিক প্রতারণা বা সাইবার অপরাধের যোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। এই কারবার ঠিক কত দিন ধরে চলছিল? কল সেন্টারের কর্মীদের কী ধরনের কাজ করতে বলা হত? কোনও নির্দিষ্ট সংস্থার নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ফোন করা হত কি না? ফোনের মাধ্যমে ব্যাঙ্কের তথ্য, ব্যক্তিগত তথ্য বা অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করা হত কি না? নাকি অন্য কোনও পদ্ধতিতে আর্থিক প্রতারণা চালানো হত? আপাতত এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

এর পাশাপাশি এই চক্রের মূল মাথা বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ কে, তা জানার চেষ্টা চলছে। গ্রেফতার হওয়া ২৫ জনের মধ্যে কেউ চক্রটি পরিচালনা করতেন কি না, নাকি তাঁরা শুধুমাত্র কর্মী হিসেবে কাজ করতেন, সেটিও তদন্তের বিষয়। পুলিশ ধৃতদের পৃথক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁদের কাজের ধরন এবং পারস্পরিক যোগাযোগ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে চাইছে।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, শুধু অফিসে উপস্থিত থাকা কর্মীদের গ্রেফতার করেই তদন্ত শেষ হচ্ছে না। এই চক্রের সঙ্গে বাইরে থেকে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সংস্থার মালিক বা পরিচালকদের ভূমিকা কী ছিল, অফিসটি কী ভাবে পরিচালিত হত এবং কর্মীদের কী নির্দেশ দেওয়া হত—সেই বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

উদ্ধার হওয়া সিম কার্ডগুলির উৎস এবং ব্যবহার সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা। একই সঙ্গে মোবাইল ফোন এবং নথি থেকে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখে প্রতারণার কোনও নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কের সন্ধান মেলে কি না, তা-ও পরীক্ষা করা হবে।

পুলিশের বক্তব্য, আপাতত প্রাথমিক তদন্তে কল সেন্টারের আড়ালে আর্থিক প্রতারণার সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ, উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখার পরই গোটা চক্রের প্রকৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

মধ্যমগ্রামের দোলতলায় এই অভিযানের পর এখন পুলিশের নজর রয়েছে ওই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তি এবং সম্ভাব্য যোগাযোগের দিকে। ২৫ জনের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে আরও তথ্য বেরিয়ে আসে কি না এবং এই ঘটনার সূত্র ধরে বড় কোনও সাইবার প্রতারণা চক্রের হদিস মেলে কি না, সেটাই এখন দেখার।

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved