Homeহাওড়াহাওড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে স্টেশন, এবার স্কাইওয়াকের ভাবনা! ৮ নম্বর প্ল্যাটফর্মে সরাসরি পৌঁছনোর পরিকল্পনা

হাওড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে স্টেশন, এবার স্কাইওয়াকের ভাবনা! ৮ নম্বর প্ল্যাটফর্মে সরাসরি পৌঁছনোর পরিকল্পনা

নিউজ ডেস্ক; হাওড়া শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় বড়সড় বদলের পরিকল্পনা চলছে। হাওড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকাকে আধুনিক মাল্টি কমপ্লেক্সে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা আগেই জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। এ বার সেই প্রস্তাবিত মাল্টি কমপ্লেক্সকে হাওড়া
resizeplus_Screenshot 2026-09-14 122030_edited

নিউজ ডেস্ক; হাওড়া শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় বড়সড় বদলের পরিকল্পনা চলছে। হাওড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকাকে আধুনিক মাল্টি কমপ্লেক্সে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা আগেই জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। এ বার সেই প্রস্তাবিত মাল্টি কমপ্লেক্সকে হাওড়া স্টেশনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার ভাবনা সামনে আনল পূর্ব রেল। বাসস্ট্যান্ড থেকে হাওড়া স্টেশন পর্যন্ত তৈরি হতে পারে স্কাইওয়াক অথবা ফুট ওভারব্রিজ। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাস থেকে নামার পর যাত্রীদের আর ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে বা যানজটের মধ্যে দিয়ে ঘুরে স্টেশনে পৌঁছতে হবে না। সরাসরি হাঁটাপথেই স্টেশনে ঢোকার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে গোটা প্রকল্পটি এখনও প্রাথমিক পরিকল্পনার স্তরে রয়েছে। স্কাইওয়াকের সঠিক নকশা, দৈর্ঘ্য, প্রবেশপথ এবং স্টেশনের কোন অংশের সঙ্গে সেটিকে যুক্ত করা হবে—এই সমস্ত বিষয় এখনও চূড়ান্ত হয়নি। রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত মাল্টি কমপ্লেক্সের কাজের রূপরেখা স্পষ্ট হওয়ার পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে রেল।

পূর্ব রেলের সিনিয়র ডিসিএম রাহুল রঞ্জন জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার হাওড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মাল্টি কমপ্লেক্স তৈরি করলে সেখান থেকে হাওড়া স্টেশনে সরাসরি যাত্রী চলাচলের ব্যবস্থা কী ভাবে করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হবে। তার পরেই তৈরি হবে ডিটেলড প্রজেক্ট রিপোর্ট বা ডিপিআর। সেই রিপোর্টেই স্কাইওয়াক বা ফুট ওভারব্রিজের মতো সংযোগ ব্যবস্থার বিস্তারিত পরিকল্পনা রাখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রাথমিক ভাবনায় রয়েছে, বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি উঁচু পথ তৈরি করে সরাসরি হাওড়া স্টেশন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। সেই পথের মাধ্যমে যাত্রীরা হেঁটে স্টেশনের ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন। এমনকি প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্কাইওয়াকের সংযোগ হাওড়া স্টেশনের ৮ নম্বর প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ফলে বাসস্ট্যান্ড থেকে স্টেশনে ঢোকার পর যাত্রীদের ১ নম্বর থেকে ৮ নম্বর প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত যাওয়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে।

অবশ্য কোন প্ল্যাটফর্মে ঠিক কী ভাবে সংযোগ দেওয়া হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ডিপিআর তৈরি হওয়ার পরই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে। রেলের তরফে তাই আপাতত এটিকে সম্ভাব্য পরিকল্পনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

হাওড়া বাসস্ট্যান্ড এবং হাওড়া স্টেশন—দুই জায়গাই শহরের অন্যতম ব্যস্ত পরিবহণ কেন্দ্র। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস ও ট্রেন ব্যবহার করেন। বহু যাত্রী বাসস্ট্যান্ডে নেমে হাওড়া স্টেশনে যাওয়ার জন্য রাস্তা ব্যবহার করেন। ব্যস্ত সময়ে যানজট, পথচারীর ভিড় এবং রাস্তা পারাপারের কারণে অনেক সময়ই স্টেশনে পৌঁছতে বাড়তি সময় লাগে। বিশেষ করে দূরপাল্লার ট্রেন ধরতে যাওয়া যাত্রীদের কাছে এই অতিরিক্ত সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

স্কাইওয়াক তৈরি হলে সেই সমস্যা অনেকটাই কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বাস থেকে নেমেই নির্দিষ্ট পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে স্টেশনে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হলে যাত্রীদের সময়ও বাঁচবে। একই সঙ্গে রাস্তার যানবাহনের সঙ্গে পথচারীদের সরাসরি সংঘাত কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে পরিবহণ ব্যবস্থার পাশাপাশি পথচারী নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এই ধরনের পরিকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

শুধু সাধারণ হাঁটাপথ নয়, বিমানবন্দরের আদলে যাত্রীবান্ধব পরিকাঠামো তৈরির কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় চলন্ত সিঁড়ি বা এসক্যালেটরের মতো ব্যবস্থা রাখার ভাবনা রয়েছে। এর ফলে ভারী ব্যাগপত্র নিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সুবিধা হবে। প্রবীণ নাগরিক, শিশু এবং শারীরিক ভাবে সমস্যায় থাকা যাত্রীদের জন্যও এমন ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।

এ দিকে হাওড়া বাসস্ট্যান্ডকে মাল্টি কমপ্লেক্সে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। গত ১ সেপ্টেম্বর হাওড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা পরিদর্শনের পর রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। প্রস্তাবিত প্রকল্পে শুধু বাসস্ট্যান্ড নয়, একই পরিকাঠামোর মধ্যে একাধিক পরিষেবা যুক্ত করার ভাবনা রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাল্টি কমপ্লেক্সের নীচের অংশে বিভিন্ন রুটের যাত্রীবাহী বাস দাঁড়ানোর ব্যবস্থা থাকবে। তার উপরে রাখা হতে পারে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড। অ্যাপ ক্যাবের জন্যও আলাদা জায়গা নির্দিষ্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ বাস, ট্যাক্সি এবং অ্যাপ ক্যাব—তিন ধরনের পরিবহণ ব্যবস্থাকে একই পরিকাঠামোর আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি প্রস্তাবিত ভবনে মাল্টিপ্লেক্স এবং ফুডকোর্ট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে শুধুমাত্র যাতায়াতের জায়গা হিসেবে নয়, হাওড়া বাসস্ট্যান্ডকে একটি আধুনিক কমার্শিয়াল ও ট্রানজিট হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের সঙ্গে যদি শেষ পর্যন্ত স্টেশনের সঙ্গে সরাসরি স্কাইওয়াক সংযোগ তৈরি করা যায়, তা হলে গোটা ব্যবস্থাটিই আরও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। বাসস্ট্যান্ডে নামা যাত্রী সরাসরি উঁচু পথ ধরে স্টেশনে পৌঁছবেন, অন্য দিকে স্টেশন থেকে বাস, ট্যাক্সি কিংবা অ্যাপ ক্যাব ধরার জন্যও মাল্টি কমপ্লেক্সে পৌঁছনোর সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ বাস ও রেল—দুই পরিবহণ ব্যবস্থার মধ্যে একটি নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ গড়ে উঠতে পারে।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা প্রয়োজন। জমির ব্যবহার, পথের কাঠামো, যাত্রী চলাচলের পরিমাণ, স্টেশনের নিরাপত্তা, প্রবেশ ও বহির্গমন ব্যবস্থা এবং নির্মাণকাজ চলাকালীন যাত্রী পরিষেবা কী ভাবে সচল রাখা হবে—এসব বিষয় ডিপিআরে খতিয়ে দেখা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এখনও স্কাইওয়াক নির্মাণের সময়সীমা বা প্রকল্পের খরচ সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত তথ্য সামনে আসেনি। রাজ্য সরকারের মাল্টি কমপ্লেক্স প্রকল্প কতটা এগোয় এবং তার সঙ্গে রেলের প্রস্তাবিত সংযোগ কী ভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার উপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।

পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে হাওড়ার পরিবহণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এক দিকে আধুনিক বাস টার্মিনাস, অন্য দিকে তার সঙ্গে যুক্ত বাণিজ্যিক পরিকাঠামো এবং সরাসরি রেলস্টেশন সংযোগ—সব মিলিয়ে হাওড়া বাসস্ট্যান্ডকে একটি আধুনিক পরিবহণকেন্দ্রে পরিণত করার পথ খুলতে পারে এই উদ্যোগ। এখন অপেক্ষা, প্রস্তাবিত প্রকল্প কত দ্রুত পরিকল্পনার স্তর পেরিয়ে বাস্তব রূপ পায়।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved