Homeপশ্চিম মেদিনীপুরচন্দ্রকোনাচন্দ্রকোনা থানার বাথরুমে বন্দির ঝুলন্ত দেহ, পুলিশের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ পরিবারের

চন্দ্রকোনা থানার বাথরুমে বন্দির ঝুলন্ত দেহ, পুলিশের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ পরিবারের

নিউজ ডেস্ক; পুলিশি হেফাজতে থাকা এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায়। রবিবার রাতে চন্দ্রকোনা থানার বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় রাহুল রুইদাস নামে এক
resizeplus_Screenshot 2026-09-14 121624_edited

নিউজ ডেস্ক; পুলিশি হেফাজতে থাকা এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায়। রবিবার রাতে চন্দ্রকোনা থানার বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় রাহুল রুইদাস নামে এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ। চুরির একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর আদালতের নির্দেশে তিনি পুলিশি হেফাজতে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। থানার মধ্যেই কী ভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যুবকের পরিবারের তরফে পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও তোলা হয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন চারেক আগে চুরির অভিযোগে রাহুলকে গ্রেফতার করেছিল চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাঁকে ঘাটাল মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাঁকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। সেই মতো রাহুলকে থানাতেই রাখা হয়েছিল। রবিবার রাতেই ঘটে বিপত্তি।

জানা যায়, রাতে থানার বাথরুমে যাওয়ার জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চান রাহুল। এরপর তিনি বাথরুমে ঢোকেন। বেশ কিছুক্ষণ পর ভিতর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পান থানায় থাকা পুলিশকর্মীরা। সন্দেহ হওয়ায় দ্রুত বাথরুমের দরজা খোলার চেষ্টা করা হয়। দরজা খুলতেই দেখা যায়, গলায় পরনের প্যান্ট জড়ানো অবস্থায় ঝুলছেন ওই যুবক। পুলিশ তাঁকে দ্রুত নামিয়ে উদ্ধার করে।

এর পর আর সময় নষ্ট না করে রাহুলকে চন্দ্রকোনা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর অবস্থা তখন আশঙ্কাজনক ছিল। চিকিৎসকেরা প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। চিকিৎসা চলাকালীনই মৃত্যু হয় রাহুলের।

এই ঘটনার পরই শুরু হয়েছে নানা প্রশ্ন। পুলিশি হেফাজতে থাকা একজন বন্দি কী ভাবে থানার বাথরুমে নিজের পোশাক ব্যবহার করে এমন ঘটনা ঘটালেন, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। থানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি, ঘটনার আগে ও পরে থানায় ঠিক কী হয়েছিল, তা নিয়েও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

রাহুলের পরিবারের অবশ্য দাবি, ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়। তাঁদের অভিযোগ, থানার ভিতরেই পুলিশ তাঁকে মারধর করে খুন করেছে। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, রাহুল নেশায় আসক্ত ছিলেন এবং আগে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়েছিল। তবে সেই অতীতের অভিযোগের সঙ্গে থানায় তাঁর মৃত্যুর ঘটনাকে এক করে দেখা যায় না বলেই দাবি পরিবারের। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় যুবকের মৃত্যু হওয়ায় গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, রাহুলের নেশার অভ্যাস ছিল। অপরাধমূলক কাজের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি। পরিবারের সদস্যরাও তাঁর নেশার অভ্যাসের কথা স্বীকার করেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না প্রশাসন।

চন্দ্রকোনা গ্রামীণ হাসপাতালের CMOH সীতানাথ হাঁসদা জানিয়েছেন, রবিবার রাত প্রায় ন’টা নাগাদ রাহুলকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর গলায় একটি দাগ দেখতে পাওয়া যায়। তবে শরীরের অন্য কোনও অংশে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে চিকিৎসকদের অনুমান, শ্বাসরোধের কারণেই যুবকের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

তবে চিকিৎসকের এই প্রাথমিক পর্যবেক্ষণই যে মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ, তা এখনও বলা যাচ্ছে না। CMOH স্পষ্ট জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। ফলে এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে মৃতের পরিবার এবং স্থানীয় প্রশাসন।

পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা মারধর করে খুনের অভিযোগও তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুলিশের দাবি, যুবককে বাথরুম থেকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তরফে কোনও অপরাধমূলক ভূমিকার কথা অস্বীকার করা হয়েছে।

পুলিশি হেফাজতে কোনও বন্দির মৃত্যু হলে সাধারণ ভাবেই ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। সেই কারণে রাহুলের মৃত্যুর ক্ষেত্রেও ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি কখন বাথরুমে ঢুকেছিলেন, কতক্ষণ ভিতরে ছিলেন, সেই সময় থানায় কারা উপস্থিত ছিলেন, ভিতর থেকে শব্দ শোনার পর কত দ্রুত দরজা খোলা হয়েছিল—এই সমস্ত বিষয় তদন্তে উঠে আসতে পারে।

একই সঙ্গে রাহুলকে গ্রেফতারের পর থেকে তাঁর সঙ্গে পুলিশের আচরণ কেমন ছিল, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁকে কী ভাবে হেফাজতে রাখা হয়েছিল, সেসবও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। পরিবারের অভিযোগ এবং পুলিশের বক্তব্য—দুই দিকই যাচাই করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আনার প্রয়োজন রয়েছে।

চন্দ্রকোনার এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে পুলিশের দাবি, যুবক আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন এবং তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে পরিবারের অভিযোগ, থানার মধ্যেই তাঁকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। এই দুই পরস্পরবিরোধী দাবির মধ্যে আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। সেই রিপোর্টেই হয়তো স্পষ্ট হবে, ঠিক কী ভাবে মৃত্যু হয়েছিল রাহুল রুইদাসের।

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না। পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় এক যুবকের মৃত্যু ঘিরে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার উত্তর দিতে তদন্তে স্বচ্ছতা এবং দ্রুত তথ্য প্রকাশের দিকেই এখন নজর স্থানীয়দের।

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved