Homeঅন্যান্যস্কুল শুরুর আগেই ছাদে খেলতে গিয়ে পড়ে পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া, গুরুতর জখম মহিষাদলে

স্কুল শুরুর আগেই ছাদে খেলতে গিয়ে পড়ে পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া, গুরুতর জখম মহিষাদলে

নিউজ ডেস্ক; স্কুল শুরু হওয়ার আগেই সহপাঠীদের সঙ্গে ছাদে খেলছিল পঞ্চম শ্রেণির এক পড়ুয়া। আচমকাই ছাদের ধার থেকে নীচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হল সে। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের
resizeplus_Screenshot 2026-09-10 174037_edited (1)

নিউজ ডেস্ক; স্কুল শুরু হওয়ার আগেই সহপাঠীদের সঙ্গে ছাদে খেলছিল পঞ্চম শ্রেণির এক পড়ুয়া। আচমকাই ছাদের ধার থেকে নীচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হল সে। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল ব্লকের তাজপুর হাইস্কুলে। আহত পড়ুয়াকে দ্রুত উদ্ধার করে তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানেই বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে বলে স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, এ দিন নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুলে পৌঁছে গিয়েছিল ওই পড়ুয়া। স্কুলের পঠনপাঠন শুরু হওয়ার আগে অন্যান্য সহপাঠীর সঙ্গে সে স্কুলের ছাদে খেলছিল। খেলতে খেলতেই কোনও ভাবে ছাদের কিনারার কাছে চলে যায় সে। আচমকা ভারসাম্য হারিয়ে ছাদ থেকে নীচে পড়ে যায় পড়ুয়াটি।

ঘটনা দেখতে পেয়েই স্কুলে হইচই পড়ে যায়। সহপাঠীদের চিৎকার শুনে শিক্ষকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। আহত অবস্থায় পড়ুয়াকে উদ্ধার করে প্রাথমিক ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আর দেরি না করে তাঁকে তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

তাজপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক স্বদেশরঞ্জন বেরা জানিয়েছেন, স্কুল শুরু হওয়ার আগেই খেলতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে যায় পড়ুয়াটি। শিক্ষকরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।

ঘটনার পর স্বাভাবিক ভাবেই পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। স্কুল চত্বরে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা এবং স্কুল শুরুর আগে তাঁদের গতিবিধির উপর নজরদারি কতটা রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ছোট পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে স্কুলে ঢোকার পর থেকে পঠনপাঠন শুরু হওয়া পর্যন্ত সময়টিও নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অভিভাবকদের একাংশ।

এই ঘটনার কয়েক দিন আগেই মহিষাদলের অন্য একটি স্কুলে পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, স্কুলের তরফে পড়ুয়াদের নিয়ে মহিষাদল রাজবাড়ির মাঠে একটি ফুটবল প্রতিযোগিতায় যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় পাশের একটি জলাশয়ে ডুবে এক পড়ুয়ার মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কী ভাবে ওই পড়ুয়া জলাশয়ে পৌঁছল, তা নিয়ে পরিবারের তরফে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল।

সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের স্কুলপড়ুয়ার দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার ঘটনা সামনে এল। ফলে স্কুলে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। অভিভাবকদের বক্তব্য, সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর পর তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব শুধু পঠনপাঠনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। স্কুলের প্রাঙ্গণে পড়ুয়ারা কোথায় যাচ্ছে, বিশেষ করে ছোটদের ক্ষেত্রে তারা যাতে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় যেতে না পারে, সে বিষয়েও নজর রাখা জরুরি।

স্কুল শুরুর আগে ছাদে পড়ুয়াদের খেলতে যাওয়ার সুযোগ কী ভাবে তৈরি হল, সেই সময় শিক্ষক বা অন্য কোনও কর্মীর নজরদারি ছিল কি না, স্কুলের ছাদে নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নও উঠছে। যদিও ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে দ্রুত আহত পড়ুয়াকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্কুলের ছাদে বা অন্য কোনও উঁচু জায়গায় ছোট পড়ুয়াদের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেখানে প্রবেশ বন্ধ রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অভিভাবকেরা। তাঁদের মতে, শিশুদের স্বভাবতই কৌতূহল বেশি। খেলতে গিয়ে তারা অনেক সময় বিপদের মাত্রা বুঝতে পারে না। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষকেই আগে থেকে সম্ভাব্য ঝুঁকির জায়গাগুলি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

অন্য দিকে, আহত পড়ুয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে পরিবারের মধ্যে। হাসপাতালে চিকিৎসকেরা তাঁর চিকিৎসা করছেন। পড়ে গিয়ে শরীরের কোন কোন অংশে আঘাত লেগেছে এবং আঘাত কতটা গুরুতর, চিকিৎসার পরেই সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

একই এলাকায় পর পর স্কুলপড়ুয়াদের দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুর ঘটনায় অভিভাবকদের উদ্বেগ স্বাভাবিক ভাবেই বেড়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের কাছে তাঁদের দাবি, পড়ুয়াদের নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হোক। স্কুলের ভবন, ছাদ, সিঁড়ি, খেলার জায়গা এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ অংশ নিয়মিত পরীক্ষা করা হোক। পাশাপাশি স্কুল শুরুর আগে এবং ছুটির পরেও পড়ুয়াদের উপর পর্যাপ্ত নজরদারি রাখা হোক।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, মহিষাদলের পর পর ঘটনাগুলি ফের সেই প্রশ্নই সামনে এনে দিয়েছে। বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলেও ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, তার জন্য স্কুলগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি কোথায় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেই মনে করছেন অভিভাবকদের একাংশ।

এই মুহূর্তে আহত পড়ুয়ার দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার দিকেই তাকিয়ে পরিবার ও স্কুলের শিক্ষকরা। একই সঙ্গে ঘটনার পর স্কুলে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved