
নিউজ ডেস্ক; ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পে কর্মদিবস তৈরিতে রাজ্যের মধ্যে নজরকাড়া সাফল্য পেল বাঁকুড়া। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ‘জি রাম জি’ প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত জেলায় প্রায় ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কর্মদিবস তৈরি হয়েছে। খুব শীঘ্রই সেই সংখ্যা ২ লক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে যাবে বলেও আশাবাদী প্রশাসন। গ্রামীণ এলাকায় স্থানীয় ভাবে কাজের সুযোগ তৈরি এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিন্ রাজ্যে যাওয়ার প্রবণতা কমানোর লক্ষ্যেই এই প্রকল্পে জোর দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
বাঁকুড়ার এই পরিসংখ্যান ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। জেলার ১৯০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি পঞ্চায়েতে গড়ে প্রায় ৯২৭টি করে কর্মদিবস তৈরি হয়েছে। সেই সামগ্রিক হিসাবের ভিত্তিতেই কর্মদিবস তৈরিতে রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে উঠে এসেছে বাঁকুড়া।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রকল্পের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে নিয়মিত প্রচার চালানো হয়েছে। কোথায় কী ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে, কী ভাবে কাজের জন্য আবেদন করতে হবে এবং স্থানীয় ভাবে কী ধরনের উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নেওয়া যায়—এই সমস্ত বিষয়েই মানুষকে অবহিত করা হচ্ছে। এর ফলে প্রকল্পে কাজ চেয়ে আবেদনকারীর সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে।
এখনও পর্যন্ত বাঁকুড়া জেলায় ৬৩ হাজার ৫০৬ জন কাজের জন্য আবেদন করেছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তাঁদের মধ্যে ইতিমধ্যেই বহু আবেদনকারী কাজের সুযোগ পেয়েছেন। আগামী দিনে আবেদনকারীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রকল্পের আওতায় নতুন নতুন কাজ যুক্ত হলে কর্মদিবস তৈরির সংখ্যাও আরও বাড়বে বলে আশা প্রশাসনের।
এই প্রকল্পে বাঁকুড়ার সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে জল সংরক্ষণমূলক বিভিন্ন কাজ। বিশেষ করে ব্যক্তিগত জমিতে হাপা, পুকুর খনন এবং জল ধরে রাখার পরিকাঠামো তৈরির মতো কাজকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই ধরনের কাজ এক দিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে, অন্য দিকে তেমনই কৃষিকাজে জল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে।
প্রশাসনের পরিকল্পনা, শুধু কর্মদিবসের সংখ্যা বাড়ানো নয়, এমন কাজ বেছে নেওয়া যাতে তার দীর্ঘমেয়াদি সুফলও পাওয়া যায়। জল সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে পুকুর বা হাপা তৈরির মতো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে কৃষিকাজেও তার প্রভাব পড়তে পারে। ফলে একই প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ পরিকাঠামো—দুই দিকেই লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু জানিয়েছেন, বাঁকুড়ায় কর্মসংস্থানের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, শুধু পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে নয়, গোটা দেশের মধ্যে বাঁকুড়াকে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রথম সারিতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে প্রশাসনিক মহলেও নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
১২৫ দিনের এই প্রকল্প নিয়ে সরকারের অন্যতম বড় লক্ষ্য হল গ্রামীণ মানুষের হাতে স্থানীয় ভাবে কাজ তুলে দেওয়া। দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজের সন্ধানে পশ্চিমবঙ্গের বহু শ্রমিকের ভিন্ রাজ্যে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, নিজের এলাকায় পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ তৈরি করা গেলে পরিযায়ী শ্রমিকদের একটা বড় অংশকে স্থানীয় কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত রাখা সম্ভব হতে পারে।
সেই লক্ষ্যেই পঞ্চায়েত স্তরে কাজের ক্ষেত্র চিহ্নিত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাঁকুড়ার মতো জেলায় যেখানে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি বহু মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত, সেখানে জল সংরক্ষণ, মাটি উন্নয়ন, পুকুর খনন এবং গ্রামীণ পরিকাঠামোর কাজকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সেই সম্ভাবনাকেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে প্রকল্পের সাফল্য শুধু কত কর্মদিবস তৈরি হল, তার উপর নির্ভর করছে না। আবেদনকারীরা সময়মতো কাজ পাচ্ছেন কি না, কাজের গুণমান কেমন, প্রকল্পের মাধ্যমে তৈরি পরিকাঠামো কতটা কার্যকর হচ্ছে এবং শ্রমিকেরা নির্ধারিত সুবিধা পাচ্ছেন কি না—এই বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনে প্রকল্পের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বিষয়গুলির উপর নজর রাখাও প্রশাসনের কাছে বড় দায়িত্ব হয়ে উঠবে।
বাঁকুড়ায় ইতিমধ্যেই প্রায় ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কর্মদিবস তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, আর কিছুটা এগোলেই ২ লক্ষের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলবে জেলা। সেই সঙ্গে কাজের আবেদনকারীর সংখ্যাও বাড়ছে। ফলে আগামী দিনে কর্মদিবস তৈরির গতি আরও বাড়ানো সম্ভব কি না, সেটাই এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
এক দিকে স্থানীয় মানুষের হাতে কাজ তুলে দেওয়া, অন্য দিকে জল সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন—দুই লক্ষ্যকে একসঙ্গে সামনে রেখে বাঁকুড়ায় প্রকল্পের কাজ এগোচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এই উদ্যোগ সফল হলে শুধু কর্মসংস্থানই নয়, জেলার গ্রামীণ অর্থনীতিতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পে বাঁকুড়ার বর্তমান পরিসংখ্যান প্রশাসনের কাছে উৎসাহের কারণ হয়ে উঠেছে। প্রায় ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কর্মদিবস তৈরির পর এবার লক্ষ্য ২ লক্ষের গণ্ডি পেরোনো। তার পরে আরও বেশি মানুষকে কাজের সুযোগ দিয়ে জেলার কর্মসংস্থানের পরিধি কতটা বাড়ানো যায়, সেটাই নজরে থাকবে।
WordPress Slug:
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments