Last updated: September 8th, 2026 at 01:30 pm

নিউজ ডেস্ক; বড়জোড়ার পর এ বার গঙ্গাজলঘাটি রেঞ্জের বাঁকদহ গ্রামে বুনো হাতির তাণ্ডবে আতঙ্ক ছড়াল। শনিবার গভীর রাতে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসা দু’টি দলছুট দাঁতাল হাতি আচমকাই ঢুকে পড়ে এক গ্রামবাসীর বাড়িতে। হাতির হানায় ভেঙে যায় বাড়ির সীমানা প্রাচীরের একাংশ এবং মূল লোহার গেট। শুধু তা-ই নয়, বাড়ির উঠোন ও লাগোয়া জমিতে রাখা বিপুল পরিমাণ সব্জিও পায়ের তলায় পিষে নষ্ট করে দেয় হাতি দু’টি। ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বাঁকদহ ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার মধ্যরাতের পর জঙ্গল লাগোয়া এলাকা দিয়ে ঘোরাফেরা করছিল দু’টি দাঁতাল হাতি। কিছুক্ষণ পর তারা বাঁকদহ গ্রামের বাসিন্দা বাবলু ঘোষের বাড়ির সামনে চলে আসে। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই হাতি দু’টি বাড়ির সীমানার ভিতরে ঢুকে পড়ে। সেই সময় বাড়িতে থাকা সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের মানুষজন ছুটে আসেন। গ্রামবাসীরা দলবদ্ধ হয়ে হাতি দু’টিকে তাড়া করার চেষ্টা করেন। মানুষের চিৎকার ও ভিড় দেখে শেষ পর্যন্ত হাতি দু’টি বাড়ি ছেড়ে জঙ্গল এলাকার দিকে চলে যায়।
তবে জঙ্গলে ফিরে যাওয়ার আগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে তারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হাতি দু’টি শুঁড় দিয়ে বাবলু ঘোষের বাড়ির মূল লোহার গেটটি টেনে ভেঙে ফেলে। পাশাপাশি সীমানা প্রাচীরের একটি অংশও গুঁড়িয়ে দেয়। বাড়ির উঠোনে এবং পাশের জমিতে রাখা ছিল প্রায় এক কুইন্টাল কুমড়ো, বরবটি, ঝিঙে, শশা ও ভুট্টা। হাতির পায়ের তলায় পড়ে সেই সব ফসলের অধিকাংশই নষ্ট হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, রাতের অন্ধকারে আচমকা হাতি ঢুকে পড়ায় পরিবারের সদস্যেরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন। সামান্য এ দিক-ও দিক হলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে মনে করছেন তাঁরা।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বাঁকদহ এবং সংলগ্ন এলাকায় বেশ কিছু দিন ধরেই বুনো হাতির আনাগোনা বেড়েছে। কখনও জঙ্গল থেকে বেরিয়ে হাতির দল চাষের জমিতে ঢুকে পড়ছে, আবার কখনও বসতবাড়ির কাছাকাছি চলে আসছে। সন্ধ্যার পর থেকেই এলাকার মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে রাস্তার পাশে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গ্রামের ছাত্রী প্রিয়াঙ্কা ঘোষ বলেন, সন্ধ্যার পর রাস্তায় বেরোতে ভয় লাগে। স্কুল, টিউশন বা অন্য কোনও প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে যেতে হলে পরিবারের কাউকে সঙ্গে নিতে হয়। রাস্তায় আলো না থাকায় অন্ধকার নামলেই হাতির উপস্থিতি বোঝা যায় না। ফলে ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি বৃদ্ধ, মহিলা এবং সাধারণ পথচারীরাও সমস্যায় পড়ছেন। দ্রুত এলাকায় আলো লাগানো, হাতির গতিবিধি নজরে রাখা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, হাতির দল জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসার পর তাদের গতিপথ সম্পর্কে গ্রামবাসীদের অনেক সময় আগে থেকে জানানো হয় না। ফলে আচমকাই হাতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বন দপ্তরের তরফে নিয়মিত নজরদারি, মাইকিং এবং সতর্কবার্তার ব্যবস্থা করা হলে বিপদ কিছুটা কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন তাঁরা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও উঠেছে।
গঙ্গাজলঘাটি রেঞ্জ অফিসার নিলয় রায় জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বন দপ্তরের নজরে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ক্ষতিপূরণের আবেদন সংক্রান্ত ফর্ম পূরণ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাজ বনকর্মীরাই করে দেবেন। ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখে নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এ দিকে, হাতির তাণ্ডবের পর বাঁকদহ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাত নামলেই বাড়ির দরজা-জানলা বন্ধ করে রাখছেন অনেকে। চাষের জমিতে থাকা ফসল ও বাড়ির সম্পত্তি রক্ষার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তিত গ্রামবাসীরা। তাঁদের দাবি, শুধু ক্ষতিপূরণ দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। জঙ্গল থেকে হাতির লোকালয়ে ঢুকে পড়া রুখতে বন দপ্তরকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে। হাতির চলাচলের করিডর চিহ্নিত করা, নিয়মিত টহলদারি, পর্যাপ্ত আলো এবং দ্রুত সতর্কবার্তার ব্যবস্থা করা জরুরি বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments