Last updated: September 15th, 2026 at 02:25 pm

নিজস্ব প্রতিনিধি : নদিয়ার শান্তিপুরে ধর্মান্তরণের পোস্টার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়াল। শান্তিপুরের বাগআঁচড়া-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় একাধিক বিতর্কিত পোস্টার নজরে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও সনাতনী সংগঠনগুলির সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, পোস্টারগুলিতে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার পাশাপাশি সনাতন দেবদেবী এবং দেশকে অবমাননা করা হয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মঙ্গলবার শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে সনাতনী সংগঠনগুলি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তিপুরের বিভিন্ন জনবহুল এলাকা এবং দেওয়াল জুড়ে আচমকাই কিছু পোস্টার চোখে পড়ে। সেখানে একটি নির্দিষ্ট ধর্মের প্রচারের আড়ালে সনাতন হিন্দু ধর্ম ও দেবদেবী সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর এবং কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, পোস্টারে দাবি করা হয়েছে যে যিশু খ্রিস্টের শরণাপন্ন না হলে মানুষ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়বে। পাশাপাশি, তথাকথিত খ্রিস্টান অধ্যুষিত দেশগুলিকে উন্নত এবং ভারতকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই ধরনের বক্তব্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার সুস্পষ্ট চক্রান্ত বলে দাবি সনাতনী সংগঠনগুলির।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, ওই বিতর্কিত পোস্টারগুলির নিচে যোগাযোগের জন্য যে দুটি নাম ও ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেগুলি এলাকারই দুই হিন্দু ব্যক্তির। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই জনমানসে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। স্থানীয়দের দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিরীহ ব্যক্তিদের নাম জড়িয়ে এলাকায় অশান্তি বাধানোর চেষ্টা চলছে। পুরো ঘটনার নেপথ্যে কোনও পরিকল্পিত চক্রান্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
ঘটনার প্রতিবাদে শান্তিপুর থানায় একত্রিত হয়ে লিখিত ডেপুটেশন জমা দেন বিভিন্ন সনাতন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্য, ভারত এক ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে প্রতিটি ধর্মের মানুষের নিজ নিজ বিশ্বাস পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু শান্তিপুরের মতো প্রাচীন, ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী বৈষ্ণব পীঠস্থানে এমন আগ্রাসী মনোভাব এবং অন্য ধর্মকে অবমাননা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এর আগেও এলাকায় একাধিকবার নানা প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্মান্তরণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ-প্রশাসন বিষয়টি লঘু করে দেখেছে বলে তাঁদের দাবি। তবে এবার আর কোনওরকম আপস করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রতিবাদীরা। সনাতনী মঞ্চের এক প্রতিনিধির কথায়, “শান্তিপুরের মাটি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এবং অদ্বৈত আচার্যের সাধনক্ষেত্র। এখানে দাঁড়িয়ে হিন্দু দেবদেবীকে প্রকাশ্যে অপমান করা এবং নিরীহ যুবকদের ফাঁসানোর অপচেষ্টা চলছে। পুলিশ যদি অবিলম্বে এর নেপথ্যে থাকা মূল চক্রীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার না করে, তবে আগামী দিনে শান্তিপুর স্তব্ধ করে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
অভিযোগ পেয়ে নদিয়া জেলা পুলিশ তদন্তে নেমেছে। শান্তিপুর থানার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি যাতে না ঘটে, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। দেওয়াল থেকে আপত্তিকর পোস্টারগুলি সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে পোস্টারে ব্যবহৃত ফোন নম্বর ও নামের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি কারা এই পোস্টার ছাপাল এবং রাতের অন্ধকারে তা সাঁটালো, তা খতিয়ে দেখতে স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments