Homeকলকাতাপচা মাংস, ছত্রাক ধরা মাছ! কলকাতার ২৫ রেস্তোরাঁর ফুড লাইসেন্স সাসপেন্ড

পচা মাংস, ছত্রাক ধরা মাছ! কলকাতার ২৫ রেস্তোরাঁর ফুড লাইসেন্স সাসপেন্ড

নিউজ ডেস্ক; পচা ও বাসি খাবার বিক্রি, খাবারে ছত্রাকের উপস্থিতি, অস্বাস্থ্যকর রান্নাঘর এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগে কলকাতার একাধিক রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করছে পুরসভা। খাদ্য নিরাপত্তা সপ্তাহ চলাকালীন কলকাতা
resizeplus_Screenshot 2026-09-08 180500_edited (1)

নিউজ ডেস্ক; পচা ও বাসি খাবার বিক্রি, খাবারে ছত্রাকের উপস্থিতি, অস্বাস্থ্যকর রান্নাঘর এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগে কলকাতার একাধিক রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করছে পুরসভা। খাদ্য নিরাপত্তা সপ্তাহ চলাকালীন কলকাতা পুরসভার ফুড সেফটি ব্রাঞ্চের অভিযানে ইতিমধ্যেই শহরের অন্তত ২৫টি রেস্তোরাঁর ফুড লাইসেন্স বাতিল বা সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর। পাশাপাশি বেশ কিছু দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ খাবার নষ্ট করা হয়েছে।

পুরসভা সূত্রের দাবি, অভিযানে বহু রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ছবি সামনে এসেছে। কোথাও ইঁদুর ও আরশোলার উপদ্রব, কোথাও পচা মাংস ও মাছ, আবার কোথাও ছত্রাক ধরা খাবার মজুত করে রাখার অভিযোগ মিলেছে। খাবারে অনুমোদনহীন রঙের ব্যবহার এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পাঁচ দিনে প্রায় চার হাজার জায়গায় অভিযান

১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার ফুড সেফটি ব্রাঞ্চের অভিযানের যে পরিসংখ্যান পাওয়া গিয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, মোট ৩,৯৮৯টি জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩,৪৮৯টি জায়গায় গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়েছে বলে পুরসভা সূত্রে দাবি।

অভিযান চলাকালীন ২,১৫১টি জায়গা থেকে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নিয়ম না মানায় ৬০টি জায়গায় খাবার বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ৪৮টি দোকান বা খাবারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়াও ২৯টি প্রতিষ্ঠানে সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে ২৫টি রেস্তোরাঁর ফুড লাইসেন্স বাতিল বা সাসপেন্ড করা হয়েছে। পুরসভা সূত্রের দাবি, স্বাস্থ্যবিধি এবং খাদ্য নিরাপত্তার নিয়ম না মানার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রান্নাঘরে ইঁদুর-আরশোলা, মজুত পচা খাবার

পুরসভার খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের আধিকারিকদের অভিযানে একাধিক রেস্তোরাঁর রান্নাঘরের ভয়াবহ ছবি সামনে এসেছে বলে সূত্রের খবর। রান্নার জায়গা অপরিষ্কার, বাসনপত্র ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না, খাবার ঢেকে রাখা হয় না—এমন নানা অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।

কোথাও রান্নাঘরে ইঁদুর ও আরশোলার উপদ্রব দেখা গিয়েছে। কোথাও আবার পচা মাংস ও মাছ মজুত করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। কয়েকটি জায়গায় মাংস ও মাছে ছত্রাকের উপস্থিতিও নজরে এসেছে। এই ধরনের খাবার রান্না করে ক্রেতাদের পরিবেশন করা হলে খাদ্যে বিষক্রিয়া এবং গুরুতর অসুস্থতার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

খাবারে অনুমোদনহীন রঙের ব্যবহার নিয়েও পুরসভার নজরদারি চলছে। খাবারকে আকর্ষণীয় দেখাতে অতিরিক্ত বা ক্ষতিকর রঙ ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি খাবারে ব্যবহৃত তেল, মশলা, মাংস, মাছ এবং অন্যান্য উপকরণের গুণমানও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

লাইসেন্স সাসপেন্ড হলেও মিলবে সংশোধনের সুযোগ

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কোনও রেস্তোরাঁর ফুড লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হলেও সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রাথমিক ভাবে প্রায় দু’সপ্তাহ সময় দেওয়া হতে পারে। সেই সময়ের মধ্যে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে সমস্ত নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।

রান্নাঘর পরিষ্কার করা, পচা বা নিম্নমানের খাবার সরিয়ে ফেলা, খাবার সংরক্ষণের ব্যবস্থা ঠিক করা, পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মতো বিষয়গুলিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে হবে। কাজ শেষ হলে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে সংশোধিত ব্যবস্থার ছবি তুলে পুরসভায় পাঠাতে হবে।

এর পর পুরসভার তরফে ফুড সেফটি অফিসারকে ফের ওই রেস্তোরাঁয় পাঠানো হবে। তিনি সরেজমিনে সব কিছু খতিয়ে দেখবেন। নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত হলে ফের রেস্তোরাঁ চালুর অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে শর্ত পূরণ না হলে লাইসেন্স সাসপেনশন বহাল থাকবে বলেই পুরসভা সূত্রের দাবি।

১,২২৪ কেজি খাবার নষ্ট

কলকাতা পুরসভার কমিশনার জানিয়েছেন, অভিযানের সময় মোট ১,২২৪ কেজি খাবার নষ্ট করা হয়েছে। বহু জায়গা থেকে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। খাবার তৈরির ক্ষেত্রে কী ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে, রান্নাঘরের পরিবেশ কেমন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হচ্ছে কি না এবং খাদ্য নিরাপত্তার বিধি মানা হচ্ছে কি না—এই বিষয়গুলিই মূলত দেখা হচ্ছে।

পুরসভা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, শুধু রেস্তোরাঁর সামনের অংশ পরিষ্কার রাখলেই হবে না। রান্নাঘর, খাবার সংরক্ষণের জায়গা, কর্মীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং ব্যবহৃত উপকরণের গুণমান—সব ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে। কোনও একটি জায়গায় গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে।

ক্রেতাদের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তাই লক্ষ্য

পুরসভার এই অভিযানের মূল লক্ষ্য শহরের মানুষকে নিরাপদ খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা। রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে গিয়ে ক্রেতারা যাতে পচা, বাসি বা দূষিত খাবারের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর।

তবে শুধু অভিযান চালিয়ে সাময়িক ভাবে দোকান বন্ধ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না বলে মনে করছেন খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশ। নিয়মিত নজরদারি, খাবারের নমুনা পরীক্ষা এবং রেস্তোরাঁ মালিক ও কর্মীদের প্রশিক্ষণের উপরও জোর দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্রেতাদেরও খাবারের গুণমান নিয়ে সন্দেহ হলে পুরসভাকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আগামী দিনগুলিতেও কলকাতার বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, হোটেল, খাবারের দোকান এবং রাস্তার ধারের খাবারের স্টলে অভিযান চলবে বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তার নিয়ম না মেনে ব্যবসা চালানো প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

.

No Comments

তাজা খবর

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved