Homeকলকাতামিথ্যা মামলার প্রতিবাদে শ্রীরামপুরে মমতার মিছিল, অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে তৃণমূল

মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে শ্রীরামপুরে মমতার মিছিল, অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে তৃণমূল

নিউজ ডেস্ক; রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল নেতা-কর্মী এবং সমর্থকদের বিরুদ্ধে একের পর এক ‘মিথ্যা মামলা’ দেওয়া হচ্ছে—এই অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই সরব তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার সেই অভিযোগকে
Screenshot 2026-09-08 174255_edited

নিউজ ডেস্ক; রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল নেতা-কর্মী এবং সমর্থকদের বিরুদ্ধে একের পর এক ‘মিথ্যা মামলা’ দেওয়া হচ্ছে—এই অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই সরব তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার সেই অভিযোগকে সামনে রেখে পথে নামার প্রস্তুতি শুরু করল কালীঘাট তৃণমূল। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর মাহেশের রথবাড়ির সামনে থেকে শ্রীরামপুর আদালত পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে হুগলি জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রে খবর, ওই মিছিলে নিজে উপস্থিত থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে মিছিলের অনুমতি নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে জটিলতা। তৃণমূলের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুলিশের কাছে আবেদন জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি মেলেনি। আবার আবেদন বাতিলের কথাও জানানো হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। মিছিলের অনুমতি চেয়ে দায়ের করা মামলাটি আদালত গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন কালীঘাট তৃণমূলের শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তথা চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার।

বৃহস্পতিবার শুনানি

সোমবার মামলা দায়েরের পর অসিত মজুমদার বলেন, আদালত তাঁদের আবেদন গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার মামলাটির শুনানি হবে। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক অধিকার অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের তরফে কোনও স্পষ্ট উত্তর না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১ সেপ্টেম্বর চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের কাছে মিছিলের অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়। মিছিলের রুট, সময় এবং অংশগ্রহণকারীদের বিষয়ে পুলিশকে বিস্তারিত জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। দলীয় নেতৃত্বের আশঙ্কা, বিজেপি সরকারের অধীনে থাকা পুলিশ প্রশাসন হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিকে অনুমোদন দিতে চাইছে না।

তৃণমূলের আরও অভিযোগ, মিছিলের দিন নেতা-কর্মীদের আটক বা গ্রেফতার করে কর্মসূচি বানচাল করার চেষ্টা হতে পারে। সেই আশঙ্কার কথাও আদালতে দায়ের করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতারা।

ক্ষমতা হারানোর পর কলকাতার বাইরে বড় কর্মসূচি

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও পর্যন্ত কলকাতার বাইরে তেমন কোনও বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেননি। ফলে আদালত মিছিলের অনুমতি দিলে শ্রীরামপুরের এই পদযাত্রা তাঁর জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ক্ষমতা হারানোর পর কলকাতার বাইরে এটিই হতে পারে মমতার প্রথম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি।

এই কর্মসূচিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে হুগলি জেলা তৃণমূল। মিছিলে দলের পুরোনো নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত থাকবেন বলে দাবি জেলা নেতৃত্বের। এছাড়াও অসিত মজুমদার, সঞ্জীব চক্রবর্তী, কৌশিক শীল, সুদীপ চক্রবর্তী এবং সমীর সাহার মতো নেতাদের মিছিলে হাঁটার কথা রয়েছে।

তবে মিছিলকে ঘিরে দলের অন্দরে কিছুটা সংশয়ও রয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর হুগলির বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হয়েছে বলে মনে করছেন দলেরই একাংশ। বহু নেতা গ্রেফতার হয়েছেন, অনেকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ। একাধিক পুরসভা এবং গ্রাম পঞ্চায়েতও তৃণমূলের হাতছাড়া হয়েছে।

গ্রেফতারির অভিজ্ঞতা অসিতের

হুগলির তৃণমূল নেতাদের মধ্যে অসিত মজুমদারকে বর্তমানে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর দু’দফায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। পরে জামিনে মুক্তি পান। তাঁর বক্তব্য, পুলিশ প্রশাসনের উপর তাঁদের কোনও আস্থা নেই।

মামলা দায়েরের পর অসিত বলেন, গত ২১ জুলাই কলকাতার কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার আগেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এ বার শ্রীরামপুরের মিছিলে যোগ দেওয়ার আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। তাঁর দাবি, সেই আশঙ্কার কথা আদালতের আবেদনেও স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে।

অসিতের অভিযোগ, বিজেপি সরকার পুলিশকে ব্যবহার করে বিরোধীদের দমন করার কৌশল নিয়েছে। তবে গ্রেফতারি বা মামলা করে তৃণমূলকে আন্দোলন থেকে সরানো যাবে না বলেও দাবি করেন তিনি। বিচারব্যবস্থা এবং আদালতের উপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি।

লোক জড়ো করা নিয়েও চিন্তা

মিছিলের অনুমতি নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি কর্মসূচিতে কতটা লোক জড়ো করা যাবে, তা নিয়েও তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা চলছে। দলের একাধিক নেতা অন্য শিবিরে চলে যাওয়ায় এবং সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আসায় শ্রীরামপুরের মতো এলাকায় বড় জমায়েত করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর মতো কয়েকজন নেতা তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি। যদিও তাঁদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও বড় ধরনের পুলিশি পদক্ষেপের খবর নেই। সব মিলিয়ে কালীঘাট শিবিরের সংগঠন অনেকটাই ছন্নছাড়া বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

তার পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিলকে সফল করতে মরিয়া হুগলি জেলা তৃণমূল। এখন নজর বৃহস্পতিবারের শুনানির দিকে। আদালত কী নির্দেশ দেয়, তার উপরই নির্ভর করছে ১১ সেপ্টেম্বরের প্রতিবাদ মিছিলের ভবিষ্যৎ। বিজেপির তরফে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

No Comments

তাজা খবর

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved