
নিউজ ডেস্ক; ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে নামী আইটি সংস্থায় চাকরি করতেন হুগলির উত্তরপাড়ার এক যুবক। এ বার সেই চাকরি ছেড়ে সাইবার প্রতারণার চক্রে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার তাঁকে গ্রেফতার করেছে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার অপরাধ দমন শাখা। একই সঙ্গে আরও ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তদের প্রতারণার জাল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিল।
তদন্তকারীদের বক্তব্য, হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেজে লিঙ্ক পাঠিয়ে কিংবা সাহায্য করার অছিলায় সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলত এই চক্র। অনেকটা জামতাড়া গ্যাংয়ের কায়দায় প্রতারণা চালানো হত বলে অভিযোগ। ধৃতদের কাছ থেকে একাধিক ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, প্যান কার্ড, চেকবই, ব্যাঙ্কের পাশবই, তিনটি মোবাইল ফোন এবং সাতটি সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপাড়ার ওই যুবক একটি বড় কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পরে নামী আইটি সংস্থায় চাকরি করতেন। তাঁর আর্থিক অবস্থাও সচ্ছল ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। কিন্তু সেই চাকরি ছেড়ে তিনি কী ভাবে প্রতারণা চক্রে জড়িয়ে পড়লেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নথি ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী ঘিরে তদন্ত এগোচ্ছে। ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড, প্যান কার্ড, চেকবই এবং পাশবই—এই সব সামগ্রী কী ভাবে ব্যবহার করা হত, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন গোয়েন্দারা।
চন্দননগর পুলিশের সাইবার থানায় প্রতারণার একাধিক অভিযোগ আসার পরেই তদন্ত শুরু হয়। তদন্তকারীরা একে একে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করেন। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
চন্দননগর পুলিশের ডিসি (ডিডি) রূপান্ত সেনগুপ্ত বলেন, “ধৃতরা বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তদন্তের স্বার্থে এখনই তাঁদের নাম-পরিচয় সামনে আনছি না আমরা। ধৃতদের কয়েক জন পূর্ব পরিচিত। তবে অপরাধের কৌশল প্রায় এক।”
পুলিশের দাবি, ধৃতদের মধ্যে কয়েক জনের আগে থেকেই পরিচয় ছিল। তাঁদের অপরাধের পদ্ধতিও প্রায় একই রকম। তবে এই চক্রে আরও কারা যুক্ত রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেজে লিঙ্ক পাঠিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলত অভিযুক্তরা। কখনও সাহায্য করার অছিলায় যোগাযোগ করা হত। পরে নানা কৌশলে ব্যক্তিগত বা ব্যাঙ্ক-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হত বলে পুলিশের দাবি।
অনেকটা জামতাড়া গ্যাংয়ের কায়দায় এই প্রতারণা চালানো হত বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। তবে ধৃতদের সঙ্গে জামতাড়ার কোনও নির্দিষ্ট গ্যাংয়ের যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই চক্রের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে থাকার দাবি করেছে পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত ঠিক কত জনের কাছ থেকে কত টাকা প্রতারণা করা হয়েছে, তার স্পষ্ট হিসাব মেলেনি। তদন্ত এগোলে সেই তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন আধিকারিকেরা।
পুলিশের অনুমান, এই চক্রে আরও অনেকে যুক্ত থাকতে পারেন। ধৃতদের জেরা করে তাঁদের পরিচয়, যোগাযোগ এবং প্রতারণার পরিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও সিম কার্ডও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।
এক দিকে নামী আইটি সংস্থায় চাকরি করা এক যুবকের বিরুদ্ধে প্রতারণা চক্রে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ, অন্য দিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ১১ জনের গ্রেফতার—এই ঘটনায় চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে আপাতত ধৃতদের পরিচয় গোপন রাখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধার হওয়া সামগ্রী পরীক্ষা করে প্রতারণার পদ্ধতি, সম্ভাব্য সহযোগী এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়ার আশা করছেন তদন্তকারীরা।
সব মিলিয়ে, চন্দননগর পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন শাখার এই অভিযানে উত্তরপাড়ার এক যুবক-সহ মোট ১২ জন গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু এই চক্রের প্রকৃত পরিধি কতটা, কত জন প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং আরও কারা এর সঙ্গে যুক্ত—এখন সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments