Homeকলকাতাক্যামাক স্ট্রিটের বিলবোর্ড মামলা: হাইকোর্টেই শুনানি, হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট

ক্যামাক স্ট্রিটের বিলবোর্ড মামলা: হাইকোর্টেই শুনানি, হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট

নিউজ ডেস্ক; ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের বিলবোর্ড খোলা নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় আপাতত কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল থাকল। সোমবার
resizeplus_Screenshot 2026-09-08 123841_edited

নিউজ ডেস্ক; ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের বিলবোর্ড খোলা নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় আপাতত কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল থাকল। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই বিষয়ে তারা কোনও রকম হস্তক্ষেপ করবে না। মামলার শুনানি কলকাতা হাইকোর্টেই হবে। তবে দ্রুত শুনানি করে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের হয়ে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিবাল। তাঁর বক্তব্য ছিল, ক্যামাক স্ট্রিটের ৯ নম্বর ভবনটি লিজ়ে নেওয়া হয়েছে এবং সেখানে দলের অফিস চলছে। সেই অফিসে একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের বোর্ড রাখা যাবে না কেন, সেই প্রশ্নই তোলেন তিনি।

সিবালের যুক্তি, একই এলাকায় একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বোর্ডও ছিল। তৃণমূলের বোর্ড খোলা হলেও সেই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বোর্ড খোলা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, “তৃণমূলের বোর্ড খোলা হলেও কেন ওই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বোর্ড খোলা হলো না?” এই যুক্তির ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি।

তবে শীর্ষ আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। আদালত জানায়, মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন। এখনও সেখানে মামলাটির নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে এই পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। হাইকোর্টের শুনানির মাধ্যমেই বিষয়টির সমাধান করতে হবে।

ঘটনার সূত্রপাত ২৭ অগস্ট বিকেলে। অভিযোগ, কলকাতা পুরসভা নিয়ম মেনে অভিষেকের অফিস থেকে বিলবোর্ড খোলেনি—এই দাবি তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে তৃণমূলের কালীঘাট শিবির। সেই দিনই ৯ ক্যামাক স্ট্রিটে বিলবোর্ড খুলতে যাওয়া পুরসভা ও পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া, তাঁদের মারধর এবং মহিলা পুলিশকর্মীদের শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে একাধিক মামলা রুজু হয়।

অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ তৃণমূলের অন্য নেতা-কর্মীদের নামেও মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েক জনকে ইতিমধ্যেই পুলিশ তলব করেছে। তাঁদের জন্য হাইকোর্টে রক্ষাকবচ চাওয়া হলেও তা মেলেনি। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূলের কালীঘাট শিবির।

এ দিন সুপ্রিম কোর্টে সিবালের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে দলের বোর্ড থাকা স্বাভাবিক। তাঁর দাবি, ওই ভবনটি লিজ়ে নেওয়া এবং সেখানে নিয়মিত অফিস চালানো হলেও বোর্ড খোলার ক্ষেত্রে কেন শুধু তৃণমূলের অফিসকেই নিশানা করা হল, তা স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে পাশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বোর্ড না খোলার বিষয়টিও তিনি আদালতের সামনে তুলে ধরেন।

যদিও শীর্ষ আদালত এই পর্যায়ে কোনও নির্দেশ না দিয়ে মামলাটি হাইকোর্টেই পাঠিয়ে দিয়েছে। ফলে বিলবোর্ড খোলা নিয়ে মূল বিতর্কের নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। হাইকোর্টে দ্রুত শুনানির মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হবে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

অন্য দিকে, ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্তও চলছে। এ দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ। এ বার তাঁকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এই নিয়ে দ্বিতীয় বার তাঁকে তলব করা হল।

কলকাতা পুরসভার এক অফিসারের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতেই সুমিতকে তলব করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার পরে থানা থেকে বেরনোর সময়ে সাংবাদিকেরা তাঁকে প্রশ্ন করেন। তবে তিনি কোনও উত্তর দেননি।

সব মিলিয়ে, সোমবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান স্পষ্ট—ক্যামাক স্ট্রিটের বিলবোর্ড মামলা নিয়ে শীর্ষ আদালত সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না। হাইকোর্টেই দ্রুত শুনানি করে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে হবে। অন্য দিকে, বিলবোর্ড খোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলাগুলির তদন্তও চলছে। ফলে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক চাপানউতোরও অব্যাহত রয়েছে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved