Last updated: September 8th, 2026 at 03:35 pm

নিউজ ডেস্ক; অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়েরের অভিযোগ ঘিরে এ বার কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ভবিষ্যতে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন কোনও এফআইআর দায়েরের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া যায় কি না, সোমবারের শুনানিতে সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা জানালেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তদন্তে আদালত হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তদন্ত চলবে, প্রয়োজন হলে চার্জশিটও দেওয়া হবে। কিন্তু এই পর্যায়ে অভিষেককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে আদালতে।
‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে ওষুধ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অভিষেকের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক এফআইআর দায়ের হয়েছিল। সেই মামলাগুলিকে চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সোমবার মামলার শুনানিতে তাঁর হয়ে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন। শুনানির শুরুতেই তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই অভিষেককে বার বার মামলায় জড়ানো হচ্ছে।
আইনজীবীর বক্তব্য, অভিষেকের বিরুদ্ধে মোট ১৬টি অভিযোগের মধ্যে সাতটিই দায়ের করেছেন বিজেপির অভিজিৎ দাস, যিনি অতীতে অভিষেকের কাছে দু’বার নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। তাঁর দাবি, অভিযোগকারীর রাজনৈতিক অভিসন্ধি অস্বীকার করার উপায় নেই। শুধু তা-ই নয়, যে অভিযোগগুলির ভিত্তিতে এফআইআর হয়েছে, সেগুলির কোথাও নির্দিষ্ট ভাবে অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও বক্তব্য নেই বলেও আদালতে দাবি করেন তিনি।
এই যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, তদন্ত না করেই কী ভাবে ওই অভিযোগের সঙ্গে অভিষেককে যুক্ত করা হচ্ছে? আদালতের পর্যবেক্ষণ, তিনি নিজে তিনটি অভিযোগ দেখেছেন। কিন্তু কোনওটির সঙ্গেই আবেদনকারীর সরাসরি যোগ খুঁজে পাননি। বিচারপতির প্রশ্ন, “তিনি যদি ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তা হলে কীসের ভিত্তিতে তিনি মামলা দায়ের করেছেন?”
রাজ্যের তরফে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার পাল্টা যুক্তি দেন, অভিযোগটি ভুয়ো ওষুধ সংক্রান্ত এবং অভিযোগকারী এক জন হুইসল ব্লোয়ার। সেই বক্তব্যের পর বিচারপতির প্রশ্ন, “তিনি কি ওষুধটি প্রেসক্রাইব করেছেন?” একই সঙ্গে এত দিন পরে কেন মামলা দায়ের করা হল, তা-ও জানতে চায় আদালত। বিচারপতির আরও প্রশ্ন, একই ব্যক্তি, যিনি অভিষেকের কাছে দু’বার হেরেছেন, তিনিই বার বার অভিযোগ করছেন কেন?
এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের মন্তব্য, “যথেষ্ট হয়েছে। ৪ মে থেকে বিষয়টি শুনে আসছি।” তিনি জানান, এই মামলা-সহ হাইকোর্টের অন্য বেঞ্চে অভিষেকের বিরুদ্ধে যে সব মামলা চলছে, সেগুলিও আদালত বিবেচনা করবে। অতীতে প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মামলায় আদালত যে ধরনের নির্দেশ দিয়েছিল, তার ভিত্তিতে অভিষেকের ক্ষেত্রেও ‘ব্ল্যাঙ্কেট রক্ষাকবচ’-এর আদেশ দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনা করা হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
তবে আদালতের এই অবস্থানকে তদন্ত বন্ধের নির্দেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বিচারপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তদন্ত চলুক, চার্জশিট দেওয়া হোক। কিন্তু এই পর্যায়ে অভিষেককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই। তাঁর কথায়, “এটা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনও এফআইআর দায়ের করা আটকাতে আমি ব্ল্যাঙ্কেট অর্ডার দেবো।”
অন্য দিকে, অভিযোগকারী অভিজিৎ দাসের আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় আদালতে পাল্টা সওয়াল করেন। তাঁর দাবি, এত দিন অভিষেকের ভয়ে মানুষ অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি। তিনি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এতদিন ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিলেন। তাঁর ভয়ে মানুষ অভিযোগ দায়ের করতে পারেনি।” তাঁর আরও অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে অভিষেক গোটা রাজ্যকে আতঙ্কিত করে রেখেছিলেন। তাঁর মক্কেল অভিযোগ সামনে আনার পর এখন অনেকে এগিয়ে আসার সাহস পাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ফলে সোমবারের শুনানিতে এক দিকে যেমন অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলির ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্য দিকে তেমনই ভবিষ্যতে নতুন এফআইআর দায়েরের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে কি না, সেই সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়নি। মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালতের অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে পারে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments