Last updated: September 7th, 2026 at 04:26 pm

বিশ্বজিৎ ব্যানার্জি ,রানাঘাট -অবলা প্রাণীদের ওপর চরম নিষ্ঠুরতা ও বেআইনি গবাদি পশু পাচারের এক শিহরণ জাগানো দৃশ্য দেখল নদিয়া। যাত্রীবাহী সাধারণ টোটোর ভেতর নির্মমভাবে বেঁধে পাচার করা হচ্ছিল একাধিক গবাদি পশু। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে কার্যত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার জোগাড় হয়েছিল অবলা জীবগুলির। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের সাহসিকতা ও তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে বানচাল হয়ে গেল সেই পাচারের অপচেষ্টা। নদিয়া জেলার হবিবপুর নারকেল বাগান এলাকার এই ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা দুটি বাছুরকে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বিকেলে নারকেল বাগান এলাকায় রাস্তার পাশে বসে কথা বলছিলেন বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী। ঠিক সেই সময় তাঁদের নজরে আসে ধীরগতিতে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী ইলেকট্রিক টোটো। কিন্তু সাধারণ যাত্রীর পরিবর্তে সেই টোটোর ভেতরের দৃশ্য দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয় তাঁদের। দেখা যায়, বসার জায়গায় অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে পা ও মুখ বেঁধে গাদাগাদি করে বেশ কয়েকটি বাছুর ও গরু বোঝাই করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাঁধার কায়দা এতটাই অমানবিক ছিল যে নড়াচড়া করার বিন্দুমাত্র সুযোগ ছিল না পশুগুলির। এমনকি অতিরিক্ত চাপ ও দমবন্ধ করা পরিস্থিতির কারণে একটি বাছুরের মুখ দিয়ে জিভ বেরিয়ে আসছিল এবং তীব্র শ্বাসকষ্টে সেটি কাতরাচ্ছিল।
অবলা প্রাণীদের ওপর এমন চরম অত্যাচার দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন উপস্থিত বাসিন্দারা। তাঁরা এক মুহূর্তও দেরি না করে দৌড়ে গিয়ে টোটোটিকে ঘিরে ফেলেন এবং সেটিকে থামতে বাধ্য করেন। স্থানীয়দের রুদ্রমূর্তি এবং পরিস্থিতি বেগতিক বুঝতে পেরে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে পাচারকারীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, টোটোচালকসহ মোট তিনজন ব্যক্তি এই পুরো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল। গ্রামবাসীরা তাঁদের চেপে ধরতেই অভিযুক্তরা ধূর্ততার আশ্রয় নেয়। তারা দাবি করে, স্থানীয় এক গৃহস্থের বাড়ি থেকে গরুগুলি কেনা হয়েছে এবং মালিককে ডেকে নিয়ে আসার নাম করে এক নিমেষে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সুব্রত মল্লিক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আমরা যদি সময়মতো টোটোটিকে না আটকাতাম, তবে যে নিষ্ঠুর কায়দায় পশুগুলোকে বাঁধা হয়েছিল, তাতে হয়তো পথেই দমবন্ধ হয়ে মারা যেত বাছুরগুলো। অবলা প্রাণীদের ওপর এমন অমানুষিক নিষ্ঠুরতা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।” স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমান, সীমান্তবর্তী নদিয়া জেলার ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নিয়ে নিয়মিত এই রুটে গবাদি পশু পাচার চলে। হবিবপুর ও শান্তিপুরের গ্রামীণ রাস্তাগুলিকে ব্যবহার করে রাতের অন্ধকারে কিংবা নজরদারি এড়াতে অভিনব উপায়ে টোটো বা ছোট গাড়িতে করে গরুগুলি বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে পাচারের উদ্দেশ্যেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ইতিপূর্বেও এলাকায় এমন একাধিক সন্দেহজনক ঘটনা নজরে এসেছে বলে দাবি তাঁদের।
খবর পেয়ে কালবিলম্ব না করে অকুস্থলে পৌঁছায় শান্তিপুর থানার পুলিশ। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সংকটজনক অবস্থায় থাকা গরু ও বাছুরগুলিকে উদ্ধার করে বাঁধনমুক্ত করে প্রাথমিক পরিচর্যার ব্যবস্থা করে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে আটক করে এবং উদ্ধার হওয়া গবাদি পশুগুলিকে নিরাপদে থানায় নিয়ে যায়। এই চক্রের পেছনে স্থানীয় কোনও দালাল জড়িত রয়েছে কি না, নাকি এটি বৃহত্তর কোনও আন্তঃসীমান্ত পাচার চক্রের অংশ, তা খতিয়ে দেখতে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে শান্তিপুর থানার পুলিশ।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments