Homeহুগলিতারকেশ্বররবিবার চানাচুর কারখানায় খাদ্য দফতরের হানা, তারকেশ্বরে পরিদর্শন ঘিরে বচসার অভিযোগ

রবিবার চানাচুর কারখানায় খাদ্য দফতরের হানা, তারকেশ্বরে পরিদর্শন ঘিরে বচসার অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক; খাবারের দোকান, রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে খাদ্য উৎপাদনকারী কারখানা—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। সেই অভিযানের মধ্যেই রবিবার হুগলির তারকেশ্বরে একটি চানাচুর কারখানায় পরিদর্শনে
resizeplus_Screenshot 2026-09-07 120433_edited

নিউজ ডেস্ক; খাবারের দোকান, রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে খাদ্য উৎপাদনকারী কারখানা—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। সেই অভিযানের মধ্যেই রবিবার হুগলির তারকেশ্বরে একটি চানাচুর কারখানায় পরিদর্শনে গিয়ে বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ উঠল। কারখানার মালিকের সঙ্গে আধিকারিকদের বচসা হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যায় তারকেশ্বর থানার পুলিশ। মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা।

রবিবার দুপুরে তারকেশ্বরের মুক্তারপুর এলাকায় ওই চানাচুর কারখানায় যান খাদ্য সুরক্ষা দফতরের কয়েকজন আধিকারিক। কারখানার ভিতরে প্রবেশের পরেই মালিকের সঙ্গে তাঁদের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় বলে অভিযোগ। আধিকারিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং ধমক-চমক দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে কারখানার মালিক সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

রবিবার কেন অভিযান, প্রশ্ন মালিকের

খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা ছুটির দিন, অর্থাৎ রবিবার কেন কারখানায় এসেছেন, সেই প্রশ্ন তোলেন মালিক। তাঁর সঙ্গে আধিকারিকদের কথাকাটাকাটি হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে তারকেশ্বর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিক বিশ্বজিৎ মান্না জানান, আইন অনুযায়ী যে কোনও সময়ে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা পরিদর্শনে যেতে পারেন। সেই নিয়ম মেনেই রবিবার ওই কারখানায় অভিযান চালানো হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, চানাচুর তৈরির সময়ে যে উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলি খাদ্যযোগ্য কি না, তা পরীক্ষা করাই ছিল অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি কোনও অস্বাস্থ্যকর বা অনুপযুক্ত সামগ্রী প্যাকেটজাত করা হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছিল।

বিশ্বজিৎ মান্নার অভিযোগ, কারখানায় গিয়ে তাঁরা বাধার মুখে পড়েছেন। তিনি বলেন, “এখানে অভিযানে এসে আমাদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। আমাদের সঙ্গে পুলিশ আধিকারিকরা রয়েছেন। তাঁরা বিষয়টি দেখছেন। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।”

মালিকের দাবি, কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি

অন্য দিকে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কারখানার মালিক বংশীবদন দোলুই। তাঁর দাবি, খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে তিনি কোনও অসহযোগিতা করেননি। কাউকে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তিনি মানতে চাননি।

বংশীবদন বলেন, “আমি ওঁদের সঙ্গে কোনও অসযোগিতা করিনি। কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি।”

ফলে কারখানায় ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ তৈরি হয়েছে। খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা যেখানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন, সেখানে মালিকের দাবি, তিনি কোনও অসহযোগিতা করেননি। এই পরিস্থিতিতে পুলিশের উপস্থিতিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনাস্থলে বিধায়ক, আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় বিধায়ক সন্তু পান। তিনি বলেন, খাদ্য দফতরের আধিকারিকদের কারখানায় ঢুকতে দেওয়া হবে না—এমন কথা শুনেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, খাদ্যসামগ্রী কী ভাবে তৈরি হচ্ছে, তা জানার অধিকার সাধারণ মানুষের রয়েছে। সেই কারণেই রাজ্যজুড়ে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযান চলছে।

সন্তু পান বলেন, “আমি শুনলাম খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকদের ঢুকতে দেওয়া হবে না বলা হয়েছে। আমাদের জানার অধিকার আছে, খাদ্য সামগ্রী কী ভাবে হচ্ছে সেটা জানার। সেই কারণেই রাজ্য জুড়ে এই অভিযান চলছে। আমি পুলিশকে জানিয়েছি আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে।”

খাদ্যসামগ্রীর গুণমান এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ নতুন নয়। বিশেষ করে রাস্তার খাবার, ছোট কারখানা বা প্যাকেটজাত খাদ্যসামগ্রী তৈরির ক্ষেত্রে উপাদানের মান, পরিচ্ছন্নতা এবং সংরক্ষণের নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই খাদ্য সুরক্ষা দফতরের পরিদর্শনকে প্রশাসনের তরফে নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অভিযানের উদ্দেশ্য খাদ্যসামগ্রীর মান যাচাই

খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, চানাচুর তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান খাদ্যযোগ্য কি না এবং অস্বাস্থ্যকর কোনও সামগ্রী প্যাকেটজাত করা হচ্ছে কি না, তা দেখতেই ওই কারখানায় অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে অভিযানে কোনও নির্দিষ্ট খাদ্যসামগ্রী অনুপযুক্ত বা অস্বাস্থ্যকর প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই।

এখন মূল প্রশ্ন, কারখানায় পরিদর্শনের সময় বাধা দেওয়ার অভিযোগের পর কী ব্যবস্থা নেয় খাদ্য সুরক্ষা দফতর এবং পুলিশ। আধিকারিকরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অন্য দিকে, মালিক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে পরবর্তী তদন্তে কী উঠে আসে, সেদিকেই নজর থাকবে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved