
নিউজ ডেস্ক : ফরাক্কা এলাকায় পরিস্থিতির জেরে রেল পরিষেবায় বড়সড় প্রভাব পড়েছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের যাত্রাপথ বদল করা হয়েছে। আবার বেশ কিছু প্যাসেঞ্জার ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিলও করা হয়েছে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন বহু যাত্রী। রেলের বুলেটিন অনুযায়ী, নিউ ফারাক্কা–আজিমগঞ্জ–নাথপুর, নিউ ফারাক্কা–আজিমগঞ্জ–কাটিহার এবং কিউল–মোকামা–কাটিহার রুটে একাধিক ট্রেনকে বিকল্প পথে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফরাক্কার পরিস্থিতির কারণে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে রেল যোগাযোগের উপরেও তার প্রভাব পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেনকে মূল রুটের পরিবর্তে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছে কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, দার্জিলিং মেল, জোগবনী এক্সপ্রেস, পদাতিক এক্সপ্রেস, গৌড় এক্সপ্রেস, কামাখ্যা এক্সপ্রেস এবং বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন। ফলে যাত্রীদের যাত্রাসূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে গন্তব্যে পৌঁছতে অতিরিক্ত সময় লাগার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
শুধু রুট বদল নয়, ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বরের একাধিক প্যাসেঞ্জার ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করার কথাও জানিয়েছে রেল। বাতিলের তালিকায় রয়েছে মালদহ–সাহিবগঞ্জ, সাহিবগঞ্জ–মালদহ, মালদহ–হাওড়া, হাওড়া–মালদহ, মালদহ–আজিমগঞ্জ এবং হাওড়া–নিউ জলপাইগুড়ি-সহ একাধিক ট্রেন। হঠাৎ পরিষেবায় পরিবর্তন ও বাতিলের জেরে যাত্রীদের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
এরই মধ্যে রেলযাত্রীদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে হলদিবাড়ি থেকে। ছোট শিশুকে সঙ্গে নিয়ে দার্জিলিং মেলে যাত্রা করছিলেন এক যাত্রী। শিশুর জন্য দুধের প্রয়োজন হওয়ায় রেলের কাছে সাহায্য চাওয়া হয়। বিষয়টি জানানো হয় রেল হেল্পলাইন ১৩৯-এ।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই অভিযোগটি ‘Facilities for Women with Special Needs’ বিভাগের অধীনে ‘Baby Food’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ নথিভুক্ত হওয়ার পর শিশুটির প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়। অর্থাৎ, দীর্ঘ যাত্রাপথে শিশুর প্রয়োজনীয় খাবার জোগাড় করতে যাতে পরিবারটিকে সমস্যায় পড়তে না হয়, সেই দিকটি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
অন্য দিকে, রুট পরিবর্তন এবং ট্রেন আটকে যাওয়ার কারণে একাধিক যাত্রিবাহী ট্রেনেও যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। কোথাও ট্রেন থমকে রয়েছে, কোথাও আবার নির্ধারিত রুটের পরিবর্তে বিকল্প পথে পরিষেবা চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আটকে থাকা যাত্রীদের জন্য প্রশাসনের তরফে ট্রেনেই জল ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শুধু খাবার ও পানীয়ের বন্দোবস্ত করেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা নয়, আটকে থাকা যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সরকারি বাস নামানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রায় ২০টি সরকারি বাসের মাধ্যমে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এই বাস পরিষেবার জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে কোনও ভাড়া নেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
ফলে রেলপথে পরিষেবা ব্যাহত হলেও যাত্রীদের বিকল্প পরিবহণের মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন আটকে থাকা যাত্রীরা। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ ট্রেনে আটকে থাকা প্রবীণ, মহিলা, শিশু এবং অসুস্থ যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ফরাক্কার পরিস্থিতি মোকাবিলায় রেলের তরফেও জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। ট্রেনের গতিপথ পরিবর্তন, পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা—সব দিকেই নজর রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রেল ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।
যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নবান্ন থেকেও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে উল্লেখ্য, আপনার দেওয়া তথ্যে মুখ্যমন্ত্রীর নাম হিসেবে ‘শুভেন্দু অধিকারী’ লেখা রয়েছে—এই অংশটি প্রকাশের আগে অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন, কারণ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর নাম-সংক্রান্ত তথ্যটি বর্তমান সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি।
সব মিলিয়ে, ফরাক্কা-সহ সংশ্লিষ্ট রেলপথে পরিস্থিতির কারণে যাত্রী পরিষেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। একাধিক ট্রেন বাতিল, বহু ট্রেনের রুট বদল এবং কিছু ট্রেন আটকে পড়ায় যাত্রীদের পরিকল্পনায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের পরিষেবা ও রুট সম্পর্কে রেলের সর্বশেষ ঘোষণা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রীদের ক্ষেত্রে ট্রেন বাতিল হয়েছে কি না, রুট পরিবর্তন করা হয়েছে কি না এবং বিকল্প পরিবহণের ব্যবস্থা কোথা থেকে পাওয়া যাবে—এই বিষয়গুলি আগে জেনে নেওয়া জরুরি। প্রশাসনের দাবি, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিশ্চিত করতেই সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফরাক্কার পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হলে রেল পরিষেবাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments