Homeহুগলিধনিয়াখালিস্কুলের বাইরে আইসক্রিম, কারখানায় মেয়াদ-উত্তীর্ণ রং-ফ্লেভার! ধনিয়াখালিতে অভিযান

স্কুলের বাইরে আইসক্রিম, কারখানায় মেয়াদ-উত্তীর্ণ রং-ফ্লেভার! ধনিয়াখালিতে অভিযান

resizeplus_Screenshot 2026-09-05 123916_edited

নিউজ ডেস্ক; স্কুলের গেটের বাইরে রংবেরঙের আইসক্রিমের ঠেলা। পড়ুয়াদের পছন্দের সেই খাবারই তৈরি হচ্ছে কি না অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে, উঠছে প্রশ্ন। ধনিয়াখালির চৌতারা এলাকায় একটি আইসক্রিম কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযানে মেয়াদ-উত্তীর্ণ ফ্লেভার ও রং উদ্ধারের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারখানায় লাইসেন্সের কাগজপত্র দেখাতে না পারার অভিযোগও উঠেছে। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের দাবি, কারখানায় স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে আইসক্রিম তৈরি হচ্ছিল না। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, আইন মেনে উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কারখানা কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযানের পর খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের বক্তব্য, কারখানায় আইসক্রিম তৈরির জন্য রাখা বহু ফ্লেভার ও রংয়ের প্রায় সবই মেয়াদ-উত্তীর্ণ ছিল। যে ফ্রিজে আইসক্রিম রাখা হয়, সেটিও অপরিচ্ছন্ন বলে অভিযোগ। ফ্রিজে ব্যবহৃত জলের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দপ্তরের আধিকারিকেরা নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন। অভিযানের সময় বেশ কিছু আইসক্রিম ফেলে দেওয়া হয় বলেও জানা গিয়েছে।

তারকেশ্বরের ফুড সেফটি অফিসার শুভজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, “ফুড বা ট্রেড কোনও লাইসেন্স নেই। কিছুই দেখাতে পারেননি। মেয়াদ-উত্তীর্ণ ফ্লেভার ও রং মিলেছে। ফ্রিজের মধ্যে জলের বাজে অবস্থা।” তাঁর বক্তব্য, কারখানায় খাদ্য তৈরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছিল না। তবে সংগৃহীত নমুনার পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত আইসক্রিমের গুণমান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না।

খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, এই কারখানা নিয়ে আগেও অভিযোগ উঠেছিল। শ্রাবণী মেলার শুরুতে সেখানে অভিযান চালানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন শুভজিৎ। সেই সময়েও প্রয়োজনীয় উন্নতির কথা বলা হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। কিন্তু এ বারও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসায় পদক্ষেপ করা হয়েছে। দপ্তরের তরফে কারখানা কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আইন মেনে উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নথিপত্র দেখানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে।

এ দিনের অভিযানে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীদের সঙ্গে পুলিশও ছিল। কারখানার ভিতরে রাখা উপকরণ, ফ্রিজ এবং উৎপাদন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হয়। অভিযানের পর থেকেই এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে আইসক্রিমের জনপ্রিয়তা থাকায় অভিভাবকদের একাংশও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তবে এই ঘটনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, মেয়াদ-উত্তীর্ণ উপকরণ পাওয়া গেলেই তৈরি আইসক্রিমে বিষ মেশানো হয়েছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর যে অভিযোগ তুলেছে, তা নমুনা পরীক্ষা ও তদন্তের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হবে। আপাতত কারখানার স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, উপকরণের মান এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয়েই জোর দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, স্কুলের আশপাশে যে সব খাবার বিক্রি হয়, সেগুলির মান নিয়েও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের জন্য বিক্রি হওয়া খাবারের ক্ষেত্রে উৎপাদন ও সংরক্ষণের পরিবেশ যথাযথ থাকা জরুরি। কারখানায় যদি সত্যিই মেয়াদ-উত্তীর্ণ উপকরণ ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তা হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেই মনে করছেন তাঁরা।

অভিযানের পরে এখন নজর থাকবে পরীক্ষার রিপোর্টের দিকে। সেই রিপোর্টে কী উঠে আসে, তার উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, কারখানা কর্তৃপক্ষ সাত দিনের নোটিশের পর কী ব্যবস্থা নেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের এই অভিযান ফের মনে করিয়ে দিল, শিশুদের পছন্দের খাবার তৈরি ও বিক্রির ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলা কতটা জরুরি।

No Comments

    একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

    LINKS

    ABOUT US

    ফোন নম্বর

    +৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯

    আমাদের ঠিকানা

    আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
    কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
    কলকাতা - ৭০০০৯১

    Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved