Homeউত্তর দিনাজপুরইসলামপুরইসলামপুরে তৃণমূল কার্যালয়ের পুরোনো ব্যানার ঘিরে চর্চা, বর্জ্যবাহী গাড়িতে নিয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক তরজা

ইসলামপুরে তৃণমূল কার্যালয়ের পুরোনো ব্যানার ঘিরে চর্চা, বর্জ্যবাহী গাড়িতে নিয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক তরজা

নিউজ ডেস্ক; ইসলামপুর শহরে তৃণমূলের সদর কার্যালয় থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি-সহ একটি পুরোনো ব্যানার সরিয়ে ফেলা এবং পরে সেটিকে পুরসভার
resizeplus_Screenshot 2026-09-04 125347_edited

নিউজ ডেস্ক; ইসলামপুর শহরে তৃণমূলের সদর কার্যালয় থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি-সহ একটি পুরোনো ব্যানার সরিয়ে ফেলা এবং পরে সেটিকে পুরসভার বর্জ্যবাহী গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কার্যালয়ে থাকা ওই ব্যানার বদলে নতুন ব্যানার লাগানো হয়েছে। নতুন ব্যানারে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নেই। সেখানে শুধুমাত্র দলের চেয়ারপার্সন তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই বিরোধীদের কটাক্ষ শুরু হয়েছে। বিজেপি এবং সিপিআইএমের স্থানীয় নেতারা এই পরিবর্তনকে রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ বলে দাবি করেছেন। যদিও ব্যানার বদলের কারণ নিয়ে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের তরফে এখনও কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ইসলামপুরের বর্তমান বিধায়ক কানাইয়ালাল আগারওয়ালের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইসলামপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূলের সদর কার্যালয়টি অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে ওই কার্যালয়ের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি-সহ একটি বড় ব্যানার টাঙানো ছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন ইসলামপুরের বিধায়ক কানাইয়ালাল আগারওয়াল নিয়মিত সন্ধ্যার সময়ে সেখানে বসতেন। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করা, সাংগঠনিক আলোচনা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নানা বিষয় ওই কার্যালয়কে কেন্দ্র করেই চলত।

বুধবার রাতে পুরোনো ব্যানারটি খুলে ফেলা হয়। তার জায়গায় লাগানো হয় নতুন একটি ব্যানার। নতুন ব্যানারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থাকলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি রাখা হয়নি। ব্যানার পরিবর্তনের পর পুরোনো ব্যানারটি কিছু সময়ের জন্য দলীয় কার্যালয়ের সামনেই পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয়দের নজরে আসে, ইসলামপুর পুরসভার একটি বর্জ্যবাহী গাড়ি এসে সেই ব্যানারটি তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পরেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। পুরোনো দলীয় ব্যানার কী ভাবে পুরসভার বর্জ্যবাহী গাড়িতে গেল, সেটি কার নির্দেশে সরানো হল এবং কেন নতুন ব্যানারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি রাখা হল না—এই সব প্রশ্নকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে আলোচনা। যদিও ব্যানারটি সত্যিই পুরসভার নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহের অংশ হিসেবে সরানো হয়েছিল, নাকি অন্য কোনও কারণে গাড়িতে তোলা হয়, তা স্পষ্ট নয়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তর দিনাজপুর জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি সুরজিৎ সেন তৃণমূলের বিধায়ক কানাইয়ালাল আগারওয়ালকে নিশানা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিধায়ক নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ইসলামপুরের মানুষের কাছে এক ধরনের বার্তা দিতে চাইছেন, অথচ বিধানসভায় গিয়ে অন্য শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রাখছেন। বিজেপি নেতার বক্তব্য, ব্যানার থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরিয়ে শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি রাখা রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার বদলে দ্বিধার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে বিজেপির এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবেই দেখছে তৃণমূল শিবির। ব্যানার বদলের পেছনে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত, নকশা পরিবর্তন বা স্থানীয় কার্যালয়ের সৌন্দর্যায়নের মতো কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি। দলের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও বিবৃতি না আসায় বিষয়টি নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।

সিপিআইএমের ২ নম্বর এরিয়া কমিটির সম্পাদক মহম্মদ সামি খানও ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন। তাঁর দাবি, তৃণমূলের রাজনীতিতে নীতির চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থ বেশি গুরুত্ব পায়। ব্যানার সরানো এবং বর্জ্যবাহী গাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে তিনি সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। যদিও সিপিআইএমের এই অভিযোগেরও কোনও স্বাধীন প্রমাণ সামনে আসেনি।

ইসলামপুরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে এর আগেও নানা সময়ে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে রাজ্য নেতৃত্বের সম্পর্ক, বিধায়কের রাজনৈতিক অবস্থান এবং দলীয় কর্মীদের মধ্যে মতপার্থক্য—এই সব বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি-সহ পুরোনো ব্যানার সরিয়ে নতুন ব্যানারে শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি রাখার ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক ব্যাখ্যার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দলীয় কার্যালয়ের ব্যানার সাধারণত দলের সাংগঠনিক অবস্থান এবং নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। ফলে কোনও গুরুত্বপূর্ণ নেতার ছবি বাদ পড়লে তার রাজনৈতিক অর্থ খোঁজার চেষ্টা হওয়াই স্বাভাবিক। তবে শুধুমাত্র একটি ব্যানারের ছবি পরিবর্তন দেখেই কোনও নেতার অবস্থান বা দলীয় সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। এর পেছনে স্থানীয় সাংগঠনিক কারণও থাকতে পারে।

এ দিকে, পুরসভার বর্জ্যবাহী গাড়িতে ব্যানার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও প্রশ্ন তুলেছে। পুরসভার গাড়ি কী ভাবে দলীয় কার্যালয়ের পুরোনো ব্যানার বহনের কাজে ব্যবহৃত হল, তা নিয়ে বিরোধীরা তদন্তের দাবি তুলতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। পুরসভার তরফে এই বিষয়ে কোনও বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। ব্যানারটি বর্জ্য হিসেবে সরানো হয়েছিল কি না, সেটিও পরিষ্কার নয়।

ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে কানাইয়ালাল আগারওয়ালের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। ফলে ব্যানার পরিবর্তনের কারণ, পুরোনো ব্যানার সরানোর সিদ্ধান্ত এবং পুরসভার গাড়ি ব্যবহারের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বও এখনও প্রকাশ্যে কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি।

সব মিলিয়ে, ইসলামপুরের তৃণমূল কার্যালয়ের একটি ব্যানার বদল এখন স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি-সহ পুরোনো ব্যানারের পরিবর্তে শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থাকা নতুন ব্যানার এবং পুরোনো ব্যানার বর্জ্যবাহী গাড়িতে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে তৃণমূল নেতৃত্ব এই বিষয়ে কী ব্যাখ্যা দেয়, সেটাই এখন দেখার।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved