Homeরাজ্যনেপালে নিখোঁজ স্ত্রীকে খুঁজতে মরিয়া শুভ্রাংশু, সামাজিক মাধ্যমেও আবেদন! হড়পা বান বিপর্যয়ের পর থেকে নিখোঁজ শর্মিষ্ঠা

নেপালে নিখোঁজ স্ত্রীকে খুঁজতে মরিয়া শুভ্রাংশু, সামাজিক মাধ্যমেও আবেদন! হড়পা বান বিপর্যয়ের পর থেকে নিখোঁজ শর্মিষ্ঠা

নিউজ ডেস্ক : কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন পূরণের আশাতেই ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালের পথে রওনা দিয়েছিলেন
resizeplus_Subhrangshu-wife_1

নিউজ ডেস্ক : কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন পূরণের আশাতেই ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালের পথে রওনা দিয়েছিলেন কাঁচরাপাড়ার রায় পরিবারের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। কিন্তু সফরের মাঝেই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়। নেপালের হড়পা বান ও ধসের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। দিনের পর দিন কেটে গেলেও এখনও শর্মিষ্ঠার কোনও নিশ্চিত সন্ধান মেলেনি। স্ত্রীকে খুঁজে পেতে প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও আবেদন জানিয়েছেন তাঁর স্বামী তথা প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়।

শর্মিষ্ঠা প্রয়াত রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের পুত্রবধূ। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে পরিবারের মধ্যে। দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে অপেক্ষা করছেন পরিবারের সদস্যরা। আর স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার আশায় একের পর এক জায়গায় যোগাযোগ করে চলেছেন শুভ্রাংশু।

২১ অগস্ট কৈলাস-মানস সরোবরের পথে

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২১ অগস্ট একটি বেসরকারি ভ্রমণ সংস্থার আয়োজিত সফরে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় বেরিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। তাঁর সঙ্গে প্রায় ৩০-৩২ জনের একটি দল ছিল। সন্তানরা বয়সে ছোট হওয়ায় তাঁদের বাবার কাছে রেখেই এই সফরে গিয়েছিলেন তিনি।

এই যাত্রা শর্মিষ্ঠার কাছে নিছক একটি পর্যটন সফর ছিল না। মানস সরোবর দর্শন ছিল তাঁর বহু দিনের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই এত দূরের পথে যাত্রা করেছিলেন তিনি। পরিবারও সেই কারণে তাঁর সফর নিয়ে আশাবাদী ছিল।

কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ধসের খবর সামনে আসতে থাকে। বিপর্যয়ের মধ্যে একাধিক জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। সেই পরিস্থিতিতেই শর্মিষ্ঠার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

শেষ বার কথা হয়েছিল ২৫ অগস্ট রাতে

শুভ্রাংশুর সঙ্গে শর্মিষ্ঠার শেষ বার ফোনে কথা হয়েছিল ২৫ অগস্ট রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ। তখন তিনি নেপালের কিয়রং এলাকায় ছিলেন বলে পরিবার জানতে পেরেছিল।

সেই কথোপকথনের পর আর কোনও ভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও বার বার চেষ্টা করা হলেও কোনও সাড়া মেলেনি। এরপর থেকেই উদ্বেগ ক্রমশ বাড়তে থাকে।

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং যাতায়াতের উপর যে প্রভাব পড়েছিল, তাতে নিখোঁজ পর্যটকদের খোঁজ চালানোও সহজ ছিল না। ফলে সময় যত এগিয়েছে, পরিবারের উৎকণ্ঠাও তত বেড়েছে।

শর্মিষ্ঠার সফরসঙ্গীদের মধ্যে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে কি না, তাঁদের কাছ থেকে তাঁর বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া গিয়েছে কি না—এই সব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক স্তরেও তাঁর সন্ধানের চেষ্টা চলছে।

নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করতে DNA নমুনা সংগ্রহ

এদিকে নেপালের বিপর্যয়ের পর নিখোঁজ পর্যটকদের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াতেও DNA নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শর্মিষ্ঠাকে শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে তাঁর মায়ের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজে।

এই ধরনের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যের DNA নমুনা ভবিষ্যতে উদ্ধার হওয়া কোনও অজ্ঞাতপরিচয় দেহের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজে লাগতে পারে। তবে শর্মিষ্ঠার ক্ষেত্রে DNA পরীক্ষার ফল কী হয়েছে বা কোনও দেহের সঙ্গে তাঁর নমুনার মিল পাওয়া গিয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।

অর্থাৎ DNA নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলেই শর্মিষ্ঠার পরিণতি সম্পর্কে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। বরং নিখোঁজ ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার সম্ভাব্য প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই নমুনা সংগ্রহকে দেখতে হবে।

পরিবারের কাছে এই সময়টা তাই অত্যন্ত কঠিন। এক দিকে স্ত্রী ও মায়ের সন্ধানে অপেক্ষা, অন্য দিকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং নানা সম্ভাবনার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে তাঁদের।

সামাজিক মাধ্যমেও স্ত্রীর সন্ধানে আবেদন

শর্মিষ্ঠার সন্ধানে এখন ব্যক্তিগত যোগাযোগের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমকেও ব্যবহার করছেন শুভ্রাংশু। সেখানে তাঁর স্ত্রীর ছবি ও পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে সন্ধানের আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কোনও ব্যক্তি শর্মিষ্ঠার বিষয়ে কোনও তথ্য পেলে যেন প্রশাসন বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন—সেই আবেদনই করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরে বহু মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে সামাজিক মাধ্যম অনেক সময় তথ্য আদানপ্রদানের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে। সেই কারণেই এই পথেও সন্ধান চালাচ্ছেন শুভ্রাংশু।

অন্যদিকে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের সঙ্গেও যোগাযোগ রেখে চলেছেন তিনি। উদ্ধারকারী দল এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে নতুন কোনও তথ্য পাওয়া যায় কি না, তার অপেক্ষাতেও রয়েছে পরিবার।

দুই সন্তানকে আগলে অপেক্ষা

এই পরিস্থিতিতে শুভ্রাংশুর জন্য ব্যক্তিগত লড়াইটাও সহজ নয়। এক দিকে নিখোঁজ স্ত্রীর সন্ধান, অন্য দিকে দুই সন্তানকে সামলানোর দায়িত্ব। পরিবারের সদস্যদের নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

তবু শর্মিষ্ঠাকে খুঁজে পাওয়ার আশাই এখনও পরিবারের প্রধান ভরসা। কোনও সূত্র থেকে যদি তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়, সেই আশায় প্রশাসনিক যোগাযোগ থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যম—সব পথই খোলা রাখা হয়েছে।

DNA নমুনা সংরক্ষণ বা পরীক্ষার প্রসঙ্গে শুভ্রাংশু নিজেও মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত। এমন পরিস্থিতিতে এ নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তিনি আগ্রহী নন বলেই জানা গিয়েছে। পরিবারের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল শর্মিষ্ঠার সন্ধান পাওয়া।

এখনও অপেক্ষা নিশ্চিত খবরের

নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর বহু পর্যটক ও যাত্রী সম্পর্কে তথ্য পেতে পরিবারগুলিকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের ক্ষেত্রেও সেই অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। ২৫ অগস্ট রাতে শেষ ফোনালাপের পর থেকে তাঁর কোনও নিশ্চিত খোঁজ না মেলায় উৎকণ্ঠা আরও বাড়ছে।

তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর অবস্থান বা পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিভিন্ন দাবি বা অনুমানের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোও ঠিক হবে না। পরিবারের আশা, উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান থেকে কোনও নতুন সূত্র মিলবে এবং শর্মিষ্ঠার সন্ধান পাওয়া যাবে।

মানস সরোবর দেখার স্বপ্ন নিয়ে যে যাত্রা শুরু করেছিলেন শর্মিষ্ঠা, সেই সফরই এখন পরিবারের কাছে এক গভীর উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বামী শুভ্রাংশু এবং তাঁর পরিবারের একটাই অপেক্ষা—নেপালের বিপর্যয়ের অন্ধকার কাটিয়ে যেন খুব দ্রুত শর্মিষ্ঠার কোনও নিশ্চিত খবর আসে। আর যদি সম্ভব হয়, তিনি যেন সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসেন নিজের বাড়িতে, সন্তানদের কাছে।


No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved