Homeরাজ্যটানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ঝাড়গ্রাম, গোপীবল্লভপুর ও সাঁকরাইলে চাষে বড় ক্ষতির আশঙ্কা

টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ঝাড়গ্রাম, গোপীবল্লভপুর ও সাঁকরাইলে চাষে বড় ক্ষতির আশঙ্কা

নিউজ ডেস্ক; টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ঝাড়গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। মাঠ, কৃষিজমি, গ্রাম-রাস্তা—সবই কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান জলের তলায় চলে গিয়েছে। সবচেয়ে
resizeplus_Screenshot 2026-09-04 124246_edited

নিউজ ডেস্ক; টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ঝাড়গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। মাঠ, কৃষিজমি, গ্রাম-রাস্তা—সবই কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান জলের তলায় চলে গিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে গোপীবল্লভপুর-২ এবং সাঁকরাইল ব্লকে। নিচু এলাকার একাধিক গ্রামে বৃষ্টির জল ঢুকে পড়ায় বিপজ্জনক মাটির বাড়িতে বসবাসকারী পরিবারগুলিকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছে পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনকে। তাঁদের জন্য সেল্টার হাউস এবং কমিউনিটি কিচেনের ব্যবস্থা করা হয়। যদিও বর্তমানে অনেক এলাকায় জল কিছুটা নেমেছে, তবুও বহু পরিবার এখনও ঝুঁকি নিয়ে দুর্বল মাটির বাড়িতে বসবাস করছেন।

অন্য দিকে, জল জমে নষ্ট হতে শুরু করেছে সদ্য রোপণ করা ধানের চারা। কয়েক দিন ধরে জমিতে জল দাঁড়িয়ে থাকায় চারাগাছের গোড়ায় পচন ধরেছে বলে অভিযোগ চাষিদের। ফলে আমন ধান চাষে বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। জেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার একাধিক এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানতে সমীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে কৃষি দপ্তর।

সাঁকরাইল ব্লকের কুলটিকরী অঞ্চলের ডাকটিয়া এবং চড়াল গ্রামে বৃষ্টির জল জমে বিপাকে পড়েছেন বাসিন্দারা। বিশেষ করে মাটির বাড়িতে বসবাসকারী পরিবারগুলির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁদের জন্য কমিউনিটি কিচেন চালু করা হয়েছে। রান্না করা খাবার সরবরাহের পাশাপাশি বিপজ্জনক বাড়িগুলির বাসিন্দাদের প্রয়োজনে অন্যত্র থাকার ব্যবস্থাও করা হয়।

রোহিণী গ্রাম পঞ্চায়েতের হনুমন্ত নিগুরিয়া, আস্তি, বহড়াদাঁড়ি এবং আঁধারি গ্রাম পঞ্চায়েতের বৈচা গ্রাম-সহ সাঁকরাইলের একাধিক এলাকায় কৃষিজমি এখনও জলমগ্ন। জমিতে দীর্ঘ সময় জল দাঁড়িয়ে থাকায় ধানের চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। জল কিছুটা নামলেও বহু জমিতে এখনও জল জমে রয়েছে। ফলে চাষের কাজ থমকে গিয়েছে। কোথাও জমি থেকে জল বার করার চেষ্টা চলছে, কোথাও আবার নতুন করে চারা রোপণের কথা ভাবছেন কৃষকেরা। তবে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় প্রান্তিক চাষিদের পক্ষে ফের চাষ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

ক্ষয়ক্ষতির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সাঁকরাইলের বিডিও অভিষেক ঘোষ এবং সাঁকরাইল থানার ওসি সৌমেন সিনহা মহাপাত্রের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এলাকা পরিদর্শন করেছে। প্রশাসনের আধিকারিকেরা জলমগ্ন গ্রাম, কৃষিজমি এবং বিপজ্জনক বাড়িগুলি ঘুরে দেখেন। যেসব বাড়িতে বসবাস করা ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানকার বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের অন্যত্র থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

সাঁকরাইলের বাসিন্দা দীনোরঞ্জন রানা জানান, আঁধারি ও রোহিণী-সহ একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার উপর দিয়ে বাসি খাল বয়ে গিয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে সেই খালের জল বেড়ে গিয়ে চাষের জমিতে ঢুকেছে। কয়েক দিন ধরে জমিতে জল দাঁড়িয়ে থাকায় সদ্য রোপণ করা ধানের চারা জলের তলায় ডুবে পচতে শুরু করেছে। তাঁর দাবি, এই অঞ্চলে প্রায় ৫০০ একরেরও বেশি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিপূরণ না পেলে প্রান্তিক চাষিদের আরও বড় সমস্যায় পড়তে হবে।

গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ছিল। কুলিয়ানা অঞ্চলের পিঠাপুরা গ্রাম এবং তপসিয়া অঞ্চলের কানপুর ও গুঁড়িগ্রাম-সহ একাধিক গ্রামে জল জমে যায়। কানপুর গ্রামের বাসিন্দা শিবপ্রসাদ মিত্র অধিকারীর দোতলা মাটির বাড়ির একটি অংশ ভেঙে পড়ে। ঘটনার পর ওই বাড়িকে বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করা হয়। একই ভাবে আরও কয়েকটি মাটির বাড়িতে ফাটল দেখা দেওয়ায় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে তপসিয়া হাইস্কুলে সেল্টার হাউস খোলা হয়। বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা চারটি পরিবারের প্রায় ১২ জন সদস্যকে সেখানে থাকার ব্যবস্থা করে ব্লক প্রশাসন। তপসিয়া এলাকার আরও কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ির বাসিন্দাদেরও নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের জন্য প্রশাসনের উদ্যোগে কমিউনিটি কিচেন চালু করা হয়। সেখানে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলিকে রান্না করা খাবার দেওয়া হয়েছে।

গোপীবল্লভপুর-২-এর বিডিও রাহুল বিশ্বাস পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে ত্রিপল ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দুর্যোগের সময়ে কোনও পরিবার যাতে খাবার বা আশ্রয়ের অভাবে সমস্যায় না পড়ে, সে বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে।

কানপুর গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য আকুল নায়েক জানান, গ্রামের পাশ দিয়ে যাওয়া ৯ নম্বর রাজ্য সড়কটি তুলনামূলক উঁচু হওয়ায় বৃষ্টির জল সহজে বেরোতে পারেনি। ফলে রাস্তার দু’পাশের নিচু এলাকায় জল জমে যায়। মঙ্গল ও বুধবার টানা দু’দিন পাম্প চালিয়ে জমা জল বার করার কাজ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। সেল্টার হাউসে থাকা গ্রামবাসীরাও ধীরে ধীরে নিজেদের বাড়িতে ফিরে গিয়েছেন।

তবে জল নামলেও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। বহু মাটির বাড়ি এখনও দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। কোথাও দেওয়ালে ফাটল, কোথাও ছাদের অংশ নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে। ফলে বাড়ি ফিরলেও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিপজ্জনক বাড়িগুলিতে না থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

এ দিকে কৃষিজমির ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য কৃষি দপ্তর সমীক্ষা শুরু করতে চলেছে। জমিতে কতটা জল জমেছে, কত একর জমির ধান নষ্ট হয়েছে এবং কত জন চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—এই সব তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সমীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ বা সরকারি সহায়তার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আপাতত চাষিদের দাবি, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করে তাঁদের পাশে দাঁড়াক প্রশাসন।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved