
নিউজ ডেস্ক; বারাসতের ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। প্রথম বার শহরের বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনে মুখোমুখি হতে চলেছে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের এই ডার্বি ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তেজনায় ফুটছে বারাসত। স্টেডিয়াম সেজে উঠছে, টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে। তবে ম্যাচের টিকিট এখনও আইএফএ-র পক্ষ থেকে ছাড়া না হওয়ায় জেলা সদর শহর থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে হাহাকার।
রাজ্যে সরকার বদলের পর বারাসতের বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের উদ্যোগেই এই ডার্বি আয়োজনের পথ খুলেছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর উদ্যোগে দীর্ঘদিনের বেহাল স্টেডিয়ামকে ফের খেলাযোগ্য করে তোলা হয়েছে। কলকাতা লিগের ম্যাচও হয়েছে সেখানে। কিন্তু ডার্বি আয়োজনের স্বপ্ন এখনও পূরণ হয়নি। এ বার সেই স্বপ্নই বাস্তবের পথে।
বারাসত স্টেডিয়ামের সঙ্গে ফুটবলপ্রেমীদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এক সময় সেখানে অ্যাস্ট্রো টার্ফ ছিল। পরে তৃণমূলের আমলে সেই টার্ফ তুলে দিয়ে ঘাসের মাঠ তৈরি করা হয়। কিন্তু তার পরেও বহু বছর ধরে সংস্কারের অভাবে স্টেডিয়ামের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। ফ্লাডলাইট, ভিআইপি রুম, প্রেস বক্স থেকে গ্যালারি—সবই বেহাল হয়ে পড়েছিল।
গত আট বছর ধরে বারাসত স্টেডিয়ামে কোনও খেলাই হয়নি বলে জানা গিয়েছে। ফলে জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল মাঠটি কার্যত ব্যবহারের বাইরে চলে গিয়েছিল। পালাবদলের পর বিধায়ক শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় স্টেডিয়াম সংস্কারের উদ্যোগ নেন। স্টেডিয়ামে ঢোকার রাস্তার ধারে জমে থাকা আগাছা ও জঙ্গল পরিষ্কার করা হয়। মাঠ, প্রেস বক্স, আলো এবং ভিআইপি রুম সংস্কারের কাজ শুরু হয়।
আইএফএ-র কর্তা, পুলিশ এবং প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে স্টেডিয়ামকে ফের ফুটবল ম্যাচের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা করা হয়। সেই উদ্যোগের ফলও মিলেছে। অগস্ট মাসে বারাসত স্টেডিয়ামে কলকাতা লিগের ম্যাচ হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফুটবল ফিরেছে। কিন্তু চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের ডার্বি আয়োজনের স্বপ্ন তখনও অধরা ছিল।
এ বার সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করার উদ্যোগ নেন শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। ডার্বি ম্যাচের জন্য স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটও ঠিক করা হয়েছে। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর নৈশালোকে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
মঙ্গলবার আইএফএ-র সেক্রেটারি অনির্বাণ দত্তের উপস্থিতিতে পুলিশ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের কর্তাদের সঙ্গে ডার্বি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন বিধায়ক। বৈঠকের পর মাঠের ফ্লাডলাইট পরীক্ষা করা হয়। জানা গিয়েছে, পরীক্ষার পর স্টেডিয়ামের আলো ডার্বি ম্যাচের উপযোগী বলে আইএফএ-র কাছ থেকে সবুজ সঙ্কেত মিলেছে।
শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বারাসত স্টেডিয়ামকে খেলার উপযোগী করা, বিশেষ করে ডার্বি ম্যাচ করানো নিয়ে আমি চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম।” তাঁর উদ্যোগেই এই ম্যাচ আয়োজনের পথ তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ডার্বি ম্যাচ ঘিরে বারাসত শহর ইতিমধ্যেই উৎসবের আবহে। স্টেডিয়াম সেজে উঠছে। ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ম্যাচ দেখার আগ্রহও তুঙ্গে। কিন্তু আইএফএ-র পক্ষ থেকে এখনও টিকিট ছাড়া হয়নি। ফলে একটি টিকিটের জন্য জেলার বিভিন্ন প্রান্তে হাহাকার তৈরি হয়েছে।
ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচ মানেই বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আলাদা আবেগ। দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে এই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা বরাবরই বেশি থাকে। বারাসতে প্রথম বার ডার্বি হওয়ায় সেই আগ্রহ আরও বেড়েছে। তবে টিকিটের ব্যবস্থা কী ভাবে হবে, কবে থেকে বিক্রি শুরু হবে, কতগুলি টিকিট ছাড়া হবে—এই বিষয়গুলি এখনও স্পষ্ট নয়।
ডার্বি ম্যাচ ঘিরে শুধু মাঠ সংস্কার করলেই তো হয় না। বিপুল সংখ্যক দর্শকের ভিড় সামলানো, শহরের ট্র্যাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা, গ্যালারিতে দর্শকদের সুষ্ঠু ভাবে প্রবেশ করানো—সবই বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি দুই দলের খেলোয়াড় এবং টিম বাসের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
এই সব দিক মাথায় রেখে পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। স্টেডিয়ামে আগে তিনটি গেট ছিল—সামনের দিকে দু’টি এবং পিছনের অংশে একটি। ডার্বি ম্যাচে দর্শকদের ভিড়ের কথা মাথায় রেখে চতুর্থ গেট তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের সমর্থকদের বসার জন্য আলাদা দু’টি ব্লকও তৈরি করা হয়েছে।
ভিআইপি গ্যালারির অংশও সংস্কার করা হয়েছে। বাকি কাজ শুক্রবারের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ম্যাচের দিন যাতে দর্শকদের প্রবেশে কোনও সমস্যা না হয়, সে দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
বারাসত পুলিশ জেলার কর্তারাও ডার্বি ম্যাচ ঘিরে প্রস্তুতি শুরু করেছেন। শহরের ট্র্যাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রেখে দর্শকদের মাঠে প্রবেশের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সুপার জে মার্সি জানিয়েছেন, জন্মাষ্টমী মিটে গেলেই ম্যাচ নিয়ে পুলিশ আরও সক্রিয় হবে।
ম্যাচের দিন শহরে অতিরিক্ত ভিড় হতে পারে। তাই ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ, দর্শকদের নিরাপত্তা এবং স্টেডিয়াম চত্বরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দুই দলের সমর্থকদের আলাদা ব্লকে বসানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এতে দর্শকদের নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠু ভাবে ম্যাচ পরিচালনার সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বারাসত স্টেডিয়ামে এর আগে কখনও ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ডার্বি হয়নি। ফলে আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের ম্যাচটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, শহরের ক্রীড়া ইতিহাসেও একটি নতুন অধ্যায়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মাঠে ফের ফুটবল ফিরেছে। কলকাতা লিগের পর এ বার ডার্বি আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
তবে ম্যাচের টিকিট নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। আইএফএ-র পক্ষ থেকে টিকিট ছাড়া না হওয়ায় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহের পাশাপাশি উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। কবে টিকিট পাওয়া যাবে, কী ভাবে দর্শকরা মাঠে ঢুকবেন—এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখন অপেক্ষায়।
সব মিলিয়ে বারাসত শহর এখন তাকিয়ে ৭ সেপ্টেম্বরের দিকে। স্টেডিয়ামের সংস্কার, ফ্লাডলাইটের পরীক্ষা, নতুন গেট তৈরি, আলাদা গ্যালারি এবং পুলিশের প্রস্তুতি—সবই চলছে জোরকদমে। প্রথম বার ডার্বি আয়োজনের এই উদ্যোগ সফল হয় কি না, সেটাই এখন দেখার। তবে তার আগেই বারাসতের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments